Ajker Patrika

খাদ্যের বস্তা কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ

  • নতুন বস্তার সঙ্গে পুরোনো বস্তাও সরবরাহ ও ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ।
  • দরপত্র আহ্বান করে ২ লাখ নতুন বস্তা কেনা হয়েছে।
  • তেরোখাদা গুদামে পাঠানো হয় ৮ হাজার পুরোনো বস্তা।
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 
খাদ্যের বস্তা কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ
প্রতীকী ছবি

খুলনা জেলায় খাদ্যশস্য সংগ্রহ মৌসুমে বস্তা কেনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নতুন বস্তার সঙ্গে পুরোনো বস্তাও সরবরাহ ও ব্যবহার হচ্ছে বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পুরোনো নিম্নমানের বস্তা ক্রয় এবং অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে খাদ্যগুদামের অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। তবে খাদ্য কর্মকর্তাদের দাবি, সরবরাহ করা নতুন বস্তার সঙ্গে কিছু পুরোনো বস্তা সরবরাহ করেছিল ঠিকাদার। শনাক্ত হওয়ার পর ৮ হাজার পুরোনো বস্তা পরিবর্তন করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা খাদ্য বিভাগের জন্য নতুন বস্তার দরপত্র আহ্বান করে সেগুলো কেনা হয়। এরপর তা মহেশ্বরপাশা খাদ্যগুদামে সরবরাহ করা হয়। সেখান থেকে বস্তা বুঝে নিয়ে বিভিন্ন গুদামে সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে রূপসা উপজেলার আলাইপুর খাদ্যগুদামে ৫০ কেজির বস্তা ৫০ হাজার, ৩০ কেজির বস্তা ১০ হাজার; তেরোখাদা উপজেলার খাদ্যগুদামে ৫০ কেজির বস্তা ৩০ হাজার, ৩০ কেজির বস্তা ১০ হাজার; ডুমুরিয়া খাদ্যগুদামে ৫০ কেজির ৫০ হাজার, ৩০ কেজির ২০ হাজার বস্তা সরবরাহ করা হয়। ফুলতলা খাদ্যগুদামে ৫০ কেজির ৫০ হাজার, ৩০ কেজির ২০ হাজার বস্তা দেওয়া হয়।

এদিকে মোংলা সাইলো এবং মোংলা পোর্টে জাহাজ থেকেও এই পুরোনো বস্তা খাদ্যশস্য প্রক্রিয়াজাতের অনুপযোগী বলে ৫০ কেজির ২৫ হাজার এবং ৩০ কেজির ১০ হাজারটি ফেরত পাঠানো হয়েছে।

একটি ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, বস্তার গায়ে ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ লেখা-সংবলিত স্লোগান আলকাতরা লাগিয়ে মুছে দিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়াও বস্তার গায়ে উৎপাদনের সাল ২০২২ লেখা রয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, তিন মাস আগে ওই বস্তা কেনার টেন্ডার কার্যক্রম শেষ হয়। সেটি বর্তমান ডিসি ফুডের আমলে। কমিটির প্রধান ছিলেন ফুলতলার পিসিএফ জাকির হোসেন। যিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে খুলনার সহকারী জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক ছিলেন। এ কার্যাদেশ পায় মেসার্স চন্দ্রদ্বীপ কনস্ট্রাকশন। এই পুরোনো বস্তা ক্রয়কালে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম হয়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে নতুন ৩০ কেজির বস্তায় সরকারি দর প্রতিটি ৫০ টাকা। পুরোনো বস্তার দর ১৮-২০ টাকা প্রতিটি। ৫০ কেজির বস্তা ক্রয়ে সরকারি দর প্রতিটি ৯০ টাকা। পুরোনো বস্তার প্রতিটির দাম ৩৮-৪০ টাকা।

এ বিষয়ে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি খালিদ হোসেন বলেন, দুই লাখ নতুন বস্তা কেনার নামে কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। নতুন বস্তার আড়ালে কেনা হয়েছে পুরোনো ব্যবহৃত ও নিম্নমানের বস্তা। এসব বস্তায় খাদ্য সংরক্ষণও ঝুঁকিপূর্ণ।

জানতে চাইলে মহেশ্বরপাশা খাদ্যগুদামের ম্যানেজার টি সি এফ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সর্বশেষ ২ লাখ বস্তা হাতে পেয়েছি। সব বস্তা দেখে বুঝে নেওয়ার সুযোগ থাকে না। কারণ প্যাকেট কাটতে হয়। কাটার পর ওই বস্তা অন্য গুদামে পাঠানো সমস্যা হয়। তাই ১০-১৫ শতাংশ দেখে বুঝে নেওয়া হয়। আর শর্ত থাকে, কোনো সমস্যাযুক্ত বস্তা শনাক্ত হলে রিপ্লেস (পরিবর্তন) করে দিতে হবে। এ অবস্থায় তেরোখাদা গুদামে পাঠানো ২০ হাজার বস্তার মধ্যে ৮ হাজারটি পুরোনো বস্তা পাওয়া যায়। যা ভিডিও করে রেখে সরবরাহকারীকে জানানো হয়। এরপর ওই বস্তা রিপ্লেস হয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা জেলা খাদ্য কর্মকর্তা তানভীর হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, তেরোখাদায় কিছু পুরোনো বস্তা পাওয়া যায়; যা সরবরাহকারীকে জানানোর পর বদল করে নতুন বস্তা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের সমস্যা হতে পারে, যা শর্ত অনুযায়ী সরবরাহকারীর থেকে সমাধান করা হয়। কারণ, নিয়মিত নতুন বস্তার দরপত্র হয়। এত বস্তা একসঙ্গে দেখে বুঝে নেওয়া কঠিন। তাই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় বস্তা দেখে সমস্যা সমাধান করা হয়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আইসিসির ভোটাভুটিতে মাত্র ২ ভোট পেয়েছে বাংলাদেশ

বিএনপিতে যোগ দিলেন আ.লীগ সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ছে দ্বিগুণ থেকে আড়াই গুণ, সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা

রমজানের সময়সূচি ২০২৬: সেহরি ও ইফতারের ক্যালেন্ডার

সরকারি প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৬৯ হাজারের বেশি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত