সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ২৫তম সমাবর্তনে ‘সুম্মা কাম লাউড’ সম্মান এবং গোল্ড মেডেল অর্জন করেছেন রিদাহ্ ফায়সাল ও মোহাম্মদ শাওকি আফতাব। একজন মার্কেটিংয়ে বিবিএ, অন্যজন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক—দুজনেরই সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে ৪। কিন্তু তাঁদের এই সাফল্যের পথ মসৃণ ছিল না। করোনা মহামারি, পারিবারিক সংকট, মানসিক চাপ ও আত্মসংশয়ের মতো বাস্তব চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস এবং পরিবার-শিক্ষকদের সহায়তায় গড়ে উঠেছে তাঁদের এই অর্জন। সেই পথচলার গল্পই জানাচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক খান।
আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায়ের ফল
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি (ইডব্লিউইউ) থেকে ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ) প্রোগ্রামের মার্কেটিং বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন রিদাহ্ ফায়সাল। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫তম সমাবর্তনে তিনি ‘সুম্মা কাম লাউড’ সম্মান ও গোল্ড মেডেল পুরস্কার অর্জন করেন। একই সঙ্গে ভ্যালিডিক্টোরিয়ান হিসেবে বক্তৃতা দেন। তবে এই সাফল্যের পথ সহজ ছিল না। করোনা মহামারি, পারিবারিক সংকট আর মানসিক চাপ—সবকিছুর মধ্য দিয়ে তাঁকে ধরে রাখতে হয়েছে এই ধারাবাহিক অর্জন।
রিদাহ্ ফায়সালের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরু হয়েছিল করোনাকালে। দীর্ঘদিন ভার্চুয়াল ক্লাসের পর অফলাইনে ক্যাম্পাসে ফেরা, অনলাইনে পরিচিত মুখগুলো সামনে থেকে দেখা, নতুন বন্ধুত্ব ও ক্যাম্পাসের আড্ডা—সব মিলিয়ে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়জীবন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
একটি মধ্যবিত্ত যৌথ পরিবারে বড় হয়েছেন রিদাহ্ ফায়সাল। দাদা-দাদি, চাচা-চাচিদের স্নেহে ঘেরা পরিবেশে তাঁর বেড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকে পড়াশোনায় নিয়মিত হলেও ‘ফার্স্ট হতেই হবে’—এমন কোনো চাপ কখনো পরিবার থেকে ছিল না। গ্রিনডেল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে ‘ও’ লেভেল এবং প্রাইভেট থেকে ‘এ’ লেভেল সম্পন্ন করে তিনি ভর্তি হন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে।
সমাবর্তনে সুম্মা কাম লাউড ও গোল্ড মেডেল পাওয়ার বিষয়ে রিদাহ্ ফায়সাল বলেন, ‘এই অর্জনে আমি ভীষণ আনন্দিত। ভ্যালিডিক্টোরিয়ান বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য ছিল বিশেষ সম্মানের।’ ফলের খবরটি তিনি প্রথমে জানান বাবা-মাকে। আনন্দের সেই মুহূর্তে তাঁর মনে পড়ে প্রয়াত দাদা, নানা ও ছোট দাদির কথা। তারা বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।
পড়াশোনার ক্ষেত্রে তিনি কখনো নিজেকে নির্দিষ্ট কোনো রুটিনে বেঁধে রাখেননি। কখনো ফাইনাল পরীক্ষার আগে গভীর রাত পর্যন্ত পড়েছেন, আবার কখনো পরীক্ষার আগের দিন প্রস্তুতি শেষ করে পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। তবে প্রথমবার সিজিপিএ ৪ পাওয়ার পর তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়। তখন থেকে মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেন—যেভাবেই হোক, ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মানসিক চাপ সামলানো। অনেক সময় মনে হতো, আর পারছেন না। তবে বাবা-মায়ের নিরন্তর উৎসাহ, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং বন্ধুদের সহযোগিতা তাঁকে বারবার এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে।
২০২২ সালে হঠাৎ তাঁর বাবার হার্ট অ্যাটাক হয় এবং বাইপাস সার্জারির প্রয়োজন পড়ে। একই সময়ে তাঁর দাদিও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাবার অপারেশন, দাদির অসুস্থতা, মায়ের মানসিক চাপ, নিজের ফাইনাল পরীক্ষা, ছোট বোনের পরীক্ষা এবং হাসপাতাল ও বাসার দায়িত্ব—সব মিলিয়ে সময়টা ছিল ভীষণ কঠিন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছিল নিয়মিত প্রেজেন্টেশন, কুইজ এবং অ্যাসাইনমেন্ট।
এই সংকটময় সময়ে তাঁর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন মা। রিদাহ্ ফায়সাল বলেন, ‘আমার মা তখন একটা কথাই বলতেন—বৃত্তি না পেলেও সমস্যা নেই, কিন্তু সেমিস্টারে যেন ব্রেক না পড়ে।’ সেই কথাই হয়ে ওঠে তাঁর এগোনোর শক্তি।
সব প্রতিকূলতার মাঝেও পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং সেই সেমিস্টারে সিজিপিএ ৪ অর্জনের মাধ্যমে ১০০ শতাংশ বৃত্তি পান।
রিদাহ্ ফায়সালের বিশ্বাস, একজন শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নিজের ওপর বিশ্বাস। এর সঙ্গে একাগ্রতা, নিষ্ঠা ও শৃঙ্খলা থাকলে যেকোনো কঠিন পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা সব সময় তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছেন। সহপাঠীরাও কখনো তাঁকে প্রতিযোগী হিসেবে দেখেননি; বরং সাহস জুগিয়েছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে রিদাহ্ ফায়সাল বলেন, ‘আমি যে বিষয়ে পড়াশোনা করেছি, সেই সেক্টরেই কাজ করে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। ভালো ফল করার পাশাপাশি একজন ভালো মানুষ হওয়াটাও খুব জরুরি। পারিবারিক জীবনের মূল্যবোধ যেন পেশাগত জীবনেও প্রতিফলিত হয়—এটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।’

নিয়মিত চেষ্টা ও ধৈর্যের পুরস্কার
মোহাম্মদ শাওকি আফতাবও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির (ইডব্লিউইউ) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইডব্লিউইউর ২৫তম সমাবর্তনে তিনি সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে
৪ অর্জন করে ‘সুম্মা কাম লাউড’ সম্মাননা ও গোল্ড মেডেল অর্জন করেন। এর পেছনে রয়েছে ধৈর্য, নিয়মিত পরিশ্রম এবং নিজের সঙ্গে নিজের লড়াইয়ের দীর্ঘ পথচলা।
ঢাকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা শাওকি উদয়ন স্কুল থেকে এসএসসি এবং ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। স্কুলজীবনে ফল ভালো হলেও কখনো ফার্স্ট কিংবা সেকেন্ড হননি, তবে রোল বরাবরই সামনের দিকে থাকত। গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের প্রতি ছিল তাঁর আলাদা আগ্রহ। কলেজজীবনে পড়াশোনায় কিছুটা ছন্দপতন ঘটে। এ ছাড়া কোভিড-পরবর্তী সময়ে সেই ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ধীরে ধীরে নিজেকে মানিয়ে নেন এবং পড়াশোনায় আবার মনোযোগ ফিরে পান।
ইচ্ছা ছিল গণিত বা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ার। সেই সুযোগ না হলেও বিষয়টি নিয়ে আক্ষেপ করেননি। ২০০৭ সাল থেকে কম্পিউটারে গেম খেলা এবং নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কম্পিউটারের প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। যদিও সিএসই পড়ার কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আপন করে নেন এবং ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন।
মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান শাওকি বলেন, ‘পড়াশোনার ক্ষেত্রে পরিবার কখনো অভাব অনুভব করাননি। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও পড়াশোনার পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়েছেন।
গোল্ড মেডেল ও ‘সুম্মা কাম লাউড’ পাওয়ার খবরটি সবার আগে মা-বাবাকে জানান তিনি। অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে শাওকি বলেন, ‘বিশ্বাসই হচ্ছিল না। মা-বাবার মুখে আনন্দ দেখে নিজের ভালো লাগাটা আরও বেড়ে যায়।’
পড়াশোনায় শাওকির প্রধান কৌশল ছিল রুটিন মেনে ধারাবাহিকভাবে আগানো। প্রতিদিন না পড়লেও চেষ্টা করতেন সপ্তাহের পড়া সপ্তাহেই শেষ করতে। যদিও তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে কিছুটা অনিয়ম হয়েছিল, তবু দ্বিতীয় বর্ষে শুরু করা কম্পিটিটিভ প্রোগ্রামিং তাঁর চিন্তাশক্তি ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাঁর মতে, খুব ভালো না হলেও নিয়মিত চেষ্টা করে যাওয়াটাই কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
শাওকির দৈনন্দিন রুটিন মূলত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে কেন্দ্র করে সাজানো ছিল। আসর থেকে মাগরিবের সময়টা রাখতেন বিশ্রামের জন্য। মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত পড়াশোনা করতেন, আবার ফজরের পর কিছুটা সময় দিতেন পড়ায়। রাত জেগে পড়ার অভ্যাস তাঁর ছিল না। পড়াশোনাকে তিনি কখনোই ‘প্রেশার’ হিসেবে দেখেননি; বরং দেখেছেন একটি চ্যালেঞ্জ কিংবা পাজলের মতো। মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়লে জোর করে পড়াশোনা না করে নিজেকে সময় দিতেন। তাঁর মতে, বার্নআউট সামলে নেওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো বিরতি নেওয়া এবং নিজের পছন্দের কাজে সময় দেওয়া।
শাওকির জীবনে বড় অনুপ্রেরণা তাঁর দাদা, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। যদিও দাদাকে তিনি কখনো দেখেননি, তবু তাঁর পরিচয়ের কথা ভেবে গর্ব অনুভব করেন এবং নিজের নামে পরিচিত হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।
ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার জন্য শাওকি দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিস্থিতি ও সুযোগ অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শাওকির পরামর্শ হলো, ‘লেগে থাকুন এবং যা পড়ছেন, তা উপভোগের চেষ্টা করুন। পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্রাম ও নিজের ভালো লাগার কাজের জন্য সময় রাখুন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রথম পর্যায়ে বিবেচনাযোগ্য প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য সংখ্যা নিরূপণ করা হলেও সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিস্তারিত যাচাই কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আবেদনের সঙ্গে দাখিলকৃত প্রমাণকসমূহ ভূমি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক...
২ ঘণ্টা আগে
ভোটের আগের দিন বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ও ভোটের দিন বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর পর দু’দিন শুক্র (১৩ ফেব্রুয়ারি) ও শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সাপ্তাহিক ছুটি। তাই এই চার দিন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকছে।
৩ ঘণ্টা আগে
শ্রেণিকক্ষের বইতে শেখানো তাত্ত্বিক বিষয়গুলো বাস্তব জীবনে কতটা কার্যকর, তা দেখা অনেক সময় সম্ভব হয় না। এই অভাব পূরণে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দিনব্যাপী আয়োজন করা হয় শিল্প পরিদর্শন কর্মসূচির।
৬ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) দুই দিনব্যাপী রোবো কার্নিভাল ২০২৬ উদ্দীপনা ও প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জমকালো পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটে।
৭ ঘণ্টা আগে