Ajker Patrika

এসএসসির পর সময়কে কীভাবে কাজে লাগাবে

শিক্ষা ডেস্ক
এসএসসির পর সময়কে কীভাবে কাজে লাগাবে
প্রতীকী ছবি

এসএসসির তাত্ত্বিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ৭ জুন থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষা শেষে লম্বা বিরতি। মাসের পর মাস বই, খাতা আর পরীক্ষার চাপের পর শিক্ষার্থীরা কয়েক দিন আরামে থাকবে। রেজাল্ট আসতে সময় লাগবে প্রায় দুই মাস। এই সময়টা অলসভাবে পার করে দেওয়া যায়। তবে একটু পরিকল্পনা করলে সময়টি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়। ভবিষ্যতে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা কর্মজীবনে যে দক্ষতাগুলো দরকার, সেগুলোর ভিত্তি তৈরিতে কাজ করা যায়। এই সময়টাকে কাজে লাগানোর কয়েকটি উপায় নিয়ে থাকছে আজকের আলোচনা।

শরীর ও মনের যত্ন নাও

দীর্ঘ পরীক্ষার প্রস্তুতির পর শরীর ও মন—দুটোই ক্লান্ত থাকে। এ সময় একটু বিশ্রাম দরকার। তবে সেটা যেন অলসতায় না গড়ায়। নিয়মিত ঘুম, সকালে হাঁটা বা ব্যায়াম, খেলাধুলা, পরিমিত খাওয়া—এই অভ্যাসগুলো শুধু শরীর নয়, মনকেও সতেজ রাখে। পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাও এবং পরিবারকে সময় দাও। পরীক্ষার চাপে শিক্ষার্থীরা নিজেদের শখগুলো (বই পড়া, ছবি আঁকা, গান শেখা, খেলাধুলা) ভুলে যায়। এই সময়ে নিজেদের শখগুলো নিয়ে কাজ করতে পারে। নিজের আনন্দ খোঁজা কোনো বিলাসিতা নয়। এটি শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতার জন্য জরুরি।

নিজেকে চেনার সময়

১০ বছরের স্কুলজীবনে পাঠ্যবই আর পরীক্ষার বাইরে শিক্ষার্থীদের নিজেকে চেনার সুযোগ খুব কমই থাকে। এই সময়টাতে একটু থামো। ভেবে দেখো, কোন বিষয়গুলো পড়তে ভালো লেগেছে? কোথায় মনোযোগ ধরে রাখা সহজ ছিল? কোন কাজে সময় কখন কেটে যায় টেরও পাওয়া যায় না? মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, আত্মসচেতনতা হলো যেকোনো সাফল্যের প্রথম ধাপ। নিজের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। নিজের পছন্দ-অপছন্দ, ইচ্ছা, স্বপ্ন, ভয়—সব ডায়েরিতে লেখো। কেউ না পড়লেও এই লেখাটা তোমাকে নিজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে।

নতুন কিছু শেখো

ইন্টারনেট এখন শিক্ষার সবচেয়ে বড় ঠিকানা। ইউটিউব, কোর্সেরা, খান একাডেমিসহ অন্য প্ল্যাটফর্মগুলোয় বিনা মূল্যে বা অল্প খরচে অসংখ্য কোর্স পাওয়া যায়। ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়ানো, বেসিক কম্পিউটার ও প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ফটোগ্রাফি, রান্না, সেলাই—এসব বিষয় শিখতে পারো। বিশেষভাবে শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে কথা বলতে হয়। এ জন্য ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। প্রতিদিন ৩০ মিনিট ইংরেজিতে কথা বলার অভ্যাস করবে। ইংরেজি বই বা খবর পড়বে। কয়েক মাস পরে নিজেই পরিবর্তন বুঝতে পারবে।

কাজের অভিজ্ঞতা নাও

বাড়ির পাশের দোকান থেকে শুরু করে অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং, ছোট-বড় যেকোনো কাজ থেকে অভিজ্ঞতা আসতে পারে। যারা পড়াশোনার পাশাপাশি অন্য কোনো কাজ করেছে, নিয়োগকর্তারা তাদের বেশি পছন্দ করেন। কারণ, কাজ নিজেদের দায়িত্ববোধ শেখায়, সময় ব্যবস্থাপনা আর মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতে শেখায়। এলাকায় কোনো সামাজিক সংগঠন বা এনজিও থাকলে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দাও। স্থানীয় কোচিং সেন্টার বা বাসায় ছোটদের পড়াও। পরিবারের নিজস্ব ব্যবসায় সহযোগিতা করো। অনলাইনে লেখালেখি, বিভিন্ন সেমিনার বা কর্মশালা, ক্লাব বা সংগঠনে যুক্ত, ডেটা এন্ট্রি, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্টের মতো ছোট ছোট কাজ শুরু করো। প্রতিটি অভিজ্ঞতাই ভবিষ্যতের জন্য ভালো পুঁজি।

পরিকল্পনা করে সিদ্ধান্ত

এসএসসির ফল প্রকাশের পর বিজ্ঞান, মানবিক নাকি ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে পড়বে? এখন থেকে একটু একটু করে ভাবতে শুরু করলে সেই সিদ্ধান্তটা নিতে অনেক সহজ হয়ে যাবে। বিভিন্ন বিষয়ে জানার চেষ্টা করো এবং অভিজ্ঞদের পরামর্শ নাও। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়া মানে এখনই সব ঠিক করে ফেলা নয়। এর ফলে বিকল্পগুলো জানা যায়, পার্থক্য বোঝা এবং নিজের আগ্রহের সঙ্গে মেলানো সহজ হয়। নিজের নেওয়া সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সেটার দায়িত্বও নিজের। পাশাপাশি এই দায়িত্ববোধই নিজেকে সেই পথে পূর্ণ মনোযোগ দিতে অনুপ্রাণিত করবে।

স্কুলজীবনে পরীক্ষা ও পড়ার চাপে অনেক সময় পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয় না। এই অবকাশে পরিবারের সঙ্গে গল্প করো। তাদের জীবনের নানা অভিজ্ঞতার গল্প শোনো। দাদা-দাদি বা নানা-নানি থাকলে তাঁদের সময় দাও। ছোট ভাই-বোনদের সঙ্গে আড্ডা দাও। এই সম্পর্কগুলো পরবর্তী জীবনে মানসিক শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস। কলেজে গেলে বা কর্মজীবনে প্রবেশ করলে ব্যস্ততা আরও বাড়বে। এই সময়টাকে পরিবারের সঙ্গে বন্ধন আরও মজবুত করার সুযোগ রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত