রাহুল শর্মা, ঢাকা

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিদপ্তর। এমপিওভুক্ত ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতি বের করাই তাদের কাজ। অথচ সেই অধিদপ্তরেই চর্চা হচ্ছে নানা অনিয়ম, উঠছে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ।
ডিআইএর একাধিক শিক্ষা পরিদর্শক ও সহকারী শিক্ষা পরিদর্শকের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনে গিয়ে নিরীক্ষার নামে ‘অনৈতিক সুবিধা’ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম নামের এক সহকারী শিক্ষা পরিদর্শকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করা হয়েছে। পরিদর্শনে গিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. মকবুলার রহমান নামের এক শিক্ষা পরিদর্শকের বিরুদ্ধেও। এর বাইরে ডিআইএর আরও কয়েক কর্মকর্তা ও অডিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নিরীক্ষার নামে ‘ঘুষ’ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে কয়েকজন কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে সতর্কও করেছেন ডিআইএর পরিচালক।
এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ডিআইএর পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিআইএর প্রধান কাজ স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর বা সংস্থায় পরিদর্শন এবং নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা। পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা তুলে ধরা হয়। সে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। এসবের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু যাঁদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে তাঁদের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে থাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে শিক্ষা ক্যাডারে।
সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গত ১৪ ডিসেম্বর দুদকে করা অভিযোগে বলা হয়, সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের ভাগনে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডিআইএতে কর্মরত থেকে পরিদর্শনের নামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাঁর পারিবারিক কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য না থাকলেও তিনি নামে-বেনামে গড়েছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ।
মনিরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগে আরও বলা হয়, অবৈধ আয়ের টাকা হুন্ডির মাধ্যমে তিনি ভাইয়ের কাছে ইতালিতে পাঠান। তারপর সেই টাকা রেমিট্যান্স হিসেবে বৈধভাবে তাঁর ব্যাংক হিসাবে আনেন। এভাবে তিনি গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ভাইয়ের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা যায়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গত ২১ ডিসেম্বর মনিরুল ইসলাম বলেন, যে কেউই যে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারে। দুদক এ-সংক্রান্ত কোনো জবাব চাইলে তা দেওয়া হবে।
ডিআইএ সূত্রে জানা যায়, মনিরুল ইসলামকে সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল মজুমদার নিয়ন্ত্রিত মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের তদন্ত দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে তিনি শাহাজাহান খানের ভাগনে, এ পরিচয় জানাজানি হলে পরে তদন্ত দল থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়।
সূত্র আরও জানায়, মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। গত ১৯ থেকে ২৯ অক্টোবর এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
আরেক শিক্ষা পরিদর্শক মো. মকবুলার রহমানের বিরুদ্ধেও কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ১০টি শিক্ষা পরিদর্শনে গিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ২১ থেকে ২৯ জুলাই এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরীক্ষার সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে।
জানতে চাইলে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন মকবুলার রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ সত্য নয়।
মনিরুল ও মকবুলার ছাড়াও ডিআইএর আরও কয়েকজন কর্মকর্তা ও অডিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নিরীক্ষার নামে ‘ঘুষ’ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে কয়েকজন কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে সতর্কও করেছেন ডিআইএর পরিচালক।
এদিকে ডিআইএর পাঁচ কর্মকর্তার বদলি নিয়েও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ ৬ থেকে ৮ মাস ধরে কর্মরতদের বদলি করা হলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন ৭ বছর ধরে সহকারী পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম। ২০১৮ সালে ডিআইএতে যোগ দেন তিনি। এর আগে মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ৭ বছর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরে কর্মরত ছিলেন।
জানা যায়, চলতি মাসের শুরুতে ডিআইএতে কর্মরত পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। পরে অবশ্য একজনের বদলি স্থগিত করা হয়। বাকি চার কর্মকর্তার সবাই ৬ থেকে ৮ মাস ধরে ডিআইএতে কর্মরত ছিলেন।
এ বিষয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী আমলে পদায়ন পাওয়া কর্মকর্তাদের বদলি করা হলেও ডিআইএতে শুধু মনিরুল ইসলামই বহাল তবিয়তে আছেন। তিনি আরও বলেন, অনৈতিক উপায়ে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হওয়ায় সবাইকে ‘ম্যানেজ’ করে চলেন মনিরুল।
জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘হ্যাঁ এটা ঠিক, আমি দীর্ঘদিন ধরে ডিআইএতে কর্মরত। আমি কয়েকবার চেষ্টা করেছি বদলির জন্য।’
এর বাইরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘদিন ধরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে কর্মরত থাকা দুই সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মো. রোকনুজ্জামান ও মো. আজিম কবীরকে ডিআইএতে পদায়ন নিয়েও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবে এই দুই কর্মকর্তা ভোল পাল্টে ডিআইএতে পদায়ন পেয়েছেন। এ নিয়ে শিক্ষা ক্যাডারে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, চাকরিবিধি অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের তিন বছর পরপর বদলি করতে হবে। অর্থাৎ একই দপ্তরে তিন বছরের বেশি সময় থাকা যাবে না। বিষয়টি নির্দিষ্ট করে সরকার প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে। এ ছাড়া সরকারি কলেজের শিক্ষক বদলি বা পদায়ন নীতিমালায়ও বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে এক দপ্তর বা সংস্থা থেকে অন্য দপ্তর বা সংস্থায় সরাসরি বদলি না করার বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে। এই মধ্যবর্তী সময়ে তিন বছরের শিক্ষকতা করারও বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিদপ্তর। এমপিওভুক্ত ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতি বের করাই তাদের কাজ। অথচ সেই অধিদপ্তরেই চর্চা হচ্ছে নানা অনিয়ম, উঠছে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ।
ডিআইএর একাধিক শিক্ষা পরিদর্শক ও সহকারী শিক্ষা পরিদর্শকের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনে গিয়ে নিরীক্ষার নামে ‘অনৈতিক সুবিধা’ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম নামের এক সহকারী শিক্ষা পরিদর্শকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করা হয়েছে। পরিদর্শনে গিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. মকবুলার রহমান নামের এক শিক্ষা পরিদর্শকের বিরুদ্ধেও। এর বাইরে ডিআইএর আরও কয়েক কর্মকর্তা ও অডিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নিরীক্ষার নামে ‘ঘুষ’ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে কয়েকজন কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে সতর্কও করেছেন ডিআইএর পরিচালক।
এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ডিআইএর পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিআইএর প্রধান কাজ স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর বা সংস্থায় পরিদর্শন এবং নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা। পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা তুলে ধরা হয়। সে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। এসবের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু যাঁদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে তাঁদের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে থাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে শিক্ষা ক্যাডারে।
সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গত ১৪ ডিসেম্বর দুদকে করা অভিযোগে বলা হয়, সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের ভাগনে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডিআইএতে কর্মরত থেকে পরিদর্শনের নামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাঁর পারিবারিক কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য না থাকলেও তিনি নামে-বেনামে গড়েছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ।
মনিরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগে আরও বলা হয়, অবৈধ আয়ের টাকা হুন্ডির মাধ্যমে তিনি ভাইয়ের কাছে ইতালিতে পাঠান। তারপর সেই টাকা রেমিট্যান্স হিসেবে বৈধভাবে তাঁর ব্যাংক হিসাবে আনেন। এভাবে তিনি গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ভাইয়ের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা যায়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গত ২১ ডিসেম্বর মনিরুল ইসলাম বলেন, যে কেউই যে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারে। দুদক এ-সংক্রান্ত কোনো জবাব চাইলে তা দেওয়া হবে।
ডিআইএ সূত্রে জানা যায়, মনিরুল ইসলামকে সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল মজুমদার নিয়ন্ত্রিত মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের তদন্ত দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে তিনি শাহাজাহান খানের ভাগনে, এ পরিচয় জানাজানি হলে পরে তদন্ত দল থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়।
সূত্র আরও জানায়, মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। গত ১৯ থেকে ২৯ অক্টোবর এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
আরেক শিক্ষা পরিদর্শক মো. মকবুলার রহমানের বিরুদ্ধেও কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ১০টি শিক্ষা পরিদর্শনে গিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ২১ থেকে ২৯ জুলাই এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরীক্ষার সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে।
জানতে চাইলে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন মকবুলার রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ সত্য নয়।
মনিরুল ও মকবুলার ছাড়াও ডিআইএর আরও কয়েকজন কর্মকর্তা ও অডিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নিরীক্ষার নামে ‘ঘুষ’ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে কয়েকজন কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে সতর্কও করেছেন ডিআইএর পরিচালক।
এদিকে ডিআইএর পাঁচ কর্মকর্তার বদলি নিয়েও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ ৬ থেকে ৮ মাস ধরে কর্মরতদের বদলি করা হলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন ৭ বছর ধরে সহকারী পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম। ২০১৮ সালে ডিআইএতে যোগ দেন তিনি। এর আগে মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ৭ বছর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরে কর্মরত ছিলেন।
জানা যায়, চলতি মাসের শুরুতে ডিআইএতে কর্মরত পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। পরে অবশ্য একজনের বদলি স্থগিত করা হয়। বাকি চার কর্মকর্তার সবাই ৬ থেকে ৮ মাস ধরে ডিআইএতে কর্মরত ছিলেন।
এ বিষয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী আমলে পদায়ন পাওয়া কর্মকর্তাদের বদলি করা হলেও ডিআইএতে শুধু মনিরুল ইসলামই বহাল তবিয়তে আছেন। তিনি আরও বলেন, অনৈতিক উপায়ে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হওয়ায় সবাইকে ‘ম্যানেজ’ করে চলেন মনিরুল।
জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘হ্যাঁ এটা ঠিক, আমি দীর্ঘদিন ধরে ডিআইএতে কর্মরত। আমি কয়েকবার চেষ্টা করেছি বদলির জন্য।’
এর বাইরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘদিন ধরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে কর্মরত থাকা দুই সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মো. রোকনুজ্জামান ও মো. আজিম কবীরকে ডিআইএতে পদায়ন নিয়েও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবে এই দুই কর্মকর্তা ভোল পাল্টে ডিআইএতে পদায়ন পেয়েছেন। এ নিয়ে শিক্ষা ক্যাডারে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, চাকরিবিধি অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের তিন বছর পরপর বদলি করতে হবে। অর্থাৎ একই দপ্তরে তিন বছরের বেশি সময় থাকা যাবে না। বিষয়টি নির্দিষ্ট করে সরকার প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে। এ ছাড়া সরকারি কলেজের শিক্ষক বদলি বা পদায়ন নীতিমালায়ও বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে এক দপ্তর বা সংস্থা থেকে অন্য দপ্তর বা সংস্থায় সরাসরি বদলি না করার বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে। এই মধ্যবর্তী সময়ে তিন বছরের শিক্ষকতা করারও বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

৬ জানুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নতুন নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন। আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের...
১ দিন আগে
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে চার দফা দাবি জানিয়েছে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা চার প্যানেলেসহ স্বতন্ত্র পদপ্রার্থীরা। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে উপাচার্য বরাবর সম্মিলিতভাবে এ দাবি জানান তাঁরা।
৩ দিন আগে
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ পিছিয়ে আগামী ৬ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এই ভোট গ্রহণ সাত দিন পেছানো হলো।
৪ দিন আগে
রোববার বাংলা, সোমবার ইংরেজি, মঙ্গলবার গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবারের বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৫ জানুয়ারি।
৪ দিন আগে