Ajker Patrika
সাক্ষাৎকার

মা-বাবাকে ভালো কিছু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম: মেডিকেলে প্রথম শান্ত

মা-বাবাকে ভালো কিছু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম: মেডিকেলে প্রথম শান্ত

ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছা থেকে হঠাৎ ডাক্তার হওয়ার সিদ্ধান্ত। তারপর দিন-রাত এক করে প্রস্তুতি। আর ফলাফল? মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ৯১ দশমিক ২৫ নম্বর পেয়ে দেশসেরা। বলছি নরসিংদীর বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের খামারের চর গ্রামের সন্তান জাহাঙ্গীর আলম শান্তর কথা। এসএসসিতে জিপিএ-৫, এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পান তিনি। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধাতালিকায় প্রথম। আজকের পত্রিকার পডকাস্টে এসে তাঁর সফলতার পেছনের গল্প বলেছেন তিনি। লিখেছেন আব্দুর রাজ্জাক খান

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৬, ১৪: ৩৭

সম্প্রতি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছেন, সামনে শুরু হচ্ছে ক্লাস—কেমন লাগছে?

উত্তর: সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া। দেশের এত শিক্ষার্থীর মধ্যে থেকে তিনি আমাকে বেছে নিয়েছেন। প্রথম হওয়া পড়াশোনার পাশাপাশি আল্লাহর রহমতেরও ফল।

কখনো ভেবেছিলেন প্রথম হবেন, নাকি এমন জেদ কাজ করেছিল?

উত্তর: পরীক্ষার আগে ভাবিনি যে প্রথম হব। কিন্তু পরীক্ষার পর বিভিন্ন কোচিংয়ের সঙ্গে উত্তর মিলিয়ে দেখলাম, ৯২-৯৩টি সঠিক হতে পারে। বন্ধুদের জানালে তারা বলল, ‘তুই তো প্রথম হয়ে যেতে পারিস’। তখন ভেতরে আশা কাজ করছিল, হয়তো প্রথম হতে পারি।

প্রথম হওয়ার খবর পেয়ে অনুভূতি কেমন ছিল?

উত্তর: ফল প্রকাশের দিন বেলা ২টা থেকেই ফল জানার চেষ্টা করছিলাম। বিকেল ৫টায় ওয়েবসাইটে দেখলাম, প্রথমে চোখ পড়ে মেরিট পজিশনে। প্রথম দেখায় কিছুই বুঝতে পারিনি। কী করব এখন! তারপর আবার রিফ্রেশ ও সার্চ করে দেখলাম নিশ্চিত প্রথম। তখন আমার সঙ্গে মামা ও বন্ধুরা ছিল। আমি তাদের বললাম, ‘আমি তো প্রথম হয়েছি।’ এক বন্ধু কান্না শুরু করল, ওর কান্না দেখে আমিও কেঁদে ফেললাম।

আপনার অনুপ্রেরণা কে ছিলেন? কাকে বেশি পাশে পেয়েছেন?

উত্তর: সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আমার মা-বাবা। আমি তাঁদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি ভালো কিছু করার। প্রথমে বলেছিলাম, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ব। মা-বাবা কখনো বলেননি, ‘তুই ইঞ্জিনিয়ারি কেন পড়বি, মেডিকেল কেন নয়? পরে যখন বললাম, মেডিকেল আমার জন্য ভালো হবে, তখনো তাঁরা সমর্থন দিয়েছিলেন। এই প্রতিশ্রুতির জায়গা থেকে আমি সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা পেয়েছি।

আপনি তো একসময় ইঞ্জিনিয়ার হতে চেয়েছিলেন, হঠাৎ ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা কেন জাগল?

উত্তর: ছোট থেকে মা-বাবা বলতেন, এমন একটি পেশা বেছে নিতে, যা দিয়ে মানুষের সেবা করা যায়। ইঞ্জিনিয়ার হয়ে মানুষের সেবা করা যায়, ডাক্তার হয়ে আরও সরাসরি সেবা করা যায়। দেশের ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি অনুযায়ী মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাই আমার জন্য সঠিক মনে হয়েছিল। ডাক্তাররা সরাসরি মানুষের সেবা করতে পারেন—এ কারণেই ডাক্তারি পেশা বেছে নিয়েছি।

এক ইন্টারভিউতে বলেছিলেন, ‘চান্স না পেলে বাড়ি ফিরব না।’ এটি কি আত্মবিশ্বাস ছিল, নাকি ভয় থেকে?

উত্তর: এটি ছিল আমার আত্মবিশ্বাস। সঙ্গে জেদও ছিল। আমি একটি লক্ষ্য নিয়েছিলাম, সেটি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি ফিরব না। এটি মূলত জেদ থেকেই।

কখনো মনে হয়েছে, ‘আমি আর পারব না?’ বা কান্না পেয়েছে? তখন কীভাবে নিজেকে সামলাতেন?

উত্তর: হতো সাময়িকভাবে। তবে আমি বিশ্বাসী ছিলাম। আমার মনে হতো, আমি যদি চেষ্টা করি, সর্বোচ্চ পরিশ্রম করি, তাহলে অবশ্যই পারব।

বন্ধুরা ঘুরতে যেত, আপনার কি ইচ্ছা করত না? তখন কীভাবে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতেন?

উত্তর: এসএসসির আগে আমি গ্রামের বাড়িতে থাকতাম। কলেজে ওঠার পর শহরে চলে আসি এবং সরকারি বিজ্ঞান কলেজে ভর্তি হই। তখন আমার বন্ধুরা মূলত গ্রামের বাড়িতেই থাকত, শহরে খুব বেশি বন্ধু ছিল না। তাই ঘোরাঘুরি বা আড্ডা তেমন হতো না। পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়েছিল। শুরু থেকে আমি ফোকাসড ছিলাম। কারণ, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে হলে মনোযোগ দিতেই হতো।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন?

উত্তর: একাডেমিকে অনলাইনে পড়ার জন্য মোবাইল ফোন অবশ্যই ব্যবহার করতে হতো। তবে এইচএসসির শুরুতে সময় অনেক নষ্ট হতো। তাই আমি ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাকটিভেট করেছিলাম এবং সামাজিক মাধ্যমের অ্যাপগুলো মুছে দিয়েছিলাম।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নৌ-পুলিশপ্রধানসহ পুলিশের ৫ অতিরিক্ত আইজিপিকে বাধ্যতামূলক অবসর

ইরানি তেলের ডিপোতে হামলার পর ইসরায়েলকে ‘হোয়াট দ্য ফা**’ বার্তা পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র

জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান: ড্রোন-হেলিকপ্টার থেকে নজরদারি, আটক ও অস্ত্র উদ্ধার

ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ নেতাকে জেলগেটে বরণ করলেন বিএনপির এমপি

নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় চান প্রতিমন্ত্রী, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কমিটি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত