
সিলেটে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে বাড়ি থেকে ধরে এনে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা প্রকাশ্যে পুড়িয়ে মেরেছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওর ক্যাপশনে আরও দাবি করা হচ্ছে, দেশ গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এবং পুলিশ এই ঘটনায় কোনো মামলা নেয়নি।
এই দাবিতে ফেসবুকে ভাইরাল কয়েকটি পোস্ট আছে এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট আছে এখানে, এখানে।
ফেসবুকে ‘নয়ন বিশ্বাস’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে গত ৩ মে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। ৩৫ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি বুধবার বেলা পৌনে ১টা পর্যন্ত ৬ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে এবং ১০ হাজারের বেশি শেয়ার হয়েছে, রিয়্যাকশন পড়েছে ১৬ হাজারের বেশি। ভিডিওটির কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী প্রচারিত দাবিকে সত্য ধরে নিয়ে কমেন্ট করেছেন।

দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান চালানো হলে সিলেটে সাম্প্রতিক সময়ে এমন কোনো ঘটনার সত্যতা দেশীয় কোনো গণমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তী সময়ে ভিডিওর কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। অনুসন্ধানে ‘দৈনিক পদাতিক’ নামক একটি ফেসবুক পেজে ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ‘ময়মনসিংহের ভালুকায় এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে!’ ক্যাপশনে শেয়ার করা ভিডিওর সঙ্গে আলোচিত দাবিতে ভাইরাল ভিডিওর হুবহু মিল পাওয়া যায়।

এই সূত্র ধরে আরও অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক ‘The Daily Star বাংলা’-এর ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে গত গত বছরের ২০ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাস (২৭) নামের এক পোশাককর্মীকে পিটিয়ে হত্যা ও মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তী সময়ে ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে র্যাব সাতজনকে গ্রেপ্তারও করেছিল।
সে সময়ের পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দীপু চন্দ্র দাস ভালুকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাতে কারখানার ভেতরে ও বাইরে উত্তেজিত জনতা তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করে এবং পরে তাঁর মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনার সঙ্গে সিলেটে আওয়ামী লীগ নেতা হত্যার কোনো সম্পর্ক নেই।
একই সংবাদ সে সময় বিবিসি বাংলা এবং প্রথম আলো -সহ শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়েছিল।
এ ছাড়া ভিডিওটি শেয়ার করা পেজ ও অ্যাকাউন্টগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এগুলোর বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ সমর্থিত কনটেন্ট প্রচার করে থাকে।
সিলেটে আওয়ামী লীগ নেতাকে পুড়িয়ে হত্যার দাবিটি মিথ্যা। ময়মনসিংহে গত বছর এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর লাশে আগুন দেওয়ার পুরোনো ও ভিন্ন প্রেক্ষাপটের একটি ভিডিওকে বর্তমানে প্রচার করা হচ্ছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি সমর্থকেরা মুসলিমদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনের ফল পরবর্তী সহিংসতা হিসেবে এই দাবিটি নেটিজেনদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
৩৪ মিনিট আগে
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের বিজিপির জয়ের পর সেখানে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। এই নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে ভারতের একটি মসজিদে ট্রাম্পেট বাজিয়ে নামাজে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে উগ্র....
৭ ঘণ্টা আগেভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় উগ্রবাদীরা মুসলিমদের কবরে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে, এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
১১ ঘণ্টা আগে
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে কলকাতার একটি মসজিদে হিন্দুরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী সহিংসতা হিসেবে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
১ দিন আগে