Ajker Patrika

ক্যানসারের ঝুঁকি মোকাবিলায় শিক্ষাজীবন থেকে সচেতনতা জরুরি

বিশ্ব ক্যানসার দিবস

মো. আশিকুর রহমান
ক্যানসারের ঝুঁকি মোকাবিলায় শিক্ষাজীবন থেকে সচেতনতা জরুরি

বিশ্ব ক্যানসার দিবস ৪ ফেব্রুয়ারি। সারা বিশ্বে এই রোগ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনটি পালন করা হয়। বর্তমানে ক্যানসার দেশের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই রোগের ঝুঁকি এখন আর শুধু মধ্যবয়স কিংবা বার্ধক্যে সীমাবদ্ধ নেই। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সচেতনতার অভাবে তরুণসমাজও ক্যানসারের ঝুঁকিতে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, ক্যানসারের ৩০-৫০ শতাংশ ঝুঁকি প্রতিরোধযোগ্য। এ জন্য প্রয়োজন আগাম সচেতনতা; আর সেই সচেতনতার ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে শিক্ষাজীবন থেকে। ক্যানসার সচেতনতা ও ঝুঁকি মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য ও ক্যানসার প্রতিরোধ গবেষক ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবির। তাঁর সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত লিখেছেন মো. আশিকুর রহমান

খাদ্যাভ্যাসে সচেতন হলেই সুরক্ষা

দেশে ক্যানসারের প্রায় ৪০ শতাংশ ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে অনিরাপদ ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে। বাজারে প্রচলিত অনেক ফল, শাকসবজি, মসলা ও প্রক্রিয়াজাত খাবারে ভেজাল এবং রাসায়নিক ব্যবহারের মাত্রা উদ্বেগজনক। দীর্ঘদিন এসব খাদ্য খেলে মানবদেহে ধীরে ধীরে বিষক্রিয়া তৈরি হয়; যা লিভার, পাকস্থলী, কোলন ও হরমোনজনিত ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, প্রতিদিনের খাবার ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যের ভিত্তি তৈরি করে। সে কারণে শিক্ষাজীবন থেকে খাবার নির্বাচনে সচেতন হওয়া জরুরি। ফাস্ট ফুড, জাঙ্ক ফুড এবং অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব কমাতে হবে। এর পরিবর্তে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফলমূল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার রাখতে হবে। শিক্ষাজীবনে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে উঠলে আজীবন শরীরকে নানা রোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।

তামাকের সঙ্গে আপস নয়

ক্যানসারে আক্রান্তের প্রায় ৩০ শতাংশের জন্য তামাক ব্যবহার দায়ী। শুধু সিগারেট নয়; জর্দা, গুল, পান-মসলা এবং ই-সিগারেটও সমানভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। যারা অল্প বয়সে ধূমপানে অভ্যস্ত হয়, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করে। কৈশোরে শুরু হওয়া তামাকের আসক্তি দীর্ঘদিন শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং ভবিষ্যতে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। ক্যানসার প্রতিরোধে শিক্ষাজীবন থেকে তামাককে সম্পূর্ণভাবে ‘না’ বলতে হবে এবং তামাকমুক্ত জীবনধারা গড়ে তুলতে হবে।

স্ক্রিনে আটকে থাকা জীবন

বর্তমান শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ এখন স্ক্রিননির্ভর জীবনে অভ্যস্ত। মোবাইল ফোন, অনলাইন গেম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় কাটানোর ফলে খেলাধুলা ও শারীরিক পরিশ্রম কমে যাচ্ছে। এর প্রভাবে কিশোর বয়সে অতিরিক্ত ওজন এবং জীবনধারাজনিত নানা রোগ দেখা দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নিয়মিত খেলাধুলা ও সক্রিয় জীবনধারা গড়তে পারলে এই ঝুঁকি অনেকটা কমানো সম্ভব।

মানসিক সুস্থতাও জরুরি

পড়াশোনার চাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক প্রতিযোগিতা অনেক সময় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ শরীরের কোষীয় কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের মানসিক সুস্থতাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম, খেলাধুলা ও শারীরিক কার্যক্রম মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। সুস্থ মনই সুস্থ শরীরের ভিত্তি—এই উপলব্ধি শিক্ষাজীবন থেকে গড়তে পারলে ভবিষ্যতের বহু স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

পরিষ্কার পানি পান করা

শিক্ষার্থীদের উচিত প্রতিদিন নিরাপদ এবং পরিষ্কার পানি পান করা। দূষিত পানি শরীরে নানা রোগ সৃষ্টি করে। সুস্থ থাকতে পানি পানেও সচেতনতা জরুরি।

পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া

পরিবেশদূষণ দীর্ঘ মেয়াদে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তাই প্লাস্টিক ব্যবহার কমিয়ে আনা এবং বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনায় সচেতন আচরণ গড়তে পারলে ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটা কমানো সম্ভব।

প্রতিরোধে টিকার ভূমিকা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, এইচপিভি টিকা জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর। কিশোরী বয়সে এই টিকা গ্রহণ ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে পারে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন হওয়া জরুরি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এগিয়ে আসা

ক্যানসার প্রতিরোধ শুধু চিকিৎসাব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও এই উদ্যোগের অংশ করতে হবে। পাঠ্যক্রমে স্বাস্থ্য ও জীবনধারাবিষয়ক শিক্ষা, নিয়মিত স্বাস্থ্য সেমিনার এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিরোধমূলক মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়ক। ক্যানসার মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আগাম প্রস্তুতি ও সচেতন জীবনধারা। মানুষের খাদ্যাভ্যাস, জীবনধারা, শারীরিক কর্মকাণ্ড এবং ক্ষতিকর অভ্যাসের সূচনা হয় মূলত স্কুলজীবনেই। এই সময় গড়ে ওঠা অভ্যাসই পরবর্তী কয়েক দশক মানুষের স্বাস্থ্যের গতিপথ নির্ধারণ করে। শিক্ষাজীবন থেকে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে ক্যানসারসহ অসংখ্য জটিল অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

কুখ্যাত এপস্টেইন ফাইলে বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবি

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া অনন্য গাঙ্গুলীর মরদেহ উদ্ধার

‘সব খারিজ হবে, তুই খালি টাকা পাঠাবি’, ভূমি কর্মকর্তার ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল

ইরানে হামলা হতে পারে আজই, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সতর্ক করেছেন ট্রাম্প

বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ৭৪ শতাংশ বাড়াল ভারত

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত