ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ভর্তি পরীক্ষায় সফলতার কৌশল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। শুধু বেশি পড়লেই ভালো ফল আসে না। কী পড়বেন, কীভাবে পড়বেন এবং সময় কীভাবে কাজে লাগাবেন, তা জানাই আসল। এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ‘বি’ ইউনিটে ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে প্রথম এবং ‘সি’ ইউনিটে ১৬তম হওয়া মো. আশিকুজ্জামান।
বর্তমানে অর্থনীতি বিভাগে চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন।

শুরুটা যেভাবে
কলেজে থাকতে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ধারণা ছিল খুব কম। কোচিং সেন্টারগুলো আগেভাগে প্রস্তুতির পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু আশিকুজ্জামান তখন এইচএসসির পড়াতেই ডুবে ছিলেন। এই ময়দানে নেমে বুঝলেন, ভুলটা কত বড় ছিল। তবু হাল ছাড়েননি। আত্মবিশ্বাস আর জেদ নিয়ে শুরু করলেন একদম গোড়া থেকে।
সাফল্যের মূলমন্ত্র
অধ্যবসায় ও নিয়মানুবর্তিতা একে অপরের পরিপূরক। নিয়ম ছাড়া অধ্যবসায় টেকে না। অধ্যবসায় ছাড়া নিয়মও সর্বোচ্চ ফল দেয় না। তাই স্বল্প সময়কে নিয়মের বেড়ায় বেঁধে ফেলুন। অগোছালো কিছুই সুন্দর নয়।
বিষয়ভিত্তিক পরামর্শ
বাংলা: ‘বি’ ইউনিটে বাংলা বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্য ইউনিটের চেয়ে এখানে প্রশ্ন কঠিন হয়। এইচএসসির বোর্ড বই, ব্যাকরণ ও নির্মিতি ভালো করে আয়ত্ত করুন। লিখিত পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি খারাপ করার আশঙ্কা থাকে। নিয়মিত চর্চা করলে তা কাটানো যায়। বাজারের যেকোনো প্র্যাকটিস বই সহায়ক হবে।
ইংরেজি: ‘সি’ ইউনিটে বহুনির্বাচনিতে ইংরেজিতে আলাদা করে পাস করতে হয়। তারপরই অন্য বিষয় যাচাই হয়। বি ইউনিটেও ইংরেজি সমান জরুরি। বোর্ড বই, গ্রামার ও ভোকাবুলারি মন দিয়ে পড়ুন। লিখিত অংশের চর্চাও চালিয়ে যান।
সাধারণ জ্ঞান: সাম্প্রতিক বিষয়ে নজর রাখুন। রোজ পত্রিকা পড়া কঠিন হলে একটি কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স বই কিনুন। সাধারণ জ্ঞানের জন্য একটি ভালো বই অনুসরণ করাই যথেষ্ট।
জরুরি কিছু কথা
- সময় নষ্ট করবেন না।
- দিনের পড়া দিনে, সপ্তাহের পড়া সপ্তাহে শেষ করুন। পরে পড়ব ভাবলে সময় মিলবে না।
- পর্যাপ্ত ঘুমান, তিন বেলা খান। অসুস্থ শরীরে পড়া এগোয় না।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকুন। সম্ভব হলে এই সময়ে ফোন থেকেও বিরতি নিন।
- হতাশা এলেও শেষ দিন পর্যন্ত সর্বোচ্চটা দিন। আফসোসের চেয়ে সান্ত্বনা অনেক সহনীয়।
রুটিন যেমন হবে
রুটিন বানান নিজের সুবিধামতো। একটি বিষয় নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা চলবে না। টপিক শেষ হলে বিষয় বদলান। যেমন, সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা বাংলা, এরপর সাড়ে ১০টা থেকে ১২টা সাধারণ জ্ঞান। প্রতিটি বিষয়ে দিন দেড় ঘণ্টা করে।
পড়ার বিশেষ কৌশল
১. প্রশ্নব্যাংক বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ টপিক বের করুন। সেগুলোতে বেশি সময় দিন। বিগত বছরের প্রশ্নও সমাধান করুন।
২. রাত জাগতে ভালো লাগলে রাতে পড়ুন। ভোরে উঠতে পছন্দ হলে ভোরে।
৩. সপ্তাহের শেষে পুরো সপ্তাহের পড়া ঝালিয়ে নিন।
৪. প্রতিদিন লিখিত পরীক্ষার চর্চা করুন। খাতায় নির্দিষ্ট জায়গার মধ্যেই উত্তর লিখতে হয়। তাই উদ্দীপকের উত্তর, শূন্যস্থান, বাক্য গঠন, সারাংশ, সারমর্ম ও ইংরেজি রচনা ভালো করে শিখুন।
৫. বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রশ্নব্যাংক কিনুন। বাংলা, ইংরেজি (সাহিত্য বাদে) এবং জাতীয়-আন্তর্জাতিক সাধারণ জ্ঞান সমাধান করুন।
নতুনদের জন্য ৫ পরামর্শ
১. লক্ষ্য শুরু থেকে স্পষ্ট রাখুন। শেষ দিন পর্যন্ত লেগে থাকুন।
২. অন্যের সঙ্গে তুলনা নয়। প্রতিদিন নিজেকে
আগের দিনের চেয়ে একটু এগিয়ে নিন।
৩. গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আগে আয়ত্ত করুন। নিয়মিত রিভিশন দিন।
৪. হতাশা, ভয় বা খারাপ মক টেস্ট যেন
আত্মবিশ্বাস কেড়ে না নেয়। ভুল থেকে শিখে আবার শুরু করুন।
৫. সর্বোচ্চটা দিন। ফল যা-ই হোক, পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে যেন নিজের কাছে কোনো অভিযোগ না থাকে।
পরীক্ষার হলে পাঁচ কৌশল
১. প্রথমে পুরো প্রশ্নপত্রে চোখ বুলিয়ে নিন। এরপর স্বচ্ছন্দ অংশ থেকে দাগানো শুরু করুন, বাংলা হোক বা সাধারণ জ্ঞান। মডেল টেস্ট দিলে নিজের পছন্দ বুঝবেন।
২. অনিশ্চিত প্রশ্নে সময় নষ্ট না করে এগিয়ে যান। সব দেখা শেষে ফিরে আসুন। নেগেটিভ মার্কিংয়ের কথা মাথায় রাখুন।
৩. সময়ের দিকে নজর রাখুন।
৪. কাউকে সাহায্য করবেন না। চোখ থাকুক নিজের খাতা ও প্রশ্নে।
৫. শুরুতেই রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর সাবধানে লিখুন। শেষ পাঁচ থেকে দশ মিনিটে উত্তরপত্রের সঙ্গে প্রশ্নের নম্বর মিলিয়ে নিন। রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরও আবার দেখুন।
সবার জন্য শুভকামনা।
গ্রন্থনা: মালিহা মেহনাজ









