অভিনয় করবেন বলেই কলকাতা ছেড়ে ঢাকায় এসেছিলেন রাজ্জাক। তবে সে সুযোগ এক দিনে আসেনি। শত কষ্ট আর বাধার মুখে পড়েও হাল ছাড়েননি। আজ নায়করাজের জন্মদিনে সেই সংগ্রামের দিনগুলোর কথা লিখেছেন খায়রুল বাসার নির্ঝর।

কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল রাজ্জাকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। সাল ১৯৬৪। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কলকাতায় আর নয়, মুম্বাই গিয়ে অভিনয়ের সুযোগ খুঁজবেন। তবে পরিচালক পীযূষ বসুর পরামর্শে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চলে আসেন ঢাকায়। শুরু হয় ঢাকায় তাঁর উদ্বাস্তুজীবন। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে এসেছিলেন, সিনেমায় অভিনয়ের সেই স্বপ্ন তখনো অধরা। ঢাকায় এসে দেখলেন, এখানে বাংলা সিনেমা হয়-ই না বলা চলে। অল্পবিস্তর যেগুলো হয়, চলে না তেমন। বরং উর্দু সিনেমার বাজার রমরমা তখন। ভাষা না জানায় তাতেও সুযোগ পাচ্ছিলেন না।
পরিচয় হয় কয়েকজন নাট্যকর্মীর সঙ্গে। শুরু করেন মঞ্চনাটকে অভিনয়। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট, ব্রিটিশ কাউন্সিল, কুমিল্লা, সিরাজগঞ্জ—নানা জায়গায় বেশ কিছু নাটক করেছেন ওই সময়। তবে দুটো অপ্রত্যাশিত ঘটনায় নাটকটাও ছাড়তে হয়। একবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ডিম ছোড়াছুড়ি শুরু করে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই নাট্যদল। আরেকবার ব্রিটিশ কাউন্সিলে শো করতে গিয়ে পড়ে যান দুই পক্ষের মারামারির মধ্যে। ‘হঠাৎ মারামারি লেগে ছুরি বের করেছে সব। ওই যে দৌড় মারলাম, বললাম, আর নাটক করব না। নাটকে এগুলো কেন?’ নাটক ছেড়ে সহকারী পরিচালকের কাজ শুরু করলেন রাজ্জাক।
কিন্তু পরিচালকের সহকারী হিসেবে যৎসামান্য অর্থ যা পান, সংসার তাতে চলে না। ভীষণ টানাপোড়েনের দিন। তত দিনে পরিবারে আরেক নতুন সদস্য এসেছে। বাচ্চাদের দুধ কেনার টাকা জোগাড় করাই বড় চ্যালেঞ্জ তখন। প্রযোজকদের অফিসে অফিসে ধরনা দিচ্ছেন। ফিরিয়ে দিচ্ছেন প্রত্যেকে—কেউ হাসিমুখে, কেউ কটু কথা শুনিয়ে। রাজ্জাক তবু হাল ছাড়ছেন না, মনে তবু আশা—কিছু একটা হবে।
রাজ্জাক বলেন, ‘কলকাতা থেকে যা টাকা নিয়ে এসেছিলাম, প্রায় শেষের দিকে। আমার তখন বেশ স্ট্রাগলিং পিরিয়ড চলছে। দুটো বাচ্চা, তাদের ফিড করা। আমি তখন দিশেহারা হয়ে গেলাম, কী করব! একবেলা খাই, একবেলা খাই না। হেঁটে চলি।’ তখন সদ্যই ঢাকায় টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হয়েছে। বাংলা সংবাদ পাঠক হিসেবে সাক্ষাৎকার দিলেন রাজ্জাক। নির্বাচিতও হলেন। তবে প্রযোজক জামান আলী খানের আপত্তিতে কাজটি করা হলো না। তিনি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করলেন, ওকে নিয়েন না, ও আর্টিস্ট মানুষ, ওর ক্যারিয়ারটা শেষ হয়ে যাবে। বলা চলে, তিনিই রাজ্জাককে সেদিন বাঁচিয়ে দিলেন। সুযোগ পাইয়ে দিলেন ধারাবাহিক নাটক ‘ঘরোয়া’য় অভিনয়ের। সপ্তাহে একটা শো। ৬৫ টাকা। অন্নসংস্থানের একটা ব্যবস্থা অন্তত হলো। তার চেয়ে বড় কথা, সাহস এল মনে।
এর মধ্যেই রাজ্জাকের যোগাযোগ হয় জহির রায়হানের সঙ্গে। তিনি কথা দিয়েছিলেন, ‘হাজার বছর ধরে’ নামের নতুন সিনেমায় রাজ্জাককে নায়ক হিসেবে নেবেন। একদিন রাজ্জাক খবর পেলেন, জহির রায়হান তাঁকে খুঁজছেন। গিয়ে শুনলেন, হাজার বছর ধরে নয়, তাঁকে নিয়ে ‘বেহুলা’ সিনেমা করবেন তিনি। ৫০০ টাকায় সাইন হলো। তবে বেঁকে বসল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্টার সিনে করপোরেশন। রাজ্জাককে তারা কিছুতেই নায়ক হিসেবে নেবে না। তবে অটল ছিলেন জহির রায়হান, ‘জহির ভাইয়ের একটাই কথা ছিল, যদি এই ছবি হয়, তাহলে রাজ্জাককে নেব, নাহলে ছবি হবে না।’ নানা বাধা পেরিয়ে শুটিং শেষ হলো, ১৯৬৬ সালে মুক্তি পেল এবং ছবি সুপারহিট। বেহুলা দিয়ে রাজ্জাকের পায়ের তলায় শক্ত ভিতটা তৈরি করে দিলেন জহির রায়হান। এরপর তাঁর পরিচালনায় আরও কয়েকটি আলোচিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন রাজ্জাক। ১৯৭২ সালে জহির রায়হান নিখোঁজ হওয়া পর্যন্ত দুজনের সম্পর্ক ছিল ভীষণ মধুর। পেশাদার সম্পর্কের গণ্ডি পেরিয়ে রাজ্জাক জড়িয়ে পড়েছিলেন জহির রায়হানের ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও সংকটে। সে গল্প বলব আরেক দিন।

ক্যাসেট ও সিডির যুগ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। অনলাইনের এই সময়ে একটি করে গান প্রকাশ পায় ইউটিউবসহ বিভিন্ন অডিও প্ল্যাটফর্মে। তবে এখনো শিল্পীরা মিস করেন অডিওর সেই যুগ। সেই নস্টালজিয়া থেকে দেশের বেশ কয়েকজন শিল্পী অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসছেন নিজেদের একক অ্যালবাম।
১৮ ঘণ্টা আগে
শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরের গোয়েন্দা সিরিজ ‘ছোটকাকু’। বইয়ের পাতা পেরিয়ে ১৫ বছর ধরে টেলিভিশনের পর্দায়ও দর্শকদের আনন্দ দিয়ে আসছে চরিত্রটি। এবার ছোটকাকুকে ঘিরে আয়োজন করা হয়েছে উৎসবের। ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোডের আলোকিতে অনুষ্ঠিত হবে দুই দিনব্যাপী ‘ছোটকাকু উৎসব ২০২৬’।
১৮ ঘণ্টা আগে
ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মানুষের পক্ষে সোচ্চার থাকায় সোশ্যাল মিডিয়ায় লাখ লাখ অনুসারী হারিয়েছেন অস্কার মনোনীত ব্রিটিশ অভিনেত্রী ফ্লোরেন্স পিউ। তবে এ নিয়ে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই তাঁর। সম্প্রতি বিনোদন সাময়িকী ভ্যানিটি ফেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্লোরেন্স জানিয়েছেন...
১৮ ঘণ্টা আগে
হলিউডের সোনালি যুগের কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী ও অভিনেতা ফ্রেড অ্যাস্টেয়ারের বায়োপিকে যুক্ত হলেন মার্কিন পপতারকা সাবরিনা কার্পেন্টার। ফ্রেডের দীর্ঘদিনের অনস্ক্রিন নৃত্যসঙ্গী জিঞ্জার রজার্সের চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। এখনো নাম ঠিক না হওয়া এ সিনেমায় নামভূমিকায় অভিনয় করছেন ‘স্পাইডার-ম্যান’ তারকা টম...
১৯ ঘণ্টা আগে