Ajker Patrika

স্যাট কী কেন দেবেন জানুন বিস্তারিত

আব্দুর রাজ্জাক খান
স্যাট কী কেন দেবেন জানুন বিস্তারিত
ছবি: মাহতাব হোসেন

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় স্নাতক পর্যায়ে পড়ার স্বপ্ন দেখেন অনেক শিক্ষার্থী। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন হয় একাডেমিক প্রস্তুতি ও যোগ্যতার প্রমাণ। আর সেই যোগ্যতা যাচাইয়ের অন্যতম স্বীকৃত মাধ্যম হলো স্যাট পরীক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য শিক্ষার্থীরা কতটা প্রস্তুত, তা মূল্যায়ন করা হয় এই পরীক্ষার মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির আবেদনের সঙ্গে স্যাট স্কোর জমা নেয়। মেধাভিত্তিক বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রেও ভালো স্যাট স্কোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কী এই স্যাট, কেন এটি দিতে হয়, কত স্কোর প্রয়োজন এবং কীভাবে নিবন্ধন করতে হয়, জানুন বিস্তারিত। লিখেছেন আব্দুর রাজ্জাক খান

স্যাট কী, কেন দিতে হয়

স্যাট (SAT)-এর পূর্ণরূপ Scholastic Assessment Test। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি মানসম্মত পরীক্ষা, যা মূলত উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য এ পরীক্ষার স্কোর বিবেচনা করে। স্যাটের মাধ্যমে মূলত শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষা ও গণিত বিষয়ে দক্ষতা যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য তারা কতটা প্রস্তুত, সেটিও মূল্যায়ন করা হয়। বিশেষ করে মেধাভিত্তিক বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে ভালো স্যাট স্কোর বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

কোথায়, কখন এবং কত ফি

বাংলাদেশে ঢাকাসহ কয়েকটি অনুমোদিত পরীক্ষাকেন্দ্রে স্যাট অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত বছরে একাধিকবার এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে মোট আটটি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। স্যাট নিবন্ধনের মূল ফি ৬৮ মার্কিন ডলার এবং আন্তর্জাতিক ফি ৪৩ ডলার। অর্থাৎ মোট ফি ১১১ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ টাকার সমপরিমাণ।

ন্যূনতম কত স্কোর প্রয়োজন

স্যাটের পূর্ণমান ১৬০০। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভর্তির জন্য ভিন্ন ভিন্ন স্কোর চাওয়া হয়। সাধারণভাবে শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তি এবং পূর্ণ বা উচ্চমাত্রার বৃত্তি পেতে ১৫০০ বা তার বেশি স্কোর প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে ধরা হয়। ১৪০০-এর বেশি স্কোর থাকলেও বিশ্বের অনেক স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা যায়। এমনকি ১৩০০-এর বেশি স্কোর নিয়েও বিভিন্ন ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ রয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে প্রয়োজনীয় স্কোর নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নীতিমালা, প্রতিযোগিতা এবং আবেদনকারীর সামগ্রিক প্রোফাইলের ওপর। উদাহরণ হিসেবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের স্যাট স্কোর সাধারণত ১৪৬০-১৫৮০-এর মধ্যে, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৪০-১৫৭০ এবং এমআইটিতে ১৫২০-১৫৭০-এর মধ্যে থাকে।

কারা স্যাট দিতে পারে

সাধারণত বিদেশে স্নাতক পর্যায়ে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীরাই স্যাট দিয়ে থাকে। এসএসসি পাসের পর বা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যায়। সায়েন্স, কমার্স কিংবা আর্টস—সব বিভাগের শিক্ষার্থীরাই স্যাট দিতে পারে। এ পরীক্ষার মাধ্যমে মূলত ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের দক্ষতা যাচাই করা হয়। স্যাট একাধিকবার দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে পরীক্ষার খরচ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে অংশ নেওয়াই ভালো। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় স্যাটের বিকল্প হিসেবে এসিটি স্কোরও গ্রহণ করে থাকে।

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা

আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্যাট পরীক্ষার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করেছে কলেজ বোর্ড। নতুন পরীক্ষাচক্রে ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত মোট আটটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম পরীক্ষা হবে ২২ আগস্ট ২০২৬। এ পরীক্ষায় অংশ নিতে ৭ আগস্টের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। তথ্য সংশোধন বা বিলম্বিত নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে ১১ আগস্ট পর্যন্ত। এ শিক্ষাবর্ষে পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে ২২ আগস্ট, ১২ সেপ্টেম্বর, ৩ অক্টোবর, ৭ নভেম্বর ও ৫ ডিসেম্বর ২০২৬ এবং ৬ মার্চ, ১ মে ও ৫ জুন ২০২৭। প্রতিবছর দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজারো শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ পরীক্ষায় অংশ নেয়।

যেভাবে পরীক্ষা দিতে হয়

বর্তমানে স্যাট সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয় এবং পরীক্ষার্থীদের ব্লুবুক অ্যাপের মাধ্যমে পরীক্ষা দিতে হয়। ব্যক্তিগত ডিভাইস না থাকলে কলেজ বোর্ডের ডিভাইস লেন্ডিং প্রোগ্রামের সুবিধা নেওয়া যায়। স্যাট পরীক্ষার জন্য প্রথমে কলেজ বোর্ডের ওয়েবসাইটে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। এরপর ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করে পাসপোর্ট অনুযায়ী নাম লিখতে হয় এবং প্রয়োজনীয় ছবি আপলোড করতে হয়। নির্ধারিত ফি পরিশোধের পর পরীক্ষার কেন্দ্র ও তারিখ নির্বাচন করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়। নিবন্ধনের পর প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যায়, যেখানে পরীক্ষার সময়, কেন্দ্র এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা উল্লেখ থাকে।

পরীক্ষার কাঠামো

স্যাট পরীক্ষাটি দুটি অংশে বিভক্ত। Evidence-Based Reading and Writing অংশে ৫৪টি প্রশ্নের উত্তর ৬৪ মিনিটে দিতে হয়। এতে পাঠ-অনুধাবন, শব্দভান্ডার, ব্যাকরণ ও লেখন-সম্পর্কিত প্রশ্ন থাকে। অন্যদিকে গণিত অংশে ৪৪টি প্রশ্নের উত্তর দিতে সময় পাওয়া যায় ৭০ মিনিট। এ অংশে বহুনির্বাচনি প্রশ্নের পাশাপাশি কিছু প্রশ্নে নিজস্ব উত্তর দিতে হয়। পরীক্ষায় কোনো নেগেটিভ মার্কিং নেই। পুরো পরীক্ষার সময় ২ ঘণ্টা ১৪ মিনিট।

বিশেষ পরামর্শ

স্যাট নিবন্ধনের আগে পাসপোর্ট তৈরি করে নেওয়া উত্তম। কলেজ বোর্ডের অ্যাকাউন্ট, স্যাট নিবন্ধন এবং পাসপোর্ট এসব ক্ষেত্রে নামের বানান, জন্মতারিখসহ ব্যক্তিগত তথ্য অভিন্ন থাকা জরুরি। সামান্য তথ্যগত অমিলও পরীক্ষায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। কলেজ বোর্ড অনুযায়ী, ডিজিটাল স্যাট বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও মূল্যায়ন পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা আরও আধুনিক ও কার্যকর পরীক্ষার অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের পরিবারের যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার ফি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে।

বর্তমানে বিশ্বের ৪ হাজারের বেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্যাট স্কোর গ্রহণ করে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অন্য ইংরেজি ভাষাভাষী দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় স্নাতক ভর্তি ও স্কলারশিপের ক্ষেত্রে স্যাট স্কোর গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা থাকলে সময়মতো প্রস্তুতি নিয়ে স্যাট পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত