
কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীকে কোনো ধরনের শারীরিক শাস্তি দিতে পারবেন না। শিক্ষার্থীর প্রতি মানসিক নিপীড়নও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব বিধান লঙ্ঘন করলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। তবে শিক্ষার্থীর মঙ্গল বিবেচনায় কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার স্বার্থে শিক্ষক শিক্ষার্থীকে যৌক্তিক ও মানবিক শৃঙ্খলামূলক অনুশাসন দিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে বিষয়টি অভিভাবককে জানাতে হবে।
শিক্ষা আইন-২০২৬-এর খসড়ায় এসব বিধান রাখা হয়েছে। এই খসড়া গত রোববার রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে ই-মেইলের মাধ্যমে এ খসড়া আইনের ওপর মতামত জানাতে অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
খসড়ায় প্রাথমিক শিক্ষাকে সব শিশুর জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া আইন কার্যকরের তিন বা পাঁচ বছরের মধ্যে কোচিং সেন্টার স্থাপন এবং সহায়ক বই (নোট বা গাইডবই) প্রকাশের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নিষিদ্ধ করে নির্দিষ্ট কোনো আইন কার্যকর নেই। ২০১১ সালের ২১ এপ্রিল এক পরিপত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি রহিত করে। তবে ওই পরিপত্র জারির পরও বিভিন্ন সময় শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের পর ২০১১ সাল থেকে শিক্ষা আইন করার উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরবর্তী সময়ে আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়। মন্ত্রিসভার কয়েক দফা বৈঠকে উপস্থাপন হলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণসহ ফেরত পাঠানো হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালে শিক্ষাসংক্রান্ত সব আইন সমন্বয় করে নতুন করে শিক্ষা আইনের খসড়া তৈরির নির্দেশনা দেয় মন্ত্রিসভা। এরপর এটি আলোর মুখ দেখেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (নিরীক্ষা ও আইন অনুবিভাগ) জহিরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, সবার মতামত সংগ্রহের পর আন্তমন্ত্রণালয় সভার মাধ্যমে খসড়া আইনটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য পাঠানো হবে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, আইন প্রবর্তনের তিন অথবা পাঁচ বছরের মধ্যে কোচিং সেন্টার স্থাপন এবং সহায়ক বই (নোট বা গাইডবই) প্রকাশের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর আগে কোচিং সেন্টার, সহায়ক বই ও প্রাইভেট টিউশন নিয়ন্ত্রণে বিধিমালা প্রণয়ন করে এসব কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে নিরুৎসাহিত করা হবে।
খসড়া আইনে প্রাথমিক শিক্ষা প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০-এ প্রাথমিক স্তর প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত রাখার সুপারিশ ছিল। খসড়ায় সব শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করা এবং এটিকে শিশুর অধিকার হিসেবে গণ্য করার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা বিষয়ে খসড়া আইনে বলা হয়েছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি হবে মাধ্যমিক স্তর এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি হবে উচ্চমাধ্যমিক স্তর। মাধ্যমিক শিক্ষায় তিনটি ধারা থাকবে—সাধারণ শিক্ষা, মাদ্রাসা শিক্ষা এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা। কওমি শিক্ষার ক্ষেত্রে সরকার কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, শিক্ষা আইন-২০২৬ বাস্তবায়নের জন্য সরকার জাতীয় শিক্ষা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করবে। এই একাডেমি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষা গবেষণা, উদ্ভাবন, নীতিগত সহায়তা প্রদান, পাঠ্যক্রম মূল্যায়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকীকরণে সরকারকে পরামর্শ দেবে।
এ ছাড়া খসড়া আইনে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া) পরিদর্শন ও তদারকি, ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনা কমিটির পাঠদানে হস্তক্ষেপ না করা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি মেলার আয়োজন, মাতৃভাষার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি নম্বর চালুর কথা বলা হয়েছে।
খসড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষকদের জন্য নিজ নিজ ক্ষেত্রে গবেষণা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে কেন্দ্রীয় গবেষণাগার ও জাতীয় গবেষণা পরিষদ গঠনের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা, সৎসাহস ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধকরণ, সামাজিক ও ধর্মীয় চেতনা এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে খসড়ায়।
খসড়া শিক্ষা আইন সম্পর্কে মতামত জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, সঠিক ও বাস্তবসম্মতভাবে আইনটি প্রণয়ন করা গেলে দেশের শিক্ষায় বিদ্যমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির লাগাম টানা সম্ভব হবে।

উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের সৃজনশীল অংশের দুটি প্রশ্ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং বোর্ড কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে এটি পর্যালোচনা করছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
একই দিনে জন্ম, একই সঙ্গে বেড়ে ওঠা। একই বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায়ও বসেছিল তারা। দুজনই পেয়েছে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি। অনন্য এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার মায়মুনা আক্তার ও মুনতাহা আক্তার।
১৮ ঘণ্টা আগে
বৃষ্টি হলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে পানি জমে যায়। শুধু তাই নয়, জমে থাকা পানির সঙ্গে পাশের সুয়ারেজ ও ওয়াশরুমের লাইনও মিশে যায় বলে অভিযোগ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতা ও মাঠ সংস্কারে প্রশাসনের বিলম্বের প্রতিবাদে...
১৯ ঘণ্টা আগে
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১৩ জুলাই (সোমবার) থেকে বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারি ঘোষণা করা হলো। একই সঙ্গে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের আত্তীকরণ করা হবে। তবে তাঁদের চাকরি বদলিযোগ্য হবে না।
২০ ঘণ্টা আগে