হাজারো স্বপ্ন বুকে নিয়ে সহস্রাধিক নবীন পা রেখেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সবুজ প্রাঙ্গণে। কারও স্বপ্ন কৃষিকে বদলে দেওয়া, কেউ গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলতে চান, কেউ প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে কাজ করতে, আবার কারও স্বপ্ন দেশ গড়ার।
নবীনদের স্বপ্নে, কোলাহলে আর ব্যস্ততায় যেন নতুন করে প্রাণ পেয়েছে ‘প্রকৃতিকন্যা’ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
দীর্ঘ ভর্তি পরীক্ষার অনিশ্চয়তা পেরিয়ে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম পা রাখার অনুভূতি সবার এক রকম নয়। চারপাশে নতুন মুখ। নতুন পরিবেশ। অচেনা সেই পরিবেশে শুরু হয় জীবনের নতুন অধ্যায়।
এক বিকেলে ক্লাস শেষে কয়েকজন নবীন বসেন ক্যাম্পাসের এক কোণে। স্কুল অব ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রির নাঈম ইফতেখার তাসনিম, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের আবির মাঝি ও আনিশা রহমান, কৃষি অনুষদের হাসান নাহিয়ান দোহা এবং মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অর্পিতা রায়।
চারপাশে সবুজ। দূরে রেললাইন। মাঝেমধ্যে ট্রেন ছুটে যাচ্ছে ঝকঝক শব্দ তুলে। বাতাসে ব্রহ্মপুত্রের শীতল ছোঁয়া। গল্পের বিষয় ‘প্রথম দিনের ক্যাম্পাস’।
সবার আগে কথা বলা শুরু করেন নাঈম ইফতেখার তাসনিম।
হেসে উত্তর দেন কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী আবির মাঝি। বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে আমি প্রকৃতিকে খুব ভালোবাসি। বাকৃবিতে ভর্তি হওয়ার পর মনে হলো, সেই ভালোবাসা আরও গভীর হয়েছে। প্রথম কয়েক দিন নতুন পরিবেশ আর নতুন মানুষকে ঘিরে কিছুটা অস্বস্তি ছিল। সময়ের সঙ্গে সেই দ্বিধা কেটে গেছে।’
এখন আবিরের কাছে ক্যাম্পাসই দ্বিতীয় বাড়ি। ১ হাজার ২৬৩ একরের বিশাল সবুজ প্রাঙ্গণ। পাশে ব্রহ্মপুত্র। জব্বারের মোড়ে রেললাইনের শব্দ। এসবের মধ্যেই পড়াশোনার পাশাপাশি মনও ভালো হয়ে যায় বলে জানান আবির মাঝি।
‘এবার তুমি বলো।’
হালকা হাসি দিয়ে নিজের কথা শুরু করেন তাসনিম। বলেন, ‘বাকৃবির কম্বাইন্ড ডিগ্রির প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী হতে পেরে সত্যিই গর্বিত। কৃষিগুচ্ছে এটাই ছিল আমার প্রথম পছন্দ।’
প্রথম দিনের ক্যাম্পাসের পরিবেশ তাঁকে মুগ্ধ করেছে। বিশাল সবুজ মাঠ। ছায়াঘেরা গাছ। ব্রহ্মপুত্রের তীর। পাশে রেললাইন। সব মিলিয়ে জায়গাটা তাঁর কাছে শান্তির।
তাসনিমের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও পরিষ্কার। নিজেকে একজন দক্ষ গ্র্যাজুয়েট হিসেবে গড়ে তুলতে চান। এরপর গবেষণা, উচ্চশিক্ষা কিংবা ভেটেরিনারি পেশায় যেতে চান। দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে অবদান রাখাই তাঁর লক্ষ্য।
‘এবার তোমার পালা।’
কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী আনিশা কিছুক্ষণ চুপ থাকেন। তারপর বলতে শুরু করেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন ছিল অনেক দিনের। তবে নিজের শহর ছেড়ে নতুন জায়গায় মানিয়ে নিতে পারব কি না, সেই দুশ্চিন্তাও ছিল আমার।’
ভর্তি পরীক্ষার প্রায় পাঁচ মাস পর আষাঢ়ের এক বৃষ্টিভেজা দিনে প্রথমবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখেন তিনি। নতুন বিভাগ নিয়েও আশাবাদী আনিশা। তাঁর বিশ্বাস, বাকৃবি তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাসী ও প্রগতিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।
‘দোহা, এবার তোমার পালা।’
কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী দোহার চোখে প্রথম দিনের স্মৃতি এখনো টাটকা। ‘ক্লাস শুরুর আগে ভেবেছিলাম, হয়তো খুব কঠিন আর একঘেয়ে জীবন অপেক্ষা করছে। কিন্তু এখানে এসে দেখলাম, প্রতিটি দিনই নতুন গল্পের মতো।’
শিক্ষক ও সিনিয়রদের সহযোগিতায় নতুন পথচলা অনেক সহজ হয়েছে বলে জানান দোহা। নতুন জায়গার ভয় কেটেছে। তৈরি হয়েছে পরিচিত মুখ। ক্যাম্পাসের ব্যস্ততাও এখন তাঁর ভালো লাগে।
শুরুতে উঠে আসে বাড়ি থেকে দূরে থাকার কষ্টের কথা। প্রথম দিকে প্রায়ই বাড়ির কথা মনে পড়ত। মন খারাপ হতো। তবে সেই মন খারাপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে মন ভালো হয়ে যেত। কখনো ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে বসে থাকতেন, কখনো সহপাঠীদের সঙ্গে গল্পে মেতে উঠতেন। অল্প সময়েই ক্যাম্পাস তাঁর আপন
হয়ে উঠেছে। শুরুতে ভয় ছিল; ছিল জড়তা। শিক্ষক ও সিনিয়রদের আন্তরিকতায় সেই সংকোচও অনেকটা কেটে গেছে।
সূর্য তখন পশ্চিমাকাশে প্রায় ঢলে পড়েছে। গাছের পাতায় হালকা বাতাস। ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে ভেসে আসছে শীতল হাওয়া। রেললাইনের ওপাশে ধীরলয়ে এগিয়ে যায় একটি ট্রেন। পাঁচ নবীনের গল্পও যেন সেখানেই থামে। তবে তাঁদের পথচলা যে কেবল শুরু।

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার মাঠ। বিস্তীর্ণ দুর্গম এলাকা। হাতে সময় খুবই কম। তবু থামেনি গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (জিইউবি) মার্স রোভার দল ‘ক্ল্যাডোস’। দেড় বছরের প্রস্তুতি শেষে তুরস্কে গিয়ে প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয় দলটি।
৭ মিনিট আগে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশ্বমঞ্চে আবারও বাংলাদেশের জয়। ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াড ইন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সে (আইওএআই) এবার তিনটি ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে বাংলাদেশ দল।
১ ঘণ্টা আগে
কলেজে পড়ার সময় বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন সিরাজুম মুনিরা রিংকী। সেই স্বপ্নপূরণে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ পথ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে পড়ার সময় জার্মানিতে মাস্টার্সে ভর্তির প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি।
২ ঘণ্টা আগে
পদার্থবিজ্ঞানের জগতে রিচার্ড ফাইনম্যান ছিলেন এক উজ্জ্বল নাম। নোবেলজয়ী এই বিজ্ঞানী কঠিন তাত্ত্বিক বিষয়ও খুব সহজ করে বোঝাতে পারতেন। ফাইনম্যান বিশ্বাস করতেন, কোনো বিষয় সত্যিই বুঝতে পারলে সেটি সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা সম্ভব। এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে জনপ্রিয় হয়েছে ‘ফাইনম্যান পদ্ধতি’।
২ ঘণ্টা আগে