Ajker Patrika

হাতে ভাজা গিগজ মুড়ি

মো. ইব্রাহিম, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)
আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০: ৪০
হাতে ভাজা গিগজ মুড়ি

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে বছরে উৎপাদন হচ্ছে ৫শ টন হাতে ভাজা গিগজ মুড়ি। জেলা ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা–উপজেলা এমনকি বিদেশেও যাচ্ছে এই মুড়ি। ক্রেতা–বিক্রেতারা জানান বাজারের অন্য মুড়ির চাইতে গিগজ ধানের মুড়ি অত্যন্ত সুস্বাদু।

বিশেষ কিছু ধারাবাহিক প্রক্রিয়া শেষে হাতে ভাজা এই গিগজ ধানের চাল থেকে এই মুড়ি পাওয়া যায়। ১৫ বছর আগে প্রচুর গিগজ ধান উৎপাদন হতো। তবে বাজারে মেশিনে তৈরি মুড়ির আধিক্যসহ বিভিন্ন কারণে ঐতিহ্যবাহী এ মুড়ি কম উৎপাদন হচ্ছে এখন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের সমসেরাবাদ, উত্তর মজুপুর, বেঁড়িরমাথা, কমলনগর উপজেলার করুণানগর, দক্ষিণ গ্রাম, উত্তর গ্রাম, চর জালিয়া, রামগতি উপজেলার চর ডাক্তার এবং রঘুনাথপুর হাতে ভাজা গিগজ মুড়ির জন্য বিখ্যাত।

লক্ষ্মীপুরের জোড়দিঘী এলাকায় অন্তত ৩০ পরিবারের প্রধান পেশা ভাজা গিগজ মুড়ি উৎপাদন। মানিক চন্দ্র দাস নামের এক ব্যবসায়ী জানান, আগে হাতে ভাজা মুড়ির প্রধান উপাদান গিগজ ধানের প্রচুর চাষ হতো। বর্তমানে গিগজ ধানের উৎপাদন কমে গেছে অনেকটাই। জেলার মজুচৌধুরীর হাট, চরবংশী মোল্লারহাট, তোরাবগঞ্জ বাজার, উত্তর মার্টিন বাজার, মতিরহাট, করুণানগর ও রামগতি বাজার ও আড়তে গিগজ ধান কেনা–বেচা হয়। গিগজ ধানের পাশাপাশি একই মানের ভূষিহারা, ধলামোডা জাতের দেশীয় ধান থেকেও এ মুড়ি তৈরি হয়।

স্থানীয় শিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘প্রতি সন্ধ্যায় আমার ঘরে গিগজ মুড়ির সঙ্গে ছোলা বুটের বিশেষ আয়োজন হয়।’

গিগজ ধান চাষি আবদুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে গিগজ ধান চাষ করে আসছি, অন্য ধানের চেয়ে দাম বেশি পাচ্ছি, তবে ফলন একটু কম হলেও লাভবান হচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল গনি বলেন, গিগজ ধান কম উৎপাদন হওয়ায় খরচের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৃষক পারছে না। তাই তারা এ ধান উৎপাদনে আগ্রহ কম থাকে। করলেও লোকসানের মুখে পড়ে। তাই তারা হাইব্রিড জাতের ধানের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক আহমেদ জানান, উচ্চফলনশীল হাইব্রিড জাতের ধান চাষে কৃষক বেশি লাভবান হচ্ছে। তাই ঐতিহ্যবাহী দেশি প্রজাতির গিগজ ধান উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত