Ajker Patrika

‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর ওয়াল্টার আত্মহত্যা করেছেন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর ওয়াল্টার আত্মহত্যা করেছেন
ওয়াল্টার হোয়াইট চরিত্রে অভিনয় করা আরজে মিটি। ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর অভিনেতা আরজে মিটি মারা গেছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) টেক্সাসের ব্রাউন্সভিলে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। টিভি সিরিজটিতে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী তরুণ ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়রের চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এই মার্কিন অভিনেতা।

অভিনেতার ব্যবস্থাপনা সংস্থার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর এক প্রচারক সাংবাদিকদের জানান, আরজে মিটি আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতির বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সংস্থার প্রাথমিক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের প্রিয় অভিনেতা, জনহিতৈষী এবং প্রতিবন্ধীদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার প্রচারক আরজে মিটির মর্মান্তিক প্রয়াণের খবর প্রকাশ করতে গিয়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’

‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজে আরজে মিটির বাবার ভূমিকায় অভিনয় করা খ্যাতনামা অভিনেতা ব্রায়ান ক্র্যানস্টন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিটিকে নিজের ‘স্নেহের সন্তান’ বলে উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে ক্র্যানস্টন লেখেন, মিটি ছিলেন একজন ‘উচ্চমানের অভিনেতা’ এবং ‘প্রতিবন্ধী শিল্পীদের অধিকার আদায়ের অন্যতম কণ্ঠস্বর’।

ক্র্যানস্টন আরও উল্লেখ করেন, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও তাঁদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছিল এবং দুজনে একসঙ্গে দুপুরে খাবার খাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন।

শোকগ্রস্ত অভিনেতা লেখেন, ‘সেই দুপুরের খাবার তার ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারত কিনা আমি জানি না। তবে আমি তাকে ভালোবাসতাম এবং সিরিজের শুটিং চলাকালীন ও পরবর্তী সময়গুলোতে তার সঙ্গ দারুণ উপভোগ করেছি। আমি তোমাকে মিস করব, বাবা।’

সিরিজের শুটিং চলাকালে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে মিটি কখনোই ওজর বা বাধা হিসেবে দাঁড় করাননি উল্লেখ করে ক্র্যানস্টন বলেন, ‘সে চরম দূরদর্শিতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে শুটিংয়ের কঠিন সূচি সামলেছে।’

২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রচারিত ক্রাইম ড্রামা সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ মুখ্য চরিত্র ওয়াল্টার হোয়াইটের একমাত্র ছেলের ভূমিকায় অভিনয় করেন আরজে মিটি। ২০০৭ সালে যখন সিরিজের পাইলট পর্বের শুটিং শুরু হয়, তখন মিটির বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। একাধিক সিজনে বিস্তৃত এই সিরিজটি মোট ১৬টি এমি অ্যাওয়ার্ড জয় করেছে।

বাস্তব জীবনে সেরিব্রাল পালসি (মস্তিষ্কের পক্ষাঘাত বা পেশি নিয়ন্ত্রণজনিত দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা) রোগের সঙ্গে লড়াই করা মিটি তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে পর্দায় এক অনন্য ও নিখুঁত বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলেছিলেন। সেখানে তাঁর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনো নাটকীয় হাতিয়ার হিসেবে নয়, বরং চরিত্রের একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিত্রিত হয়েছিল।

ওয়াল্টার ‘ফ্লিন’ হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে প্রাতরাশের টেবিলে তাঁর ঘন ঘন উপস্থিতি দর্শকদের নজর কাড়ে। গল্প যত এগিয়েছে, বাবার অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ার সত্য উদ্‌ঘাটনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের ভেঙে পড়া সামলে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর চরিত্রটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

‘ব্রেকিং ব্যাড’ ছাড়াও তিনি ২০১৯ সালের রোমান্টিক কমেডি চলচ্চিত্র ‘স্ট্যান্ডিং আপ ফর সানি’ এবং ২০২১ সালের ‘ট্রায়াম্ফ’-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। সম্প্রতি তিনি তাঁর নতুন সিনেমা ‘টকিং টু স্ট্রেইঞ্জার্স’-এর প্রচারে বেশ কয়েকটি পডকাস্টে অংশ নিয়েছিলেন।

পর্দার বাইরে মিটি স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড (সাগ)-এর প্রতিবন্ধী শিল্পীদের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি ইউনাইটেড সেরিব্রাল পালসি ফাউন্ডেশনের শুভেচ্ছাদূত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির জ্যাকসনে জন্মগ্রহণকারী মিটি জন্মের সময় মস্তিষ্কে আঘাত পান। পরবর্তীতে তাঁকে দত্তক নেওয়া হয় এবং তিন বছর বয়সে তাঁর সেরিব্রাল পালসি শনাক্ত হয়। শৈশবের বড় একটি সময় পায়ে ব্রেস ও ক্রাচ ব্যবহার করলেও ক্রীড়া ও ব্যায়ামের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে হাঁটার এসব যন্ত্রের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে ওঠেন।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাঁর দত্তক নেওয়া মা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হলে মিটি তাঁর পরিবার ও ছোট বোনের আর্থিক দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত