Ajker Patrika

প্রস্তুতিতে এগিয়ে থাকবেন যেভাবে

মো. আরিফুল ইসলাম
প্রস্তুতিতে এগিয়ে থাকবেন যেভাবে
মো. আরিফুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

ইতিমধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা। ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের পথ এই পরীক্ষার মাধ্যমে অনেকাংশে নির্ধারিত হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মোট তিনটি ইউনিট। এগুলো হলো ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ ইউনিট। ‘সি’ ইউনিটে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত ও জীববিজ্ঞান থেকে প্রশ্ন করা হয়। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বিষয় নির্বাচন করে উত্তর দিতে হয়। রাবির ভর্তি পরীক্ষায় কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন এবং কোন বিষয়গুলোতে বেশি গুরুত্ব দেবেন, সে বিষয়ে কিছু পরামর্শ থাকছে।

কী পড়বেন?

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মূলত পাঠ্যবই থেকে প্রশ্ন করা হয়। পাশাপাশি কিছু প্রশ্ন তুলনামূলক উচ্চতর বা ধারণাভিত্তিক হতে পারে। তবে ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি নয়। যেসব প্রশ্নের উত্তর নিশ্চিতভাবে জানেন, সেগুলো নির্ভুলভাবে করার দক্ষতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমেই মূল বই ভালোভাবে পড়তে হবে। শুধু মুখস্থ না করে বুঝে পড়ুন। প্রতিটি বিষয়ের মৌলিক ধারণা পরিষ্কার করুন। তাহলে প্রশ্নের ভাষা বা ধরন বদলালেও ধারণা কাজে লাগিয়ে উত্তর দিতে পারবেন। কোনো টপিক বুঝতে সমস্যা হলে আগে তার মৌলিক ধারণা পরিষ্কার করুন। এরপরও কোনো অংশ কঠিন মনে হলে সেখানে অতিরিক্ত সময় না দিয়ে ভালো জানা অধ্যায়গুলো আরও শক্তিশালী করুন। কারণ ভর্তি পরীক্ষায় শতভাগ নম্বর পাওয়াই একমাত্র লক্ষ্য নয়। যতটা সম্ভব নির্ভুলভাবে ভালো নম্বর অর্জন করাই মূল লক্ষ্য।

মূল বইয়ের ছোট ছোট সংজ্ঞা, একক, সূত্র ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থেকেও সরাসরি প্রশ্ন আসতে পারে। পরীক্ষার হলে সাধারণত ক্যালকুলেটর ব্যবহারের সুযোগ থাকে না। তাই গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের হিসাব দ্রুত করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বড় হিসাবের ক্ষেত্রে মানসিক গণনা ও সহজ শর্টকাট পদ্ধতি অনুশীলন করতে পারেন।

পদার্থবিজ্ঞান: পদার্থবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ গাণিতিক সূত্রগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করুন। নিয়মিত চর্চাও করতে হবে। শুধু সূত্র মুখস্থ করলেই হবে না। কোন পরিস্থিতিতে কোন সূত্র প্রয়োগ করতে হবে, সেটিও বুঝতে হবে। পাশাপাশি গাণিতিক সমস্যা দ্রুত সমাধানের কৌশল অনুশীলন করুন।

রসায়ন: রসায়নের ক্ষেত্রে জৈব রসায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিন। বিভিন্ন বিক্রিয়া, বিক্রিয়ার শর্ত ও শনাক্তকরণ ভালোভাবে পড়ুন। মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম ও রাসায়নিক পরিবর্তনসংক্রান্ত অধ্যায়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে। এ ছাড়া অজৈব যৌগের প্রস্তুতি, বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার ভালোভাবে পড়ুন। গাণিতিক রসায়নের সমস্যাগুলোও নিয়মিত অনুশীলন করুন।

উচ্চতর গণিত: উচ্চতর গণিতে ক্যালকুলাস, ম্যাট্রিক্স, কনিক ও জটিল সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ। এসব অধ্যায়ের মৌলিক ধারণা পরিষ্কার করুন। পাশাপাশি দ্রুত সমাধানের শর্টকাট পদ্ধতি অনুশীলন করুন। তবে শর্টকাটের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করবেন না। মূল পদ্ধতিটিও ভালোভাবে বুঝে রাখুন।

জীববিজ্ঞান: জীববিজ্ঞানের প্রস্তুতিতে উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক নাম, বৈশিষ্ট্য ও শ্রেণিবিন্যাস ছক আকারে পড়তে পারেন। বিভিন্ন তন্ত্র, যেমন রক্তসংবহন, পরিপাক ও রেচনতন্ত্র থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ভালোভাবে পড়ুন। জিনতত্ত্ব ও বিবর্তনের মতো অধ্যায়েও বিশেষ মনোযোগ দিন।

গণিত, জীববিজ্ঞান নাকি দুটিই?

গণিত ও জীববিজ্ঞানের মধ্যে কোনটি নির্বাচন করবেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। শুধু গণিত নির্বাচন করলে জীববিজ্ঞানসংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ে পছন্দ দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। আবার শুধু জীববিজ্ঞান নির্বাচন করলে গণিতসংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় পছন্দের তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে। তাই গণিত ও জীববিজ্ঞান দুটিই যদি মোটামুটি ভালো থাকে, তাহলে উভয় বিষয় রাখার মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে বেশি বিষয়ে পছন্দ দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। তবে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কোন বিষয়ে কোন বিষয় নির্বাচন বাধ্যতামূলক এবং সংশ্লিষ্ট আসনসংখ্যা কত, তা অবশ্যই অফিসিয়াল ভর্তি বিজ্ঞপ্তি থেকে নিশ্চিত হয়ে নেবেন।

গণিতে খুব দুর্বল, কিন্তু জীববিজ্ঞানে ভালো হলে জীববিজ্ঞানকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে। আবার জীববিজ্ঞান একেবারেই ভালো না হলে গণিত বেছে নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারেন। তবে যে বিষয়ই নির্বাচন করুন, পরীক্ষার আগে সেটিতে পর্যাপ্ত অনুশীলন থাকা জরুরি।

মো. আরিফুল ইসলাম, শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত