Ajker Patrika

বসতভিটা না থাকা সেই মিশন আচার্যের চাকরির জট খুলল

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ৫৫
বসতভিটা না থাকা সেই মিশন আচার্যের চাকরির জট খুলল
মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। ছবি: ফেসবুক

স্থায়ী বসতভিটা বা নিজস্ব আবাসন না থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র আটকে থাকা মিশন আচার্যের নিয়োগের জট খুলেছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের হস্তক্ষেপের পর তাঁকে নিয়োগপত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদার) মো. রাশেদ খাঁন। এ সময় মিশনের নিয়োগপত্র আটকে থাকার বিষয়টি মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়। পরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সাক্ষাতের পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তোলা ছবি প্রকাশ করে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘মিশন আচার্য নিয়োগপত্র হাতে পেতে যাচ্ছে...মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’

মিশনের নিয়োগ আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষামন্ত্রী। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে কথোপকথনে তিনি জানতে চান, নিজস্ব আবাসন না থাকলে কাউকে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে না—এমন কোনো বিধান বা সার্কুলার আছে কি না। অডিওতে মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘আবাসন না থাকলে আপনারা বানিয়ে দেবেন। কোন কনস্টিটিউশনে লেখা আছে, আবাসন না থাকলে চাকরি দেওয়া যাবে না?’

মিশনকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে অধিদপ্তর কোন নিয়ম অনুসরণ করেছে, সেটিও জানতে চান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যার জায়গা-জমি নেই, সে শিক্ষক হতে পারবে না—এটা কি কোথাও লেখা আছে?’ এ বিষয়ে অধিদপ্তরের মতামতের কাগজ দেখতে চান তিনি।

‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫’-এ চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়ে মেধার ভিত্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হন মিশন। একই সময়ে সুপারিশ পাওয়া ১৮২ জনের মধ্যে ১৮০ জন নিয়োগপত্র পেলেও স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত না হওয়ায় মিশনের নিয়োগপত্র আটকে যায়।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় বেড়ে ওঠেন মিশন। চাকরির আবেদনে তিনি ওই ঠিকানা ব্যবহার করেন। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত না হওয়ায় তাঁর নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। তবে পুলিশি যাচাইয়ে কলাবাগানের ওই ঠিকানায় তাঁর বসবাসের তথ্য সঠিক পাওয়া যায়।

মিশনের জন্মের আগেই তাঁর বাবা নন্দ আচার্য পরিবার ছেড়ে চলে যান। এরপর মা ময়না আচার্য গৃহপরিচারিকার কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেন। আর্থিক সংকটের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে মিশন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

মিশনের নানা বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পণ্ডিতপুর গ্রামে। সেখানে তাঁদের নিজস্ব বাড়ি নেই। ২০২২ সালে তাঁর এক মামা তাঁকে দুই শতক জমি লিখে দেন। চাকরি পাওয়ার পর ওই জমিতে ঘর তুলে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা ছিল মিশনের।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত