Ajker Patrika

হকার সমস্যা

সম্পাদকীয়
হকার সমস্যা

সাভার বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে পার্শ্ববর্তী এক মাইলের মতো ফুটকি না পান, তাতে তাঁদের কিছু আসে-যায় না। তাঁদের সুরক্ষা দেওয়ার লোক আছে। সুতরাং একমাত্র ভিআইপি চলাচল ছাড়া মোটামুটি নির্বিঘ্নেই চালিয়ে যাওয়া যায় এই ব্যবসা।

খবরটা সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার হলেও একই আমেজ পাওয়া যাবে যেকোনো শহরের ব্যস্ত এলাকায়। হকার সমস্যা হয়তো বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম, কিন্তু কিছু ব্যাপারে রয়েছে মিল, যা হকারদের জীবনটাকে অতিষ্ঠ করে দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু দুর্নীতিপরায়ণ সদস্য, কিছু ছাত্রনেতা, কিছু শ্রমিকনেতা নিয়মিত বখরা আদায়ের মাধ্যমে এই হকারদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। ‘শির দেগা নাহি দেগা আমামা’—এই বাক্যে বলীয়ান হলে মাস্তান বাহিনী এখানে রাজত্ব চালায়। হকাররা বিক্রি করেন, কিন্তু তাঁদের লাভের গুড় বারো ভূতে ভাগ করে খায়। 

পৃথিবীর বহু দেশেই রাস্তায় হকার দেখতে পাওয়া যায়। মুশকিল হলো, অন্যান্য দেশে নগর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই হকারদের এই বিক্রিবাট্টা চলে। সুচারুভাবে দেখা হয়, হকার বসলে মানুষ চলাচলে কোনো সমস্যা হয় কি না। আমাদের দেশে যদি নিয়ম করে হকার বসত, তাহলে এ নিয়ে কথা বলার প্রয়োজনীয়তা থাকত না। কিন্তু আমাদের দেশে এই ব্যবসা চলে উল্টো নিয়মে। হকারদের পৃষ্ঠপোষকদের পরিচয় জানতে পারলেই বোঝা যায়, কত দিন ধরেই না ‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে’ এই দেশ।

কারা এই হকার? তাঁরা তো গ্রামে টিকতে না পারা ভূমিহীন মানুষ, নদীভাঙনে নিঃস্ব মানুষ। জীবন তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। পিঠ দেয়ালে ঠেকার পর তাঁরা এসেছেন শহরের ফুটপাতে। জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়েছেন ফুটপাতে বিক্রিবাট্টা। ক্রেতারাও সে রকমই নিম্ন আয়ের মানুষ।

আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি কৌতুককর নাকি ট্রাজিক, সেটা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে। ভেবে দেখুন, সাভার নিউমার্কেটের লোকাল লেনে বসে শীতের কাপড় বিক্রি করছিলেন এক হকার। তাতে ঢাকামুখী যানবাহনের সারি পড়ে যায়। কেউ সামনে যেতে পারছিল না। বাংলাদেশ হকার্স লীগের স্থানীয় সভাপতি কবুল করেন, শীতের কাপড়গুলো তাঁর, তিনি হকার দিয়ে বিক্রি করাচ্ছেন। এ রকম কত গল্পই না রয়েছে ঝুলিতে!

দৈনিক নাকি প্রতিজন হকারের কাছ থেকে ৩০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। অথচ হকাররা জানাচ্ছেন, এই ৩০ টাকার বাইরেও আকার ও স্থানভেদে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা ভেট নেওয়া হয়। কাদের পকেটে এই টাকা যায়, সেটা নিশ্চয়ই বুঝিয়ে বলতে হবে না। এর সঙ্গে যে একদল মধ্যস্বত্বভোগীর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, সেটা তো পরিষ্কার। নিরীহ হকারদের জিম্মি করে তারা অবৈধভাবে অর্থের মালিক হয়ে যাচ্ছে। পুরো ব্যাপারটাই প্রচলিত আইন এবং শৃঙ্খলার বিপরীতে এবং সেটা দিনের পর দিন টিকে আছে আমাদের দেশে। কী করে তা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে, ‘তার উত্তরও তো জানা’। কিন্তু সে উত্তরের খোঁজ করবে কে?পাতে পসরা সাজিয়েছেন হকাররা। মহাসড়কে চলাচলে বিঘ্ন ঘটুক আর না-ই ঘটুক, পথচারীরা হাঁটার মতো জায়গা পান

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নির্বাচনের পর কী করবেন ড. ইউনূস, জানাল প্রেস উইং

বাংলাদেশে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচনের নতুন ব্যাখ্যা দিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন

৪০০ টাকায় ২০ এমবিপিএস ইন্টারনেট দেবে বিটিসিএল, সাশ্রয়ী আরও ৮ প্যাকেজ ঘোষণা

৫১ বছর পর মার্কিন আকাশে ডুমসডে প্লেন, পারমাণবিক যুদ্ধের শঙ্কায় কাঁপছে সোশ্যাল মিডিয়া

নিজের চরকায় তেল দাও—মামদানিকে ভারতের তিরস্কার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত