
ছোটবেলায় আশা দিদির গান শুনতাম আর তাঁর কণ্ঠ নকলের চেষ্টা করতাম। আমি তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। ‘সুর ক্ষেত্র’ রিয়েলিটি শোতে বিচারক হওয়ার সুবাদে আমাদের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। আমরা এত হাসাহাসি, ঠাট্টা আর গল্পগুজব করতাম যে কয়েকটি পর্বের পর প্রযোজক আমাদের আলাদা বসিয়ে দেন। কিন্তু আশা দিদি জোর দিয়ে বললেন, যেন আমি তাঁর পাশের চেয়ারেই বসি। তিনি আমার জন্য বিরিয়ানি আর চিংড়ি রান্না করে নিয়ে আসতেন। উনার বাড়িতে দাওয়াত করে নিজে রান্না করে খাইয়েছেন।
আশাদির সঙ্গে ফোনে কথা হতো। ভিডিও কলেও অনেক সময় গল্প হতো। তাঁর মৃত্যুর খবর শোনার পর নিজেকে সামলাতে পারছি না। মনে হচ্ছে আমার পৃথিবীটাও শূন্য হয়ে গেল। দিদি, ফোনে আমাদের দীর্ঘ আলাপ, অফুরন্ত আড্ডা আর তোমার গলায় ‘রুনাজি, আপনি কেমন আছেন?’ এই কথাগুলো খুব মিস করব।
লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলে—দুজনেই আমাকে মায়ের মতো স্নেহ করতেন। বড় শিল্পীরা কেন বড় হয়, তাঁদের দেখে শিখেছি। আমি তাঁদের থেকে ছোট, সেটা বয়সে এবং শিল্পী হিসেবেও। কিন্তু তাঁদের ব্যবহারে সেটা বোঝার উপায় ছিল না। সবসময় সম্মান দিতেন। কখনো নাম ধরে ডাকেননি। আমি জোর দিয়ে বলতাম, আমাকে যেন ‘রুনাজি’ বা ‘আপনি’ না বলে নাম ধরে ডাকেন। কিন্তু আশাদি বলতেন, ‘আপনি অনেক বড় শিল্পী। নাম ধরে ডাকব না। এই সম্মানটা আমি দিতে চাই।’
আমার সুরে আশা দিদি একটা গান করেছেন— ‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি’। আমি যখন তাঁকে গানটি তুলে দিচ্ছিলাম তিনি মন দিয়ে শুনেছেন। কোন জায়গাটা কীভাবে গাইতে হবে, বারবার জেনে নিয়েছেন। রেকর্ডিংয়ের সময় বলছিলেন, কোথাও ঠিক মনে না হলে আমাকে বলবেন। এত বড় শিল্পী হয়েও গানের বিষয়ে কতটা সচেতন ছিলেন, বলে বোঝাতে পারব না।
শিল্পী হিসেবে আশা ভোঁসলে কত বড় মাপের ছিলেন, সেটা আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। হয়তো কারও পক্ষে সম্ভব নয়। ২০২২ সালে লতা দিদি চলে গেলেন, এবার আশা দিদি। গানের জগৎ থেকে দুটো স্তম্ভ চলে গেল। এই ক্ষতি কেউ পূরণ করতে তো পারবেই না, কাছাকাছি যেতেও পারবে না। বিরাট এক শূন্যতা তৈরি হয়ে গেল।

আশার বয়স যখন ৯, তখন বাবাকে হারান। দীননাথ সন্তানদের দিয়ে গিয়েছিলেন একটি তানপুরা। বলেছিলেন, ‘আমার কাছে আর কিছু নেই। এটা আছে। এটা আমি তোমাদের দিয়ে যাচ্ছি। একে সামলে রেখো। মন দিয়ে গান করো।’ বাকি জীবন বাবার সেই কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন লতা, আশাসহ পাঁচ ভাইবোন।
১ ঘণ্টা আগে
আশাজির ব্যবহার, কথাবার্তা, নম্রতা-ভদ্রতা দেখে বোঝার উপায় ছিল না উনি এত বড় মাপের একজন শিল্পী। উনার সঙ্গে যত কথা বলেছি, ততই অবাক হয়েছি। শিল্পী হিসেবে তো বটেই, একজন মানুষ হিসেবেও তাঁর মাঝে যে গুণাবলি ছিল, তা সবার জন্য শিক্ষণীয় বিষয়।
২ ঘণ্টা আগে
পঞ্চম ছিলেন আশার বড় ভক্ত। একসঙ্গে কাজ করতে করতে আশার প্রেমে পড়ে যান তিনি। কিন্তু বিয়ের পথটা খুব সহজ ছিল না। প্রথম বিয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে আশা প্রথমে সাড়া দেননি পঞ্চমের প্রস্তাবে।
২ ঘণ্টা আগে
শনিবার সন্ধ্যায় অসুস্থ হলে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল ভারতীয় সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে। হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছে। ইমার্জেন্সি ইউনিটে চিকিৎসা চলছে।
৪ ঘণ্টা আগে