Ajker Patrika

আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলেই কি পুরস্কারের অর্থ যাবে ইসরায়েলি শিশুদের কাছে

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক
আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ২১: ৩১
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলেই কি পুরস্কারের অর্থ যাবে ইসরায়েলি শিশুদের কাছে
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে শিরোপার অর্থ ইসরায়েলে দেওয়ার দাবিতে পোস্ট। ছবি: স্ক্রিনশট

সম্প্রতি ‘আর্জেন্টিনা এবারের বিশ্বকাপ জিতলে শিরোপার অর্থ ইসরায়েলি শিশুদের জন্য উৎসর্গ করা হবে’—আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এমন বক্তব্য দিয়েছেন দাবিতে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

আলোচিত দাবিতে কয়েকটি পোস্ট আছে এখানে, এখানে এবং এখানে

ছড়িয়ে পড়া ওই ফটোকার্ড বিশ্বাস করে অনেক ব্যবহারকারী ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। এমনই একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘সুশীল সমাজ চোখ খুলে দেখো, আর্জেন্টিনা জিতলে ঐ অর্থগুলো ইজরায়েলে যাবে। আর্জেন্টিনার প্রধানমন্তী ঘোষণা দিছে, এবারের বিশ্বকাপের সমস্ত অর্থ ইসরায়েলকে উৎসর্গ করা হবে। ইসরায়েল ওই টাকা দিয়ে আবার গোলাবারুদ কিনে মুসলিম দেশগুলোকে ধ্বংস করবে...’।

ভিডিওটিতে এই দাবির সপক্ষে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের ছবি সংবলিত ফটোকার্ডের পাশাপাশি লিওনেল মেসির টি-শার্টের ওপর ইসরায়েলের জাতীয় প্রতীক ‘স্টার অব ডেভিড’ আঁকা ছবি এবং ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মেসির পুরোনো ছবি দেখা যায়।

ছড়িয়ে পড়া এসব পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী দাবিটিকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছেন। ফলে অনেকেই এমন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টকে ধিক্কার এবং অনেকে আবার আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে নেতিবাচক কমেন্ট করেছেন।

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের ছবি ও বক্তব্য জুড়ে দেওয়া হলেও, তিনি কবে, কোথায় বা কোন গণমাধ্যমে এমন মন্তব্য দিয়েছেন, সে সম্পর্কে কোনো তথ্যপ্রমাণ বা সূত্র উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক কোনো নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমেও মিলেইয়ের এমন কোনো ঘোষণার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

তবে অনুসন্ধানে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও হাভিয়ের মিলেই ইসরায়েলের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য সমর্থন ও বন্ধুত্ব বজায় রাখার একাধিক প্রমাণ পাওয়া যায়। চলতি বছরে ইসরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মিলেই বলেন, আর্জেন্টিনা ও ইসরায়েল শুধু অংশীদার নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দুই দেশ। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থনের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে ‘জেনেসিস প্রাইজ’-এ ভূষিত করা হয়। ওই অনুষ্ঠানেও তিনি গাজা যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক চাপে থাকা ইসরায়েলের পাশে থাকার বার্তা দেন এবং হিব্রু ভাষায় ‘Am Yisrael Chai’ (ইসরায়েল জাতি চিরজীবী হোক) বলে সংহতি প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক ইয়েশিভা ইউনিভার্সিটিতে দেওয়া এক ভাষণে মিলেই নিজেকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইহুদিবাদী প্রেসিডেন্ট’ দাবি করেন।

পাশাপাশি সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক পডকাস্টে জানান, তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করছেন। তবে তাঁর এই সমর্থনের কারণ লিওনেল মেসি নন, বরং আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। নেতানিয়াহু মিলেইকে ‘ইসরায়েলের একজন মহান বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর মুক্তবাজার অর্থনৈতিক নীতির প্রশংসা করেন।

মূলত মিলেইয়ের এমন কট্টর ইসরায়েল-পন্থী অবস্থানকে কেন্দ্র করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভিত্তিহীন দাবিটি ডালপালা মেলেছে।

উল্লেখ্য, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বকাপের শিরোপাজয়ী দল যে প্রাইজমানি (ফিফার তথ্যমতে ২০২৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫ কোটি মার্কিন ডলার) পায়, তা সরাসরি বিজয়ী দেশের ফিফা-স্বীকৃত ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে দেওয়া হয়। এই অর্থ কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত তহবিলে কিংবা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যায় না। ফলে দেশের কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা প্রেসিডেন্টের পক্ষে একক সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপের প্রাইজমানি অন্য কোনো দেশে বা উদ্দেশ্যে দান বা উৎসর্গ করার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ নেই।

সিদ্ধান্ত

আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে শিরোপার অর্থ ইসরায়েলি শিশুদের দেওয়ার ঘোষণা প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই দিয়েছেন—দাবিটি বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা [email protected]
Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত