শ্রদ্ধাঞ্জলি

শনিবারের সকালটি যেন বিষাদে ভরা এক সংগীত—শব্দহীন অথচ গভীর প্রার্থনায় মগ্ন। চলে গেলেন মুস্তাফা জামান আব্বাসী। তিনি কেবল একজন সংগীতশিল্পী বা গবেষক নন, ছিলেন আমাদের সাংস্কৃতিক সত্তার এক সৌম্য প্রতিনিধি, এক অনন্য মানুষ। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি, পুরানা পল্টনের সরু গলির ভেতরে সাপ্তাহিক চলতিপত্র পত্রিকার ছোট্ট অফিস। সেই অফিসে একদিন হঠাৎ এসে ঢুকলেন সৌম্যকান্তি এক মানুষ। চিনতে অসুবিধা হয়নি আমার। ব্যক্তিগত পরিচয় না থাকলেও তাঁকে না চেনার কোনো কারণ ছিল না। হালকা হেসে বললেন, ‘তোমাদের অফিসটা তো আমার পেছনের বাসারই এক্সটেনশন! আসব মাঝেমধ্যে।’ তারপর চায়ের কাপ হাতে টানা আধা ঘণ্টা গল্প করলেন লোকসংগীত, নজরুল, আব্বাসউদ্দীন আর বাংলার হারিয়ে যাওয়া সুর নিয়ে। কী সাবলীল, কী মিষ্টি উচ্চারণে কথা বলতেন! চোখমুখে যেন জ্ঞানের আলো, অথচ কোথাও কোনো ভান নেই, অহংকার নেই। এমন অমায়িক মানুষ সত্যিই খুব কম দেখা যায়। বিনয় ছিল যেন তাঁর অলংকার।
মুস্তাফা জামান আব্বাসী ছিলেন আব্বাসউদ্দীন আহমেদের পুত্র, পল্লিগীতির অগ্রপথিকের উত্তরাধিকার। কিন্তু কখনোই তাঁকে দেখে মনে হয়নি তিনি কোনো ‘গৌরবময় বংশের গর্বিত প্রতিনিধি’। বরং তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন মানুষের কাছে সহজভাবে পৌঁছানোর নিরন্তর চেষ্টা দিয়ে। তাঁর লেখা ‘গোধূলির ছায়াপথে’ কলামটির মতোই তাঁর জীবন ছিল কোমল আলোয় মোড়া—চিন্তার, সংস্কৃতির এবং মানবিক মূল্যবোধের।
লোকসংগীত নিয়ে তাঁর সংগ্রহ, গবেষণা ও উপস্থাপনাগুলো শুধু তাত্ত্বিক ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ ছিল না, ছিল অনুভব, ভালোবাসা আর এক শুদ্ধ দায়বোধ। তাঁর কণ্ঠে যখন ‘ভাটিয়ালি’ বাজত, তখন মনে হতো কোনো পুরোনো নদীর ঢেউ এসে বুকে লাগে। তাঁর গানে ছিল বাংলাদেশের গন্ধ, মাটির গন্ধ, প্রেমের মৃদু দীর্ঘশ্বাস। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, ইউনেসকোর সংগীতবিষয়ক কমিটির সভাপতি, রোটারি গভর্নর—কিন্তু এসব পরিচয়ের চেয়েও বড় পরিচয়, তিনি ছিলেন ‘মানুষ’। সহজ, প্রাণবন্ত, অন্তরঙ্গ একজন মানুষ। তাঁর উপস্থাপনায় ‘ভরা নদীর বাঁকে’, ‘আপন ভুবন’ অনুষ্ঠানে যেমন ছিল স্নিগ্ধতা, তেমনই ছিল গভীর অন্তর্দৃষ্টি।
মুস্তাফা জামান আব্বাসীর লেখা ‘লোকসংগীতের ইতিহাস’, ‘রুমির অলৌকিক বাগান’, কিংবা স্মৃতিকথা ‘স্বপ্নরা থাকে স্বপ্নের ওধারে’—সবখানেই ফুটে উঠেছে তাঁর ভাষার জাদু, ইতিহাসের মমত্ব আর সুরের অন্তর্নিহিত সাধনা। এমন এক ব্যক্তি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন, যাঁর চলে যাওয়া মানে এক বিশাল সাংস্কৃতিক শূন্যতা।
গতকাল ভোরে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করার আগে তিনি হয়তো আবার শুনেছেন কোনো পুরোনো ভাটিয়ালি গানের সুর। কিন্তু সময় তো কাউকে থামায় না, শুধু রেখে যায় কিছু স্মৃতি, কিছু অমলিন প্রভাব।
মুস্তাফা জামান আব্বাসী শুধু গানের মানুষ ছিলেন না। তিনি ছিলেন এ দেশের সাংস্কৃতিক চেতনার এক জীবন্ত পাঠ্যপুস্তক, যাঁকে একবার সামনে পেলে অনেক কিছু শেখা যেত, অনেক কিছু ভালোবাসা যেত। তাঁর সঙ্গে কয়েক দিন কথা বলার স্মৃতি দারুণভাবে আমাকে তাড়িত করছে। অনেক বছর দেখা হয়নি। তাতে কি! তিনি ভালোবাসার মানুষ, ভালো লাগার মানুষ। তাঁকে কি ভুলে থাকা যায়, না যাবে!
তাঁর আত্মা শান্তিতে থাকুক। তাঁর সুর বেঁচে থাকুক আমাদের সবার অন্তরে।

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হলসংকট। তাই সিনেমা মুক্তির সময় বিপাকে পড়েন দেশের স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতারা। বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী চালুর জোর দাবি জানিয়ে আসছেন নির্মাতারা। অবশেষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হচ্ছে দর্শনীর বিনিময়ে সিনেমা প্রদর্শনী।
৫ ঘণ্টা আগে
ধারাবাহিকে নিয়মিত অভিনয় করেন না অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি। সর্বশেষ দীপ্ত টিভির দীর্ঘ ধারাবাহিক ‘খুশবু’তে অভিনয় করেছেন। সাজ্জাদ সুমন পরিচালিত এই ধারাবাহিকে মাহিকে দেখা গেছে স্বল্প সময়ের জন্য। ধারাবাহিকটির প্রথম দিকের কিছু পর্বে অভিনয় করেন তিনি। এবার দুই মিনি সিরিজে অভিনয় করলেন মাহি।
৫ ঘণ্টা আগে
সিরিজ কিংবা সিনেমা—দুই মাধ্যমেই সায়নী গুপ্তর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। এবার এই বাঙালি অভিনেত্রী যাত্রা শুরু করেছেন হলিউড সিনেমায়। ‘আর্য্য’ নামের সিনেমাটির পরিচালক নীল টুলি। আর্য্য সিনহা নামের এক পিয়ানো শিক্ষিকাকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে চিত্রনাট্য। এই চরিত্রে অভিনয় করবেন সায়নী।
৫ ঘণ্টা আগে
২০১৯ সালে প্রকাশিত ফাহমিদা নবীর গাওয়া অন্যতম জনপ্রিয় গান ‘চোখের কার্নিশে’। ওয়ালিদ আহমেদের লেখা গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছিলেন সজীব দাস। তাঁর সুর ও সংগীতায়োজনে ফাহমিদা নবীর গাওয়া প্রকাশিত গানের সংখ্যা ২০টি।
৬ ঘণ্টা আগে