
নেপালে নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন সরকার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আইন পাস করেছে—এমন একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। নেপালের নতুন সরকারের এমন কঠোর পদক্ষেপের খবর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
এই দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট আছে এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
‘নিন্দুক’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে আলোচিত দাবিতে ৪ মে বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়, যা সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। ৮ মে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পোস্টটিতে প্রায় ৮৮ হাজার ৮০০ রিয়েকশন, ২ হাজার ৩০০টি কমেন্টএবং ৮ হাজার ৫০০টি শেয়ার রয়েছে।
পোস্টটির কমেন্টগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারীই প্রচারিত দাবিটিকে সত্য বলে মনে করছেন। একজন ব্যবহারকারী কমেন্ট করেন, ‘কঠিন সিদ্ধান্ত, খুশি হয়েছি।’ আরেকজন লেখেন, ‘আমাদের দেশেও এই বিচার কার্যকর করা হোক।’ অন্য একজন বলেন, ‘আফসোস, আমাদের আন্দোলনে নতুন করে হতাশা পেলাম, বিচার নয়।’ আরেকজন কমেন্ট করেন, ‘নেতার মতো নেতা হলে একজনই যথেষ্ট।’
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে আজকের পত্রিকা ফ্যাক্টচেক টিম নেপালের মূল ধারার গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোতে অনুসন্ধান চালায়। কিন্তু নেপালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বা এ সংক্রান্ত কোনো নতুন আইন পাসের খবর পাওয়া যায়নি। এমনকি নেপাল সরকারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও এমন কোনো তথ্যের অস্তিত্ব নেই।
পরবর্তীতে অনুসন্ধানে নেপালের বর্তমান সংবিধান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দেশটির সংবিধান অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে। সংবিধানের ৩য় অংশের ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদে (Right to Live with Dignity) স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—‘কারও মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে কোনো আইন প্রণয়ন করা যাবে না।’ অর্থাৎ, নেপাল একটি মৃত্যুদণ্ডমুক্ত দেশ। ১৯৯৭ সাল থেকেই দেশটিতে সব ধরনের অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

এ ছাড়া নেপালের আইনমন্ত্রী সবিতা গৌতমের চলতি বছরের ২৯ মার্চ ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টের ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, তাঁরা ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে এবং দণ্ডবিধি পর্যালোচনা করতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। তবে সেখানে মৃত্যুদণ্ড চালুর কোনো উল্লেখ নেই।

বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে নেপালের তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান নেপাল ফ্যাক্টচেক–এর একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে দাবি ছড়িয়েছে—ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে এবং এ জন্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে—তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
প্রতিবেদন আরও বলা হয়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনাল ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টি’ দ্রুত বিচার এবং আইন সংস্কারের পক্ষে কথা বললেও মৃত্যুদণ্ড চালুর কোনো আইন পাস করেনি।

উল্লেখ্য, নেপালে কোনো আইনে মৃত্যুদণ্ড যুক্ত করতে হলে আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এর জন্য ফেডারেল পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে (প্রতিনিধি সভা এবং ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন। বর্তমান ক্ষমতাসীন জোটের সেই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে নেই, ফলে তড়িঘড়ি করে এমন আইন পাস করা আইনত অসম্ভব।
নেপালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আইন পাসের দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া। দেশটি বিশ শতকের শেষ নাগাদ মৃত্যুদণ্ডের বিধানই বিলুপ্ত করেছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি সমর্থকেরা মুসলিমদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনের ফল পরবর্তী সহিংসতা হিসেবে এই দাবিটি নেটিজেনদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
৩৪ মিনিট আগে
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের বিজিপির জয়ের পর সেখানে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। এই নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে ভারতের একটি মসজিদে ট্রাম্পেট বাজিয়ে নামাজে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে উগ্র....
৭ ঘণ্টা আগেভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় উগ্রবাদীরা মুসলিমদের কবরে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে, এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
১১ ঘণ্টা আগে
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে কলকাতার একটি মসজিদে হিন্দুরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী সহিংসতা হিসেবে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
১ দিন আগে