Ajker Patrika

যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তির হুমকিকে ‘সংকটজনক’ মাত্রায় উন্নীত করল পেন্টাগন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তির হুমকিকে ‘সংকটজনক’ মাত্রায় উন্নীত করল পেন্টাগন
ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলকে ঘিরে নতুন এক গোয়েন্দা উদ্বেগের খবর প্রকাশ করেছে দেশটির দুটি শীর্ষ সংবাদমাধ্যম। এনবিসি নিউজ ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তির হুমকি মূল্যায়নের মাত্রা ‘উচ্চ’ থেকে ‘সংকটজনক’ পর্যায়ে উন্নীত করেছে পেন্টাগনের গোয়েন্দা শাখা।

গত শুক্রবার এই বিষয়ে প্রথম তথ্য প্রকাশ করে এনবিসি নিউজ। পরদিন একই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। উভয় সংবাদমাধ্যমই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধকে ঘিরে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, পেন্টাগনের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) আশঙ্কা করছে—হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এবং সম্ভাব্য সমাপ্তি নিয়ে কী ধরনের আলোচনা চলছে, তা জানার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারির চেষ্টা বাড়িয়েছে ইসরায়েল। সেই আশঙ্কার ভিত্তিতেই সংস্থাটি ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতার ঝুঁকি মূল্যায়নের মাত্রা বাড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রকাশ্য মতপার্থক্যও এই উদ্বেগের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, সেটি নিয়ে দুই নেতার অবস্থানে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা গেছে।

ট্রাম্প একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন, তিনি যুদ্ধের সমাপ্তি চান। দেশে রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় সংঘাতের অবসান ঘটানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পরও যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে বড় ধরনের সংঘর্ষ অনেকটাই থেমে থাকলেও স্থায়ী সমঝোতার প্রচেষ্টা বারবার অচলাবস্থায় পড়েছে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে আসছে। তবে ডিআইএর মূল্যায়নে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের শেষ ভাগ থেকে এই তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ নিয়ে দেশটির ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করেছিল।

সংবাদপত্রটি জানায়, ২০২৫ সালেও সেই তৎপরতা অব্যাহত ছিল। ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে এসে ইরানকে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে নীতিগত আলোচনা শুরু করার পরও ইসরায়েলি নজরদারি কার্যক্রম চলতে থাকে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক বিভিন্ন গোয়েন্দা মূল্যায়নে এমন তথ্য পাওয়া গেছে যে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, পেন্টাগনের শীর্ষ নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবি এবং তাঁর ডেপুটি মাইকেল ডিমিনো চতুর্থের ওপর নজরদারির চেষ্টা চালিয়েছে ইসরায়েল।

উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রাথমিক হামলার আগে ইরানের সঙ্গে চলা পারমাণবিক আলোচনায় প্রধান আলোচকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন স্টিভ উইটকফ।

এনবিসি নিউজ ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমস উভয়ই তাদের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করেছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে আল জাজিরার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুখপাত্র এনবিসি নিউজ ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, এসব প্রতিবেদন ‘মিথ্যা’।

তার পরও এই খবর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা ও সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ওয়াশিংটন বহু বছর ধরে ইসরায়েলকে বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তা এবং অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে। গাজায় চলমান গণহত্যার সময়ও সেই সহায়তা অব্যাহত ছিল।

এদিকে, বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেস একটি নতুন প্রতিরক্ষা বিলের একটি ধারা নিয়ে আলোচনা করছে, যার মাধ্যমে অস্ত্র গবেষণা ও উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সহযোগিতা নজিরবিহীন মাত্রায় একীভূত করার প্রস্তাব রয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক গোয়েন্দা তৎপরতা অস্বাভাবিক নয়, তথাপি মার্কিন কর্মকর্তারা এনবিসি নিউজ ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের কার্যক্রমের ব্যাপকতা ও তৎপরতা ছিল ব্যতিক্রমী।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস আরও জানায়, ডিআইএর নতুন ‘সংকটজনক’ হুমকি মূল্যায়ন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সব মিত্র দেশের চেয়ে উচ্চতর। এমনকি যেসব দেশের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ, তাদের কয়েকটির ক্ষেত্রেও এত উচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা জারি নেই।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্বেগের পেছনে থাকা ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি হলো ২০২১ সালে ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার ডিআইএর সদর দপ্তরে গোপনে শ্রবণযন্ত্র স্থাপনের চেষ্টা। এ ছাড়া ২০২৫ সালে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের একটি গাড়িতে একই ধরনের নজরদারি যন্ত্র বসানোর চেষ্টা করেছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম ঘনিষ্ঠ দুই মিত্রের মধ্যকার আস্থার সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত