
ইন্দোনেশিয়ায় বৃত্তির স্টাইপেন্ড দিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি সঞ্চয়ও করা যায়। বৃত্তি পেলে কোনো টিউশন ফি দিতে হয় না। ইন্দোনেশিয়ার টেলকম ইউনিভার্সিটিতে ডিজাইনপ্রেনার বিষয়ে ব্যাচেলর করছেন নূরমোহাম্মদ মিনহাজ। তিনি পেয়েছেন ফুল ফান্ডেড সরকারি কেএনবি স্কলারশিপ। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নাদিম মজিদ।
ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি দেশ। প্রথমত, এখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০ শতাংশ বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। দ্বিতীয়ত, দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান দিন দিন উন্নত হচ্ছে। বিশ্বের সেরা ১ হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ইন্দোনেশিয়ার ১০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা করে নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানীয় ইউনিভার্সিটি অব ইন্দোনেশিয়া বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ২০০-এর মধ্যে অবস্থান করছে। তাই উন্নত শিক্ষার পরিবেশ ও পূর্ণ অর্থায়নে বৃত্তির সুবিধার কারণে যেকোনো শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য ইন্দোনেশিয়াকে বেছে নিতে পারেন।
এখানকার সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইন্দোনেশিয়ান ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যমেও পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। খরচের বিষয়টি নির্ভর করে বৃত্তি ও বিষয়ের ওপর। বৃত্তি ছাড়া নিজ খরচে পড়তে চাইলে টিউশন ফি বাবদ প্রতি সেমিস্টারে দেড় থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হবে। তবে বৃত্তি পেলে কোনো টিউশন ফি দিতে হয় না।
ইন্দোনেশিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় বৃত্তি রয়েছে। যেমন—
১. কেএনবি স্কলারশিপ: এটি ইন্দোনেশিয়া সরকারের অন্যতম পরিচিত পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি। আমিও এটি পেয়েছি। এতে রাউন্ড-ট্রিপ বিমান টিকিট, সম্পূর্ণ টিউশন ফি, ভিসা ও স্টুডেন্ট পারমিট ফি, স্বাস্থ্যবিমা এবং জীবনযাত্রার জন্য আকর্ষণীয় মাসিক স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়।
২. দারমাসিসওয়া স্কলারশিপ: এটি মূলত এক বছর মেয়াদি ইন্দোনেশিয়ান ভাষা ও সংস্কৃতি শেখার কোর্স। এতে বিমানের টিকিট ছাড়া টিউশন ফি, ভিসা ফি, মাসিক স্টাইপেন্ডসহ প্রায় সব সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকে।
৩. টিআইএএস স্কলারশিপ: এই স্কলারশিপেও অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। তবে টিআইএএস পাওয়ার জন্য কিছু বিশেষ শর্ত রয়েছে। যেমন আবেদনকারীর অন্তত দুই বছরের সরকারি চাকরি বা স্বীকৃত কোনো ভালো প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। এটি মূলত প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতাসম্পন্নদের অগ্রাধিকার দেয়।
৪. ইউনিভার্সিটি-স্পেসিফিক স্কলারশিপ: বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়; যেমন টেলকম ইউনিভার্সিটি, ইউআই, আইটিবি নিজস্ব অর্থায়নে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফুল বা পার্শিয়াল স্কলারশিপ দিয়ে থাকে।
সাধারণত প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে সরকারি পোর্টালগুলোতে এসব স্কলারশিপের সার্কুলার প্রকাশ করা হয়।
এখানকার জীবনযাত্রার খরচ অনেকটা আমাদের ঢাকার মতো। নিজে রান্না করে খেলে বাসাভাড়া ও খাওয়াদাওয়া মিলিয়ে মাসে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা হলেই খুব ভালোভাবে চলা সম্ভব। আর কেএনবি বা অন্য ভালো বৃত্তিতে প্রতি মাসে বাংলাদেশি টাকায় ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্টাইপেন্ড বা অ্যালাউন্স পাওয়া যায়। যেহেতু থাকা-খাওয়ায় মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়, তাই বৃত্তির স্টাইপেন্ড দিয়ে একজন শিক্ষার্থী স্বচ্ছন্দে নিজের খরচ চালিয়েও ভালো অঙ্কের টাকা সঞ্চয় করতে পারেন।
প্রথমত, সব অ্যাকাডেমিক সনদ ও মার্কশিট শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইন্দোনেশিয়ান এম্বাসি অথবা অ্যাপোস্টাইলের মাধ্যমে সত্যায়িত করে প্রস্তুত রাখতে হবে। পাশাপাশি ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আইইএলটিএস বা টোয়েফল স্কোর থাকতে হবে। আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে বৈধ পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য বা ফিটনেস সার্টিফিকেট, স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি) বা মোটিভেশন লেটার এবং পূর্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের রেকমেন্ডেশন লেটার।
আবেদনের ক্ষেত্রে কেএনবিতে আন্ডারগ্র্যাজুয়েটের জন্য সাধারণত সর্বোচ্চ ২৫ বছর এবং মাস্টার্সের জন্য ৩৫ বছর বয়সসীমা থাকে। পড়াশোনার জন্য স্টুডেন্ট পারমিট ও ভিসা লাগে, যা স্কলারশিপ পেলে বিশ্ববিদ্যালয় ও ইমিগ্রেশন বিভাগ নিজ উদ্যোগে প্রসেস করে দেয়।
এখানে প্রায় সব বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স, বিজনেস, আইটি, অ্যাকাউন্টিং, মেডিকেলের পাশাপাশি আধুনিক ডিজাইন, অ্যানিমেশন ও প্রযুক্তিনির্ভর নানা বিষয়ে পড়া যায়। কেএনবি বৃত্তি পাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মূল ডিগ্রি শুরু করার আগে প্রথম এক বছর বাধ্যতামূলকভাবে ইন্দোনেশিয়ান ভাষা কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। এটি স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।
খণ্ডকালীন চাকরির বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে শিক্ষার্থীর নিজের দক্ষতার ওপর নির্ভর করে। তবে স্কলারশিপ নিয়ে এলে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুযায়ী অফিশিয়াল চাকরি করার সুযোগ থাকে না। আর যাঁরা নিজ খরচে বা স্কলারশিপ ছাড়া পড়তে আসেন, তাঁরা কাজ করতে পারলেও সেটি সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে ও প্রচেষ্টায় খুঁজে নিতে হয়। তবে ভাষাগত ও আইনি কাঠামোর কারণে পার্টটাইম কাজ পাওয়া কিছুটা কঠিন।
পড়াশোনা শেষে এখানে স্থানীয় চাকরির বাজারে ক্যারিয়ার গড়া পুরোপুরি প্রার্থীর নিজস্ব বিশেষ দক্ষতা ও ভাষায় দখলের ওপর নির্ভর করে। তবে এখান থেকে ডিগ্রি শেষ করে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া বা অন্য উন্নত দেশে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির জন্য যাওয়া তুলনামূলক সহজ হয়ে যায়।
ইন্দোনেশিয়ায় আসার পর আপনার বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এখানকার খাবার। এখানকার মিষ্টি-ঝাল ও ঝালপ্রধান রন্ধনশৈলী আমাদের দেশের মতো নয়। তাই শুরুতে মানিয়ে নেওয়া কঠিন ছিল। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ ছিল ভাষাগত বাধা। তবে ইন্দোনেশিয়ার মানুষ অত্যন্ত নম্র, মার্জিত ও সহযোগিতাপরায়ণ হওয়ায় ভাষা এবং পরিবেশের সঙ্গে খুব দ্রুতই মানিয়ে নিতে পেরেছি।
ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটি খুব বেশি বড় নয়। বেশির ভাগ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। তবে পড়াশোনার পাশাপাশি কিছু বাংলাদেশি ব্যবসায়ী পোশাক খাত, ই-কমার্স, রেস্টুরেন্ট এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত আছেন। বাংলাদেশিদের মূল উপস্থিতি দেখা যায় রাজধানী জাকার্তা, বান্দুং, সুরাবায়া, যোগ্যকার্তা ও বালিতে।
১. আইইএলটিএস বা টোয়েফলে ভালো স্কোর: ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা থাকলে আবেদনে অনেক এগিয়ে থাকা যায়।
২. দক্ষতা উন্নয়ন ও পোর্টফোলিও: নিজের পছন্দের বিষয়ের ওপর বিশেষ দক্ষতা, পূর্ব অভিজ্ঞতা বা পোর্টফোলিও থাকলে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
৩. ভালো ফল ও কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা: অ্যাকাডেমিক ফল ভালো রাখার পাশাপাশি মোটিভেশন লেটার, রেকমেন্ডেশন লেটার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগেই সত্যায়িত করে প্রস্তুত রাখা উচিত।
৪. সরাসরি ও বিনা মূল্যে আবেদন: কোনো থার্ড-পার্টি এজেন্সি বা দালালের মাধ্যমে না গিয়ে ইন্দোনেশিয়ান সরকারের অফিশিয়াল পোর্টাল, যেমন কেএনবি পোর্টাল, থেকে সরাসরি বিনা মূল্যে অনলাইনে আবেদন করা ভালো।

মাথার ওপরে নীল আকাশ, সাদা মেঘের ভেলা। আর নিচে বাতাসের দোলায় দুলছে সাদা কাশফুল। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পাশ দিয়ে হাঁটলেই চোখে পড়ে এই দৃশ্য। লালমাটির বুকে সাদা কাশের শিষ যেন আমাদের শরতের বার্তা জানিয়ে দিচ্ছে।
২ ঘণ্টা আগে
জার্মানির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব বার্লিনে ২০২৭ সালের শীতকালীন শিক্ষাক্রমে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থী, স্নাতক ও পেশাজীবীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন। জানুয়ারি ২০২৭-এ বিভিন্ন বিষয়ে স্বল্পমেয়াদি নিবিড় কোর্স আয়োজন করবে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এসব কোর্সে সরাসরি ক্যাম্পাস....
২ ঘণ্টা আগে
চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন অনেক শিক্ষার্থী। প্রতিযোগিতা বেশি হওয়ায় শুরু থেকে পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত একটি মেডিকেল কলেজের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ...
৩ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রেলিয়ার দ্য ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের একাডেমিক বোর্ডে পোস্টগ্র্যাজুয়েট রিসার্চ স্টুডেন্ট মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি গবেষক মো. রবিউল আলম। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে এক বছরের জন্য তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন। ছয়জন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে একাডেমিক...
৪ ঘণ্টা আগে