নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

১৭ বছর ৬ মাস, বাবাকে বাবা বলে ডাকতে পারি না, ছুঁয়ে দেখতে পারি না। এটা যে কি কষ্টের বলে বুঝাতে পারবো না। অবশেষে আমরা ন্যায়বিচার পেলাম। রায় কার্যকরের পর ড. তাহেরের মেয়ে অ্যাডভোকেট সেগুফতা তাবাসসুম আহমেদ এক প্রতিক্রিয়ায় একথা বলেন।
তাবাসসুম বলেন, আমার বাবা ড. এস তাহেরকে ২০০৬ সালে যে নির্মমভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করে বাসার পেছনের সেফটিক ট্যাংকের মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছিল। তার বিচার হলো। ন্যায় বিচার পেলাম আমরা। প্রথমেই আমি মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সকল আইনজীবী যারা মামলাটি এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে, এটর্নি জেনারেল অফিস এবং তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে। মিডিয়াকে, যারা নি: স্বার্থভাবে সহায়তা করেছে। আমরা পরিবার অত্যন্ত একটা সাধারণ পরিবার। বাবাকে তো আর ফেরত পাবো না। সবার কাছে দোয়া চাই।
সেগুফতা আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাবার মরদেহ উদ্ধারের খবরটা যখন পেলাম, ঠিক ওই মুহূর্তেই মাথায় এলো যে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমার বাবা হত্যার বিচার পাওয়া লাগবে। আমি সেটা পেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালের ২২ মে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। ওই সময় আমার মা যিনি একেবারেই গৃহিণী, কোনোদিন আদালতে যাননি তখন তাঁর অবদান ছিল অনেক বড়। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন। দৌড়াদৌড়ি করেছেন। আমার ভাই সানজিদ আলভি আহমেদ। যে এ মামলার বাদী তাঁরও বড় অবদান আছে। আমি তখনও আইনের ছাত্রী। আমি আমার শিক্ষকদের সঙ্গে পরামর্শ করতাম কীভাবে ন্যায় বিচার পাওয়া যায়। সে অবস্থায় আমার শিক্ষকেরা খুব সহযোগিতা করেছেন।’
সেগুফতা বলতে থাকেন, ‘আমার পড়াশোনা শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই চেম্বারে কাজ করা শুরু করলাম। আমার স্বপ্ন ছিল আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াবো। কিন্তু আমার মনে হলো, বাবা হত্যার বিচার পেতে যদি পিয়ন হওয়া লাগে, আমি হবো।
চেম্বারে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে শুরু করলাম। ২০১১ সালে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স চলে এলো। পরের বছর আমি ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করি। আর ২০১৬ সালে হাইকোর্টের আইনজীবী হই। সবকিছুই তখন খেয়াল রাখা সহজ হয়।’
সেগুফতা আহমেদ আরও বলেন, ‘এই মামলা তো পরিচালনা করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আমি সারাক্ষণ অ্যাটর্নি জেনারেল-ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে গিয়ে বসে থাকতাম। সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখতাম। বাবা হত্যার বিচার পেতে হলে আমাদের স্বপক্ষে কী কী প্রমাণ-নথিপত্র লাগবে, সেগুলো জোগাড় করতাম। এভাবে আমি আমার কাজটা চালিয়ে গিয়েছি।’
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, এ মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ড. মিয়া মহিউদ্দিন ছিলেন ড. তাহেরের বিভাগেরই সহযোগী অধ্যাপক। কাগজপত্রে সমস্যা থাকায় ড. তাহেরের আপত্তিতে তাঁর পদোন্নতি আটকে যায়। এ কারণে ড. তাহেরের বাসার তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়ে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ড. মহিউদ্দিন। জাহাঙ্গীর নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দেন।
সেগুফতা বলেন, ‘জাহাঙ্গীরের জবানবন্দীতেই উঠে এসেছে কেন এবং কীভাবে আমার বাবাকে হত্যা করা হয়। আমার মাও তাঁর সাক্ষ্যতে বলেছেন যে পদোন্নতিতে বিরোধীতা করার কারণে মহিউদ্দিন গণ্ডগোল করতে পারে বলে হত্যাকাণ্ডের আগে নিজের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন বাবা।’
প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হওয়ার পরও আসামিদের দণ্ড কার্যকর ঠেকাতে নানা আইনগত প্রক্রিয়া চালানো হয়। সে বিষয়ে সেগুফতা আহমেদ বলেন, ‘আপিল বিভাগে রিভিউ খারিজের পর আইনগত কোনো প্রক্রিয়া আর থাকে না। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনের নাকচ হওয়ার পরও যেভাবে দণ্ড ঠেকাতে তৎপরতা চালানো হয়েছে তা উচ্চ আদালতকে অবমাননার শামিল। তারা যত চেষ্টাই করুক, আদালত সব সময় ন্যায়ের পক্ষে রায় দিয়েছেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টার থেকে ২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হন অধ্যাপক এস তাহের আহমেদ। একদিন পর ৩ ফেব্রুয়ারি বাসাটির পেছনের ম্যানহোল থেকে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ। ওইদিন রাতে তার ছেলে সানজিদ আলভি আহমেদ রাজশাহীর মতিহার থানায় মামলা করেন। ওই সময় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন সেগুফতা তাবাসসুম আহমেদ। এখন তিনি হাইকোর্টের একজন আইনজীবী।

১৭ বছর ৬ মাস, বাবাকে বাবা বলে ডাকতে পারি না, ছুঁয়ে দেখতে পারি না। এটা যে কি কষ্টের বলে বুঝাতে পারবো না। অবশেষে আমরা ন্যায়বিচার পেলাম। রায় কার্যকরের পর ড. তাহেরের মেয়ে অ্যাডভোকেট সেগুফতা তাবাসসুম আহমেদ এক প্রতিক্রিয়ায় একথা বলেন।
তাবাসসুম বলেন, আমার বাবা ড. এস তাহেরকে ২০০৬ সালে যে নির্মমভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করে বাসার পেছনের সেফটিক ট্যাংকের মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছিল। তার বিচার হলো। ন্যায় বিচার পেলাম আমরা। প্রথমেই আমি মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সকল আইনজীবী যারা মামলাটি এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে, এটর্নি জেনারেল অফিস এবং তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে। মিডিয়াকে, যারা নি: স্বার্থভাবে সহায়তা করেছে। আমরা পরিবার অত্যন্ত একটা সাধারণ পরিবার। বাবাকে তো আর ফেরত পাবো না। সবার কাছে দোয়া চাই।
সেগুফতা আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাবার মরদেহ উদ্ধারের খবরটা যখন পেলাম, ঠিক ওই মুহূর্তেই মাথায় এলো যে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমার বাবা হত্যার বিচার পাওয়া লাগবে। আমি সেটা পেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালের ২২ মে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। ওই সময় আমার মা যিনি একেবারেই গৃহিণী, কোনোদিন আদালতে যাননি তখন তাঁর অবদান ছিল অনেক বড়। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন। দৌড়াদৌড়ি করেছেন। আমার ভাই সানজিদ আলভি আহমেদ। যে এ মামলার বাদী তাঁরও বড় অবদান আছে। আমি তখনও আইনের ছাত্রী। আমি আমার শিক্ষকদের সঙ্গে পরামর্শ করতাম কীভাবে ন্যায় বিচার পাওয়া যায়। সে অবস্থায় আমার শিক্ষকেরা খুব সহযোগিতা করেছেন।’
সেগুফতা বলতে থাকেন, ‘আমার পড়াশোনা শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই চেম্বারে কাজ করা শুরু করলাম। আমার স্বপ্ন ছিল আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াবো। কিন্তু আমার মনে হলো, বাবা হত্যার বিচার পেতে যদি পিয়ন হওয়া লাগে, আমি হবো।
চেম্বারে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে শুরু করলাম। ২০১১ সালে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স চলে এলো। পরের বছর আমি ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করি। আর ২০১৬ সালে হাইকোর্টের আইনজীবী হই। সবকিছুই তখন খেয়াল রাখা সহজ হয়।’
সেগুফতা আহমেদ আরও বলেন, ‘এই মামলা তো পরিচালনা করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আমি সারাক্ষণ অ্যাটর্নি জেনারেল-ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে গিয়ে বসে থাকতাম। সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখতাম। বাবা হত্যার বিচার পেতে হলে আমাদের স্বপক্ষে কী কী প্রমাণ-নথিপত্র লাগবে, সেগুলো জোগাড় করতাম। এভাবে আমি আমার কাজটা চালিয়ে গিয়েছি।’
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, এ মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ড. মিয়া মহিউদ্দিন ছিলেন ড. তাহেরের বিভাগেরই সহযোগী অধ্যাপক। কাগজপত্রে সমস্যা থাকায় ড. তাহেরের আপত্তিতে তাঁর পদোন্নতি আটকে যায়। এ কারণে ড. তাহেরের বাসার তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়ে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ড. মহিউদ্দিন। জাহাঙ্গীর নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দেন।
সেগুফতা বলেন, ‘জাহাঙ্গীরের জবানবন্দীতেই উঠে এসেছে কেন এবং কীভাবে আমার বাবাকে হত্যা করা হয়। আমার মাও তাঁর সাক্ষ্যতে বলেছেন যে পদোন্নতিতে বিরোধীতা করার কারণে মহিউদ্দিন গণ্ডগোল করতে পারে বলে হত্যাকাণ্ডের আগে নিজের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন বাবা।’
প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হওয়ার পরও আসামিদের দণ্ড কার্যকর ঠেকাতে নানা আইনগত প্রক্রিয়া চালানো হয়। সে বিষয়ে সেগুফতা আহমেদ বলেন, ‘আপিল বিভাগে রিভিউ খারিজের পর আইনগত কোনো প্রক্রিয়া আর থাকে না। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনের নাকচ হওয়ার পরও যেভাবে দণ্ড ঠেকাতে তৎপরতা চালানো হয়েছে তা উচ্চ আদালতকে অবমাননার শামিল। তারা যত চেষ্টাই করুক, আদালত সব সময় ন্যায়ের পক্ষে রায় দিয়েছেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টার থেকে ২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হন অধ্যাপক এস তাহের আহমেদ। একদিন পর ৩ ফেব্রুয়ারি বাসাটির পেছনের ম্যানহোল থেকে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ। ওইদিন রাতে তার ছেলে সানজিদ আলভি আহমেদ রাজশাহীর মতিহার থানায় মামলা করেন। ওই সময় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন সেগুফতা তাবাসসুম আহমেদ। এখন তিনি হাইকোর্টের একজন আইনজীবী।

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় গত শুক্রবার সকালে একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে নারী, শিশুসহ চারজন আহত হয়েছে। মাদ্রাসাটি শেখ আল আমিন নামের এক ব্যক্তি পরিচালনা করতেন। যিনি এর আগে নিষিদ্ধ উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দেশের বিভিন্ন থানায়
৭ দিন আগে
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২-এর বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৮ হাজার ৫৯৭ জনকে। গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ৮৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
১০ দিন আগে
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২-এর বিশেষ অভিযানে গত রোববার বিকেল থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৬৯৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
১২ দিন আগে
জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আলোচিত মুখ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগে মাধ্যমে বহুল আলোচিত নাম ফয়সাল করিম মাসুদ কিংবা দাউদ খান। গতকাল শুক্রবার হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই এই দুই নামে এক ব্যক্তির ছবি ফেসবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে।
২১ দিন আগে