Ajker Patrika

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসায় কড়াকড়ি, অবস্থানের সুযোগ সীমিত হচ্ছে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ১৩: ০৯
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসায় কড়াকড়ি, অবস্থানের সুযোগ সীমিত হচ্ছে
ফাইল ছবি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের অবস্থানের সময়সীমা ও ভিসা নবায়নের নিয়মে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়মানুযায়ী, ফেডারেল সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থীরা চার বছরের বেশি সময় দেশটিতে অবস্থান করতে পারবেন না।

একই সঙ্গে এক কোর্স থেকে অন্য কোর্সে পরিবর্তন কিংবা এক কলেজ থেকে অন্য কলেজে স্থানান্তরের সুযোগও সীমিত করা হচ্ছে। এত দিন পর্যন্ত এই ভিসা বৃদ্ধির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোই নিয়ন্ত্রণ করতে পারত।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নীতিমালার উদ্দেশ্য হলো—‘অনিয়ন্ত্রিত ভিসা অপব্যবহার রোধ এবং নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের (ভেটিং) মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা।’

তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদদের সংগঠনগুলো সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা একে "ভুল এবং অপ্রয়োজনীয়" পদক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছে।

এত দিন পর্যন্ত এফ-১ ক্যাটাগরির শিক্ষার্থী এবং জে-১ ক্যাটাগরির বিনিময় প্রোগ্রামের (এক্সচেঞ্জ ভিসা) আওতায় যারা যুক্তরাষ্ট্রে যেতেন, তারা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ সুবিধা পেতেন। এর অর্থ ছিল, কোর্স শেষ করতে যত বছরই লাগুক না কেন, শিক্ষার্থীরা আইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারতেন।

নতুন নিয়মে এই দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার অবসান ঘটিয়ে চার বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন বলেন, ‘কয়েক দশক ধরে বিদেশি শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর সুযোগ নিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী দেশে ফিরে যাওয়া এড়াতে বারবার নতুন নতুন কোর্সে ভর্তি হয়ে আমাদের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে।’

নতুন নীতিমালার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক:

গ্রেস পিরিয়ড হ্রাস: কোর্স সম্পন্ন করার পর দেশ ছাড়ার বা অন্য ভিসায় পরিবর্তনের জন্য আগে যেখানে ৬০ দিন সময় দেওয়া হতো, তা কমিয়ে এখন ৩০ দিন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন: এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রেডিট বা কোর্স স্থানান্তরের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি কড়া নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে উচ্চতর গবেষণার শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের স্নাতক পর্যায়ের বেশির ভাগ কোর্স চার বছরের হলেও পিএইচডি বা উচ্চতর গবেষণাভিত্তিক কোর্সগুলো সম্পন্ন করতে সাধারণত আরও বেশি সময় লাগে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) বিষয়ের শিক্ষার্থীরা গবেষণার জটিলতা, ফান্ডিং সংকট বা ব্যক্তিগত কারণে চার বছরের বেশি সময় ধরে গবেষণা চালিয়ে যান।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই এই ধরনের উচ্চতর কোর্সে ভর্তি হন। নতুন এই নিয়মের ফলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের উচ্চতর গবেষণার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও পরামর্শ সংক্রান্ত অলাভজনক সংস্থা ‘ন্যাফসা: অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস’ এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে।

সংস্থাটির নির্বাহী প্রধান ফান্টা আও এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কার্যকরভাবে চলে আসা একটি ব্যবস্থার মধ্যে এই নীতি জোরপূর্বক অনিশ্চয়তা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ভয় ঢুকিয়ে দিচ্ছে। এটি আসলে এমন একটি সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে, যার কোনো অস্তিত্বই নেই।’

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই ভিসা নীতি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন কমানো এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সীমিত করার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরই অংশ।

ইতিমধ্যেই মার্কিন প্রশাসন বেশ কয়েকটি প্রথম সারির অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সংখ্যার সীমা (ক্যাপ) নির্ধারণের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা বা বিতর্কিত রাজনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে অনেক শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিলের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত