Ajker Patrika

গানগুলো যেন নষ্ট না হয়, সেটাই শুধু চাওয়া

রিংকু জানেন গানে আর ফেরা হবে না তাঁর

বিনোদন প্রতিবেদক, ঢাকা
রিংকু জানেন গানে আর ফেরা হবে না তাঁর
রিংকু। ছবি: সংগৃহীত

চারবার স্ট্রোক করে গান থেকে একরকম ছিটকে পড়েছেন সংগীতশিল্পী মশিউর রহমান রিংকু। মাঝে কিছুটা সুস্থ হয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন গানে ফেরার। তবে এখন বাস্তবতা বুঝতে পারছেন তিনি। জানেন, গানের জগতে আর ফেরা হবে না তাঁর। তবে সবার কাছে এই সংগীতশিল্পী অনুরোধ জানিয়েছেন, তাঁর গাওয়া গানগুলো যেন নষ্ট না হয়ে যায়।

২০২০ সালে দুবার স্ট্রোক হয় রিংকুর। দ্বিতীয়বার স্ট্রোকের পর তাঁর ডান হাত ও পা প্যারালাইজড হয়ে যায়। এরপর তিনি ফিরে যান নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বড় সাওতা গ্রামে নিজের বাড়িতে। এখনো ঠিকভাবে হাঁটতে ও কথা বলতে পারেন না তিনি। সেখানেই শিল্পীর সঙ্গে কথা বলতে হাজির হয় ট্রাভেল ডকুমেন্টারি সিরিজ ‘পথের গল্প’র টিম। রিংকুকে নিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি পর্ব। সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছে পর্বটি।

রিংকু বলেন, ‘পুরোপুরি গানে ফেরার ইচ্ছা আমার নেই। ইচ্ছা করলেও সেই সম্ভাবনা নেই। কারণ, চারবার স্ট্রোক হয়েছে, এর মধ্যে একবার-দুবার তো কেউ জানতই না। চারবার যখন স্ট্রোক হয়ে গেল, তখন আমি বুঝলাম সব আশা শেষ। এটা মানতে হবে, কারণ এটাই সত্য। আসলে আমি যেভাবে ব্যাক করতে চাই, সেভাবে আর হবে না। পরিপূর্ণভাবে ব্যাক করতে না পারলে ব্যাক করার দরকার নেই। আমি মরে গেলেও গানগুলো তো থাকবে। একটাই আহ্বান আমার, গানগুলো যেন নষ্ট না হয়।’

একটা সময় গান নিয়ে ঢাকাতেই রিংকুর রাতদিন কেটেছে। সে সময় একটু আড়াল হলেই তাঁর বন্ধু, সহকর্মীরা কাজের জন্য খোঁজখবর নিতেন। কিন্তু সেই মানুষেরাই এখন আর খবর নেন না বলে জানান রিংকু। এখন সাওতা গ্রামের মানুষেরাই তাঁর বন্ধু, তাঁদের ভালোবাসাতেই খুঁজে পান বেঁচে থাকার স্পৃহা।

রিংকু বলেন, ‘শহরের মানুষের ভালোবাসা হচ্ছে কাজের জন্য ভালোবাসা। আর গ্রামের মানুষের ভালোবাসা অরিজিনাল। তারাই এখন আমার বন্ধু। একটা কথা আছে—কাজ করলে কাজী, কাজ ফুরালে পাজি। ঠিক তেমন হচ্ছে শহরের মানুষের ভালোবাসা। যদি কারও কাজ করে দিতাম তাহলে ভালোবাসত, কাজ না করে দিলে আমি নেই—বিষয়টি এমন আরকি। সেই সময়ের কোনো বন্ধুই নেই এখন। কেউ খোঁজ রাখে না। যদি কারও জন্য কিছু করে থাকি, সেটা আমি করেছি। কিন্তু কারও সিমপ্যাথি আমি চাই না।’

ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতায় লোকগান ও বাউলগান গেয়ে আলোচনায় এসেছিলেন রিংকু। ছিলেন সেরা পাঁচে। প্রতিযোগিতা শেষে লালনের গান এবং সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা লোকগান সংগ্রহে কাজ করেন রিংকু। প্রকাশ করেন ‘পাগলা ঘণ্টা’, ‘বাউল মন’ ও ‘জগৎ বন্ধু’সহ একাধিক অডিও অ্যালবাম। প্রতিটি অ্যালবামই শ্রোতাদের মন জয় করে। ‘সম্পর্ক’ নামের একটি গানের প্রতিষ্ঠানও গড়েছিলেন রাজধানীর মগবাজারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত