
ময়মনসিংহ নগরীতে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল প্রায় পাঁচ বছর আগে। সেই কাজ এখনো শেষ হয়নি। কোথাও কথাও অর্ধেক কাজ সম্পন্ন করে ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও ড্রেনের কাজ শেষ হলেও বসানো হয়নি ঢাকনা। ড্রেনের মাঝখানে রয়ে গেছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। কিছু এলাকায় অস্বাভাবিক উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে ড্রেন। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বাসা-বাড়িতে উঠছে পানি। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
সড়ক উন্নয়ন ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্কসহ নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালের জুনে ড্রেন তৈরির কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের জুনে এই কাজ শেষ হওয়ার কথা। ৬২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীতে ৩২২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও মাত্র ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানোর চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।
প্রায় এক বছর আগে ময়মনসিংহ নগরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের আকুয়া দক্ষিণপাড়া ঘনবসতি এলাকায় অর্ধনির্মিত অবস্থায় রয়েছে রাস্তা ও ড্রেন। এদিকে ড্রেনের মাঝখানে রয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। ফলে খুঁটিতে ময়লা আটকে পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বাসা-বাড়িতে উঠছে পানি। শুধু তাই নয়, এলাকার মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে অসম্পন্ন রাস্তাও।
সেখানকার বাসিন্দা ও সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন বলেন, ‘এই এলাকার মানুষের কান্না হলো রাস্তা ও ড্রেন। সিটি করপোরেশন রাস্তা ও ড্রেনের কাজ অসম্পন্ন রেখেছে। বিষয়টি সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। যার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে রাস্তা-ঘাট এবং ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। এমন সমস্যা নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে। গত কয়েক দিন আগে টানা সাড়ে আট ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরী তলিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা।’
টানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টি হলেই রাস্তা এবং ঘরে জমে কোমরপানি। অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণের কারণে এমন অবস্থা উল্লেখ করে বাঁশবাড়ি কলোনির বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘অবস্থার পরিবর্তনে আমরা শুধু আশার বাণীই শুনে যাচ্ছি। কার্যত কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না। শত শত কোটি টাকার কাজ হচ্ছে; কিন্তু ভোগান্তি কেন কমছে না? এই দায় কোনোভাবেই কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না।’
জেলা খাদ্য অফিসের সামনে দিয়ে প্রবাহিত ড্রেনের কাজ দেড় বছরেও সম্পন্ন হয়নি। পুরো ড্রেনটি ময়লা জমে অকেজো। ঢাকনাও বসানো হয়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে টাউন হল এলাকার বাসিন্দা সোহরাব আলী বলেন, পুরো ড্রেন ময়লা জমে অকেজো। ঢাকনাও বসানো হয়নি। ফলে মানুষ চলাচল করতে পারছে না। আমরা চাই দ্রুত নগরীতে সব ধরনের চলমান কাজ সম্পন্ন করে মানুষকে স্বস্তি দেওয়া হোক।’
ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. নূরুজ্জামান বলেন, ‘রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণে সমন্বয় খুবই প্রয়োজন। এখন দেখা যাচ্ছে, রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে একভাবে আর ড্রেন অন্যভাবে। এমনকি বাড়ি নির্মাণেও সমন্বয়হীনতা। যার ফলে জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ড্রেন নির্মাণ করা হলেও লেভেল আপ-ডাউনের দিকে খুব একটা নজর রাখা হচ্ছে না। এতে করে ভারী বৃষ্টিতে পানি চলাচল ব্যাহত হয়। শুধু বর্ষাকালে ড্রেনের তদারকি করলে হবে না, জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে সারা বছরই ড্রেন মনিটরিং প্রয়োজন।’
জলাবদ্ধতার জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের অপরিকল্পিত কাজকে দায়ী করে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, ‘ড্রেনের মাঝখান থেকে বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর কাজ চলমান রয়েছে। আগামী বর্ষার আগেই ড্রেনের গতি স্বাভাবিক হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনেক ঠিকাদার কাজ ফেলে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় স্থবিরতা দেখা দেয়। সেগুলো পুনরায় টেন্ডারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি ইয়াজদানী কোরায়শী কাজল বলেন, ‘টোটাল কাজটি মূলত হয়েছে অপরিকল্পিত ও দায়সারা। একটা শহরের কী প্রয়োজন, সেটা মাথায় না রেখে যেনতেন কাজ করায় সামান্য বৃষ্টিতে মানুষের বাসা-বাড়িতে পানি উঠছে।’

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নৌকা ভ্রমণে এসে বিদ্যুতায়িত হয়ে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এক নারীসহ আরও চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৮টায় উপজেলার বংশাই নদের ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে...
১২ মিনিট আগে
মেটা: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক পথসভায় সমাপনী বক্তব্যের শেষে ‘জয় বাংলা’ উচ্চারণ করেছেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ও এনসিপির সাদুল্লাপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শফিজল ইসলাম। ঘটনাটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
৩৭ মিনিট আগে
রাজবাড়ী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটি তিন দশকেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত টার্মিনাল ভবন ও এর আসবাবপত্র অবহেলা-অযত্নে নষ্ট হচ্ছে। জানা গেছে, শহর থেকে দূরে হওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার অভাবে বাসমালিকেরা শুরু থেকেই টার্মিনালটি ব্যবহার করতে অনাগ্রহী ছিলেন।
৭ ঘণ্টা আগে
কয়েক বছর আগেই থেমে গেছে সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিল লিমিটেডের মেশিনগুলো। একসময় হাজারো শ্রমিক কাজ করলেও এখন সেখানে রয়েছে শুধু মরিচা ধরা যন্ত্রপাতি। তবে থামেনি খরচ। এই অচল কারখানার কর্মকর্তা-শ্রমিকদের বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রতি মাসে সরকারের ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা।
৮ ঘণ্টা আগে