Ajker Patrika

রাহুল ও আশা: সুরে ও ছন্দে বাঁধা পড়েছিল দুই প্রাণ

বিনোদন ডেস্ক
রাহুল ও আশা: সুরে ও ছন্দে বাঁধা পড়েছিল দুই প্রাণ
আশা ভোঁসলে ও রাহুল দেব বর্মন। ছবি: সংগৃহীত

সংগীতের আশ্চর্য জুটি তাঁরা। একজনের হাতে তৈরি হয় কালজয়ী সব সুর, অন্যজনের মায়াবী কণ্ঠে সেই সুর পায় পূর্ণতা। রাহুল দেব বর্মন ও আশা ভোঁসলের জাদুকরি সংগীতসফর একসময় এক স্রোতে এসে মিলেছিল। সংগীতের প্রতি গভীর ভালোবাসা এই দুজনকে এক সুতোয় বেঁধেছিল। যদিও বয়সের ব্যবধানে আশা ছিলেন রাহুল দেব বর্মনের চেয়ে ছয় বছরের বড়, কিন্তু তাঁদের রসায়নে তা কোনো দিন বাধা হতে পারেনি।

১৯৫৬ সালে শচীন দেব বর্মনের স্টুডিওতে রাহুল দেব বর্মন বা পঞ্চমকে প্রথমবার দেখেছিলেন আশা ভোঁসলে। আশা তখন প্রতিষ্ঠিত গায়িকা আর পঞ্চম ছিলেন উদীয়মান সুরকার। পেশাগতভাবে তাঁদের রসায়ন জমতে শুরু করে ষাটের দশকের শেষ দিকে। পঞ্চম তখন হিন্দি গানে ওয়েস্টার্ন আর জ্যাজ মিউজিকের বিপ্লব ঘটাচ্ছেন। ১৯৬৬ সালে ‘তিসরি মঞ্জিল’ সিনেমার মাধ্যমে তাঁদের সাংগীতিক রসায়ন অনন্য উচ্চতায় পৌঁছায়।

পেশাগতভাবে সাফল্য পেলেও ব্যক্তিগত জীবনে দুজনেই তখন বিধ্বস্ত সময় কাটাচ্ছিলেন। প্রথম স্বামী গণপত রাওয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিন সন্তানকে নিয়ে একা লড়ছিলেন আশা। প্রথম বিয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা আশাকেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। অন্যদিকে রিতা প্যাটেলের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর পঞ্চমও নিঃসঙ্গ ছিলেন। এই সময়ে সুরের প্রতি ভালোবাসা আর একাকী জীবনের শূন্যতা তাঁদের কাছাকাছি নিয়ে আসে।

পঞ্চম ছিলেন আশার বড় ভক্ত। একসঙ্গে কাজ করতে করতে আশার প্রেমে পড়ে যান তিনি। কিন্তু বিয়ের পথটা খুব সহজ ছিল না। প্রথম বিয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে আশা প্রথমে সাড়া দেননি পঞ্চমের প্রস্তাবে। কিন্তু পঞ্চমের ভালোবাসার কাছে একসময় নতি স্বীকার করে ১৯৮০ সালে তাঁরা বিয়ে করেন।

বয়সের পার্থক্য, ব্যক্তিগত জীবনের অতীত, ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের নানা কানাঘুষা—সব মিলিয়ে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে তখন নানা জল্পনা ছিল। অনেকেই মনে করতেন, এই সম্পর্ক টিকবে না। এই সম্পর্ক শুধুই কাজের সুবিধার জন্যই। কিন্তু একে অপরের পাশে থেকে তাঁরা গড়ে তুলেছিলেন দৃঢ় বন্ধন।

নানা বিতর্কের মাঝেও তাঁরা নিজেদের কাজ ও সম্পর্ক—দুটোকেই আলাদা গুরুত্ব দিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব একটা প্রকাশ্যে কথা বলেননি কেউই। বরং তাঁদের কাজই হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে বড় জবাব। ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘দম মারো দম’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’, ‘মেরা কুছ সামান’-এর মতো হিন্দি গানের পাশাপাশি ‘মহুয়া জমেছে আজ’, ‘চোখে চোখে কথা বলো’, ‘চোখে নামে বৃষ্টি’র মতো অনেক বাংলা গান উপহার দিয়েছিলেন রাহুল-আশা জুটি।

আশা বহুবার বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন, ‘সংগীতই ছিল আমাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি। আমরা বিসমিল্লাহ খান, বিটলস, শার্লি বাসি—আরও অনেকের গান ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুনতে পারতাম। পঞ্চম সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত সারা পৃথিবীর গান শুনত, আমিও তার সঙ্গ দিতাম। সংগীতের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ছিল একই রকম, এটাই ছিল আমাদের চিরস্থায়ী বন্ধন।’

১৯৯৪ সালে পঞ্চমের আকস্মিক মৃত্যুর পর বাকিটা জীবন তাঁর গান ও স্মৃতির মাধ্যমেই নিজের ভেতরে পঞ্চমকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন আশা ভোঁসলে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মঙ্গলবারের মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার শোরুম অপসারণের নির্দেশ

কেন ব্যর্থ হলো ইসলামাবাদ সংলাপ, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কে কী চায়

নাগরিকত্ব পেতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান প্রসব, সুযোগ বন্ধ করছেন ট্রাম্প

চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ ইসলামাবাদ আলোচনা, ফিরে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধিদল

আলোচনা এগিয়ে নিতে আগ্রহী দুই পক্ষই, নজর ট্রাম্পের দিকে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত