
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাজ্যে পেট্রলপাম্প থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ লাখ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা) মূল্যের তেল চুরি করছেন চালকেরা। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার পর এ প্রবণতা দেখা দিয়েছে বলে শিল্পসংশ্লিষ্ট এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি অপরাধ প্রতিরোধ প্ল্যাটফর্ম ফোরকোর্ট আই-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পরবর্তী পাঁচ মাসে মূল্য পরিশোধ না করেই পেট্রোল পাম্প থেকে তেল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশ বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়েই তেল সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে, যার ফলে বেড়ে যায় তেলের দাম। আর এর প্রভাব পড়তে থাকে যুক্তরাজ্যের বাজারেও।
ফোরকোর্ট আই জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগের পাঁচ মাসের তুলনায় চুরি হওয়া জ্বালানির আর্থিক মূল্য ৪৮ শতাংশ বেড়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার পাউন্ডে পৌঁছেছে।
জ্বালানি চুরি প্রতিরোধে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি আরও যোগ করেছে, পেট্রলপাম্পগুলোতে গ্রাহকদের কাছ থেকে ‘দুর্ব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সহিংসতার’ ঘটনাও বেড়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণ ৫৫০টি পেট্রলপাম্পের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। এতে যুদ্ধ শুরুর আগের পাঁচ মাস এবং পরের পাঁচ মাসের তথ্য তুলনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে তা যুক্তরাজ্যের মোট ৮ হাজার ৩৫৯টি পাম্পের হিসাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অনুমান করা হয়েছে।
নমুনায় অন্তর্ভুক্ত পেট্রলপাম্পগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাজ্যজুড়ে পাম্পগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৮৭২টি জ্বালানি চুরির ঘটনা ঘটছে। যুদ্ধের আগে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ২ হাজার ৪০০টি।
এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে মূল্য পরিশোধের কোনো চেষ্টা না করেই গাড়ি নিয়ে চলে যাওয়া এবং ট্যাংক ভর্তি করার পর অর্থ পরিশোধের কোনো উপায় নেই বলে দাবি করা।
চুরি হওয়া জ্বালানির পরিমাণও ২৪ শতাংশ বেড়েছে। সব পেট্রোল পাম্প মিলিয়ে প্রতিদিন আনুমানিক ৮৭ হাজার লিটার থেকে তা বেড়ে ১ লাখ ৮ হাজার ৯০০ লিটারে পৌঁছেছে।
এ পরিস্থিতিতে ফোরকোর্ট আই জানিয়েছে, তারা ফেসওয়াচ (Facewatch) নামের একটি চেহারা শনাক্তকরণ (ফেসিয়াল রিকগনিশন) প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে কাজ করবে। আগামী শরৎকাল থেকে ২ হাজারের বেশি খুচরা বিক্রেতাকে বিনা মূল্যে অপরাধ প্রতিবেদন-সংক্রান্ত প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।
এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। পরবর্তীতে জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাত নিরসনে একটি খসড়া চুক্তিতে সম্মত হলে দাম কিছুটা কমে আসে; তবে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে তা আবারও বাড়তে থাকে।
এরপর গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ফের শুরু হলে জ্বালানি তেলের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়, যা ২০২২ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ। ২০২২ সালের শুরুর দিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পরও এভাবে তেল চুরির ঘটনা বেড়ে গিয়েছিল বলে জানায় ফোরকোর্ট আই।
এর মধ্যে গত সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী জন হিলি বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে কেউ যদি অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়িয়ে মুনাফা করার চেষ্টা করে, তাহলে সরকার ব্যবস্থা নেবে। সানডে টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এ ধরনের মূল্য কারসাজির উল্লেখযোগ্য কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে জনগণকে ‘পেট্রলপাম্প বা দোকানে ঠকানো হচ্ছে’—এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া গেলে সরকার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার মধ্যেই তেহরানকে আবারও ‘শেষ সুযোগ’ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলোচনায় অগ্রগতি না হলে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানকে হামলার আগে ‘শেষ সুযোগটুকুও’ দিতে চান। তবে আলোচনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট...
১ সেকেন্ড আগে
বিজেপি টানা দ্বিতীয় সপ্তাহেও বাজে খবরের মুখো। গত সপ্তাহে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভের পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছিল দলের জন্য বড় ধাক্কা। আর এ সপ্তাহের শুরুতেই দুই বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে হেরে গেল বিজেপি। এর একটি বিহারের বাঁকিপুর আসন।
১৮ মিনিট আগে
ট্রাম্প প্রশাসন, ইরান নিয়ে নিজেদের তৈরি করা জটিল পরিস্থিতি থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসবে, তা নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছে বলেই মনে হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের একটি চুক্তিতে রাজি করাতে এখন পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত...
৩৬ মিনিট আগে
এস্তোনিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি গ্রাম বছরে একবারের জন্য রূপ নেয় এক প্রতীকী রাজ্যে। এমনকি সেখানে প্রবেশের জন্য দেওয়া হয় ভিসা, চালু থাকে নিজস্ব প্রতীকী মুদ্রা, এমনকি আয়োজন করা হয় সামরিক কুচকাওয়াজের আদলে একটি প্রদর্শনীও।
১১ ঘণ্টা আগে