রাশেদ নিজাম, ঢাকা

কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ প্রথম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি পাঠায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন পেতে সর্বশেষ গত ১১ এপ্রিল ২৯তম তাগাদাপত্র পাঠায় কমিশন। তবে সাত বছরে একটিরও জবাব আসেনি।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনু সেনানিবাস এলাকায় ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হন। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে চতুর্থ সংস্থা হিসেবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এই হত্যা মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে।
ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে ২০১৪ সালের ১৯ অক্টোবর এক গাড়িচালকের দুই পায়ে গুলি করে সন্ত্রাসী সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন। আটকও হন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। জানতে চেয়ে ২২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল মানবাধিকার কমিশন। পরে তাগিদ দিয়ে পাঠানো হয় আরও ২৮ চিঠি। সর্বশেষটি দেওয়া হয় চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল। এ ছাড়া রাজধানীতে ২০১৪ সালের জুলাইয়ে পুলিশের হাতে এক ব্যক্তির নির্যাতনের বিষয়ে ৩৩ বার তাগাদাপত্র দিলেও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছ থেকে কোনো জবাব যায়নি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে।
কমিশনের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সেখানে সর্বোচ্চ ৯ বছর ও সর্বনিম্ন তিন মাস তাগাদার খোঁজ পাওয়া গেছে। এগুলোর বেশির ভাগই পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু, নির্যাতন, নিখোঁজ বা গুম এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনার। এই বার্ষিক প্রতিবেদন সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে।
জানতে চাইলে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুলতানা কামাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ২০০৭ সালে তৎকালীন সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মানবাধিকার কমিশন গঠন করেছিল। তবে সত্যিকার অর্থে মানবাধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে কমিশনের যে শক্তি, ক্ষমতা ও সক্ষমতা দরকার, প্রথম থেকেই এর ঘাটতি রেখে দেওয়া হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই কমিশনকে দুর্বল করে রাখা হয়েছে। এর দায় সরকারের কাঁধেই বর্তায়। তিনি বলেন, ‘কমিশন কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে চায় অথবা পারে, সেটার ওপরও অনেকটাই নির্ভর করে সরকার তাদের কতটা গুরুত্ব দেয়। আমাদের অভিজ্ঞতায় সেটা সন্তোষজনক নয়।’
বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ১০১টি অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানায় কমিশন। ৮টি বিভাগে ৭৪টি ঘটনায় প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষায় কমিশন। ১৩ বছরে ১৩টি ঘটনায় কোনো উত্তর পায়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হওয়ায় ৩২ ঘটনায় আবার প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।
কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁরা চেষ্টা করছেন। কম সময়ে হয়তো ফল পাওয়া যাবে না। কমিশন উদ্যোগী হয়ে অনেক অভিযোগের সমাধানে সফলতা পেয়েছে। এসব প্রতিবেদন পেলে সন্তুষ্টি আসবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালে অনিতা ভট্টাচার্য নামে এক নারীকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল সিলেট সদর থানার তৎকালীন ওসি মনিরুল ইসলাম ও এসআই আঁখির বিরুদ্ধে। কমিশন ৯ বার চিঠি দেওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। তবে ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে গত ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ৮৬ বার তাগাদাপত্র দিয়েও বিভাগীয় মামলার ফলাফল জানতে পারেনি কমিশন।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক নুর খান বলেন, মানবাধিকার সংগঠন যেসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে, গণমাধ্যমে যেসব বিষয় আসে, সেগুলো নিয়ে যথাযথ তদন্ত না হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটনা ঘটছে। একটা স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা দরকার, যেখানে মানুষের আস্থা থাকবে।

কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ প্রথম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি পাঠায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন পেতে সর্বশেষ গত ১১ এপ্রিল ২৯তম তাগাদাপত্র পাঠায় কমিশন। তবে সাত বছরে একটিরও জবাব আসেনি।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনু সেনানিবাস এলাকায় ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হন। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে চতুর্থ সংস্থা হিসেবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এই হত্যা মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে।
ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে ২০১৪ সালের ১৯ অক্টোবর এক গাড়িচালকের দুই পায়ে গুলি করে সন্ত্রাসী সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন। আটকও হন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। জানতে চেয়ে ২২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল মানবাধিকার কমিশন। পরে তাগিদ দিয়ে পাঠানো হয় আরও ২৮ চিঠি। সর্বশেষটি দেওয়া হয় চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল। এ ছাড়া রাজধানীতে ২০১৪ সালের জুলাইয়ে পুলিশের হাতে এক ব্যক্তির নির্যাতনের বিষয়ে ৩৩ বার তাগাদাপত্র দিলেও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছ থেকে কোনো জবাব যায়নি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে।
কমিশনের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সেখানে সর্বোচ্চ ৯ বছর ও সর্বনিম্ন তিন মাস তাগাদার খোঁজ পাওয়া গেছে। এগুলোর বেশির ভাগই পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু, নির্যাতন, নিখোঁজ বা গুম এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনার। এই বার্ষিক প্রতিবেদন সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে।
জানতে চাইলে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুলতানা কামাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ২০০৭ সালে তৎকালীন সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মানবাধিকার কমিশন গঠন করেছিল। তবে সত্যিকার অর্থে মানবাধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে কমিশনের যে শক্তি, ক্ষমতা ও সক্ষমতা দরকার, প্রথম থেকেই এর ঘাটতি রেখে দেওয়া হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই কমিশনকে দুর্বল করে রাখা হয়েছে। এর দায় সরকারের কাঁধেই বর্তায়। তিনি বলেন, ‘কমিশন কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে চায় অথবা পারে, সেটার ওপরও অনেকটাই নির্ভর করে সরকার তাদের কতটা গুরুত্ব দেয়। আমাদের অভিজ্ঞতায় সেটা সন্তোষজনক নয়।’
বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ১০১টি অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানায় কমিশন। ৮টি বিভাগে ৭৪টি ঘটনায় প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষায় কমিশন। ১৩ বছরে ১৩টি ঘটনায় কোনো উত্তর পায়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হওয়ায় ৩২ ঘটনায় আবার প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।
কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁরা চেষ্টা করছেন। কম সময়ে হয়তো ফল পাওয়া যাবে না। কমিশন উদ্যোগী হয়ে অনেক অভিযোগের সমাধানে সফলতা পেয়েছে। এসব প্রতিবেদন পেলে সন্তুষ্টি আসবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালে অনিতা ভট্টাচার্য নামে এক নারীকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল সিলেট সদর থানার তৎকালীন ওসি মনিরুল ইসলাম ও এসআই আঁখির বিরুদ্ধে। কমিশন ৯ বার চিঠি দেওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। তবে ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে গত ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ৮৬ বার তাগাদাপত্র দিয়েও বিভাগীয় মামলার ফলাফল জানতে পারেনি কমিশন।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক নুর খান বলেন, মানবাধিকার সংগঠন যেসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে, গণমাধ্যমে যেসব বিষয় আসে, সেগুলো নিয়ে যথাযথ তদন্ত না হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটনা ঘটছে। একটা স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা দরকার, যেখানে মানুষের আস্থা থাকবে।

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সর্বশেষ (৫৪ তম) সাক্ষীর জেরা শুরু হয়েছে। এই মামলাটির বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
০৬ অক্টোবর ২০২৫
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫
ভারতের স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞার পর সীমান্তে আটকে থাকা তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাকগুলো ফেরত আনছেন রপ্তানিকারকেরা। তবে যেসব ট্রাক বন্দরে ঢুকে গিয়েছিল, সেগুলো ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
১৯ মে ২০২৫
আধুনিক যুগের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের দেহাবশেষের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক রত্নসম্ভার। গতকাল বুধবার হংকংয়ে বিখ্যাত আর্ট নিলাম কোম্পানি সাদাবি’স-এর এক নিলামে এগুলো তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
০৮ মে ২০২৫