Ajker Patrika

ইরানের বিক্ষোভের মুখ হতে চাইছেন—পারবেন কি শাহপুত্র রেজা পাহলভি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯: ৩৫
শাহ রাজবংশের উত্তরাধিকারী ৬৫ বছর বয়সী রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে থেকেই ইরানের বাইরে বসবাস করছেন। ছবি: রয়টার্স
শাহ রাজবংশের উত্তরাধিকারী ৬৫ বছর বয়সী রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে থেকেই ইরানের বাইরে বসবাস করছেন। ছবি: রয়টার্স

প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে চলা ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে কখনোই এক হতে পারেনি ইরানের বিভক্ত বিরোধী রাজনীতি। তবে এবার দেশটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন সর্বশেষ শাহের ছেলে রেজা পাহলভি। চলমান বিক্ষোভের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী পাহলভি নিজেকে এক ধরনের জাতীয় কণ্ঠ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন এবং বিক্ষোভকারীদের উৎসাহ জোগাচ্ছেন।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শাহ রাজবংশের উত্তরাধিকারী ৬৫ বছর বয়সী রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে থেকেই ইরানের বাইরে বসবাস করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রে নিজের বাসভবন থেকে পাঠানো ভিডিও বার্তায় তিনি ইরানিদের পরিবর্তনের দাবিকে সমর্থন জানাচ্ছেন। সাম্প্রতিক এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণভাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র এবং এর জীর্ণ ও দুর্বল দমনযন্ত্রকে হাঁটু গেড়ে বসাতে পারব।’ তাঁর এই বক্তব্য বিক্ষোভরত অনেক ইরানির মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।

তবে ইরানের ভেতরে পাহলভির প্রকৃত জনসমর্থন কতটা, তা নিরূপণ করা কঠিন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু যাচাইকৃত ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের ‘দীর্ঘজীবী হও শাহ’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে, যা তাঁর প্রতি আংশিক সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়। আবার অনেক বিক্ষোভকারী কোনো নির্দিষ্ট নেতার নাম না নিয়ে ‘স্বৈরাচারের পতন চাই’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন, যা মূলত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে ক্ষোভের প্রকাশ। অর্থনৈতিক সংকট, দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং গত জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় এই বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে।

দেখা গেছে, ইরানের বিক্ষোভে নিজেকে মেলে ধরতে চাইলেও রেজা পাহলভির প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন নেই দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে। উত্তর ইরানের তরুণী আজাদেহের কথায় তা স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘রেজা পাহলভি যা শিখেছেন, তা তাঁর বাবার কাছ থেকেই, যিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। আমরা পাহলভিদের সময় দেখেছি, এখন সময় গণতান্ত্রিক দেশের।’ এর আগে ২০০৯ ও ২০২২ সালের আন্দোলনগুলোতেও পাহলভি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেসময়ও তাঁর পক্ষে বড় কোনো জনসমর্থনের ঢেউ দেখা যায়নি।

রেজা পাহলভি দাবি করছেন, তিনি একটি রূপান্তরকালীন নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। পূর্বের শাসনব্যবস্থার বদলে তিনিও একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চাইছেন, যেখানে জনগণই তাঁদের নেতা নির্বাচন করবেন। তাঁর মতে, শান্তির জন্য ইরানের একমাত্র পথ হলো একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা।

১৯৭৯ সালের বিপ্লবের মতো এবার ইরানের বিক্ষোভকারীদের একক কোনো নেতা নেই। পাঁচ দশক আগে আয়াতুল্লাহ খোমেনি যেমন বিপ্লবের কণ্ঠস্বর হয়েছিলেন, বর্তমান আন্দোলনে তেমন ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব অনুপস্থিত।

প্রবাসী ইরানিদের মধ্যে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাহলভির সমর্থন তুলনামূলক বেশি। ১৯৬০ সালে জন্ম নেওয়া পাহলভি ১৯৬৭ সালে তাঁর বাবার অভিষেকের সময় যুবরাজ ঘোষিত হয়েছিলেন। কিন্তু বিলাসী রাজতান্ত্রিক শাসন, বৈষম্য ও সাভাকের দমননীতিই শেষ পর্যন্ত পাহলভি রাজবংশের পতনের পথ প্রশস্ত করেছিল। বর্তমানে পাহলভি ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও পশ্চিমা সরকারগুলোর সরাসরি সমর্থন পাননি। সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের প্রতি সমর্থনের কথা বললেও, রেজা পাহলভির সঙ্গে সাক্ষাৎ করা ‘ঠিক হবে কি না’ সেই বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নির্বাচনের পর কী করবেন ড. ইউনূস, জানাল প্রেস উইং

‘নেপালকে বাংলাদেশ হতে দেব না’, নানামুখী চাপে হতাশ সুশীলা কারকি

বাংলাদেশে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচনের নতুন ব্যাখ্যা দিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন

৪০০ টাকায় ২০ এমবিপিএস ইন্টারনেট দেবে বিটিসিএল, সাশ্রয়ী আরও ৮ প্যাকেজ ঘোষণা

নিজের চরকায় তেল দাও—মামদানিকে ভারতের তিরস্কার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত