Ajker Patrika

মুসলিমদের গ্রেপ্তারের ভিডিওটি ভারতের, তবে ২৭ বছর আগের ভিন্ন ঘটনার

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক
আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ২১: ৫৭
মুসলিমদের গ্রেপ্তারের ভিডিওটি ভারতের, তবে ২৭ বছর আগের ভিন্ন ঘটনার
ভারতে মসজিদ থেকে ইমাম গ্রেপ্তারের দাবিতে ভিডিও প্রচার। ছবি: স্ক্রিনশট

ভারতে মসজিদের ইমামদের ঢালাওভাবে গ্রেপ্তার করে জেলে ঢোকানো হচ্ছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

এই দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট আছে এখানেএবং এখানে

‘মাহবুর অরিজিনাল ০.২’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আলোচিত দাবিতে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়, যা সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। ‘ভারতে ইমামদেরকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে জেলে’ ক্যাপশনে শেয়ার করা ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওটি আজ রোববার (১৪ জুন) বেলা ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে। পোস্টটিতে ১ লাখ ২৯ হাজার রিঅ্যাকশন, ১ হাজার ৩০০ কমেন্ট ও ২৯ হাজার শেয়ার রয়েছে।

শেয়ার করা ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘ভারতে মসজিদ থেকে ইমামদেরকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে, যাতে নামাজ পড়াতে না পারে। তোমরা যতই ফন্দি আঁটো, কোনো লাভ হবে না। ইমামরা নামাজ পড়বে জেলে আর বাকি মানুষেরা নামাজ পড়বে বাহিরে... আল্লাহু আকবার তাকবিরের ধ্বনিতে ভারতের মাটি থরথরে কাঁপবে। তোমাদের অযথা মন্তব্য, এই মুসলমানদের জয়ের গন্তব্য, কোনো দিনও ঠেকাতে পারবে না।’

ভিডিওটির কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নেটিজেনরা একে বর্তমান সময়ের ধর্মীয় দমন-পীড়ন মনে করে সাম্প্রদায়িক ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টের কমেন্ট। ছবি: স্ক্রিনশট
ফেসবুক পোস্টের কমেন্ট। ছবি: স্ক্রিনশট

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

আলোচিত দাবির সত্যতা যাচাইয়ের শুরুতে ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করা হয়। ভিডিওতে টুপি ও পাঞ্জাবি পরা কয়েকজন ব্যক্তিকে পুলিশের পাহারায় হেঁটে যেতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটি ঠিক কবে ও কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য ভিডিওর ভেতরে পাওয়া যায়নি।

প্রকৃত ঘটনা জানতে ভিডিওটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানে ‘J H News’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ‘शिया सुन्नी दंगे में 12 को उम्र क़ैद की सजा मुबारकपुर आजमगढ़’ (শিয়া-সুন্নি দাঙ্গায় ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, মুবারকপুর আজমগড়) শিরোনামে শেয়ার করা ওই ভিডিওর দৃশ্যের সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে।

জেএইচ নিউজের ইউটিউব ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট
জেএইচ নিউজের ইউটিউব ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট

বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ‘1999 Mubarakpur communal killing case: 12 sentenced to life after 27-year trial’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের আজমগড় জেলার মুবারকপুরে শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায়ের মধ্যে বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ ঘটে। ওই ঘটনায় আলী আকবর নামের এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

দীর্ঘ ২৭ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া চলার পর চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি আজমগড়ের একটি আদালত ওই হত্যা মামলার ১২ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। রায়ের পর দণ্ডিত আসামিদের যখন পুলিশি পাহারায় আদালত থেকে জেলহাজতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেই দৃশ্যের ভিডিওকেই সম্প্রতি ‘ভারতে মসজিদ থেকে ইমামদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে’ বলে মিথ্যা ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আরও কিছু ভারতীয় গণমাধ্যমেও (, , ) একই তথ্য পাওয়া যায়।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন। ছবি: স্ক্রিনশট
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন। ছবি: স্ক্রিনশট

অর্থাৎ, এটি কোনো ধর্মীয় দমন-পীড়নের ঘটনা নয়, বরং তিন দশক আগের একটি হত্যা মামলার আসামিদের দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর জেলহাজতে পাঠানোর দৃশ্য।

সিদ্ধান্ত

ভারতের উত্তর প্রদেশের আজমগড়ে ১৯৯৯ সালের একটি সাম্প্রদায়িক হত্যা মামলার রায়ে ১২ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পর তাঁদের জেলে নেওয়ার ভিডিওকে বর্তমানে ‘ইমামদের ধরে জেলে ঢোকানো হচ্ছে’ বলে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা [email protected]
Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত