Ajker Patrika

প্রকাশ্যে আইসক্রিম বিক্রেতার শিরশ্ছেদ, মুণ্ডু বাড়িতে নিয়ে গেলেন খুনি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৬: ০৯
প্রকাশ্যে আইসক্রিম বিক্রেতার শিরশ্ছেদ, মুণ্ডু বাড়িতে নিয়ে গেলেন খুনি
নিহত বাবলু। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের বড়বাঁকিতে এক ভয়াবহ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার ২৫ বছর বয়সী এক আইসক্রিম বিক্রেতাকে প্রকাশ্যেই শিরশ্ছেদ করা হয়। হত্যার পর অভিযুক্ত বিচ্ছিন্ন মাথাটি সঙ্গে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে স্বাভাবিকভাবে রান্না শুরু করেন, যেন কিছুই ঘটেনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে বড়বাঁকি জেলার পারসাওয়াল গ্রামে। নিহত যুবকের নাম বাবলু। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি ওই গ্রামে আইসক্রিম বিক্রি করতে গিয়েছিলেন। জীবিকার তাগিদে গ্রাম ঘুরে আইসক্রিম বিক্রি করাই ছিল তাঁর নিত্যদিনের কাজ।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা শংকর যাদবের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। কী নিয়ে এই বাগ্‌বিতণ্ডা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে কথার লড়াই দ্রুতই রূপ নেয় সহিংসতায়। একপর্যায়ে শংকর যাদব একটি ধারালো কাস্তে হাতে বাবলুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। সবার সামনে, প্রকাশ্যে তিনি বাবলুর গলা কেটে ফেলে এবং তাঁর মাথা দেহ থেকে আলাদা করে ফেলে। উপস্থিত মানুষজনের সামনে এই বিভীষিকাময় দৃশ্য ঘটে যায় মুহূর্তের মধ্যে।

কিন্তু ঘটনার পর যা ঘটে, তা আরও বেশি শিউরে ওঠার মতো। ঘটনাস্থল থেকে পালানোর পরিবর্তে শংকর যাদব মাটিতে পড়ে থাকা সেই বিচ্ছিন্ন মাথাটি তুলে নেন এবং সেটি নিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে যান। একই গ্রামে তাঁর বাড়ি। পুলিশের ভাষ্য, বাড়িতে ঢোকার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি একেবারে স্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন। তিনি রান্না শুরু করেন, আশপাশে কোনো অস্বাভাবিকতা নেই, যেন কিছুই ঘটেনি।

এরই মধ্যে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় পুলিশ সুপার অর্পিত বিজয়বর্গীর নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয়। পুরো গ্রাম ঘিরে ফেলা হয়। পরে পুলিশ শংকর যাদবের বাড়িতে পৌঁছে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে তারা যে দৃশ্য দেখে, তা আরও বিস্ময়কর ও আতঙ্কজনক। অভিযুক্ত ব্যক্তি তখনো রান্না চালিয়ে যাচ্ছিল, আর তার কাছেই পড়ে ছিল বাবলুর বিচ্ছিন্ন মাথা।

পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাস্তে জব্দ করা হয় এবং বাড়ি থেকে বাবলুর কাটা মাথাটি উদ্ধার করা হয়। নিহত বাবলু তিন ভাইয়ের মধ্যে বড়। দিনমজুরি ও আইসক্রিম বিক্রি করে তিনি পরিবারের ভরণপোষণ করতেন। তাঁর স্ত্রী এবং দুই ছোট সন্তান এই নির্মম ঘটনায় শোকে ভেঙে পড়েছেন, তাদের কান্নায় গোটা পরিবার স্তব্ধ।

অভিযুক্ত ও নিহত ব্যক্তির মধ্যে ঠিক কী কারণে এই মারাত্মক বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বাবলুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

প্রাথমিকেও চালু হচ্ছে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস

বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে আমরা কষ্ট পেয়েছি: ইরানি রাষ্ট্রদূত

২০২৬ সালের ঈদুল আজহা কবে, যা জানা গেল

কিশোরগঞ্জে যুবদল নেতার হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

‘ওকে লাথি মেরে বের করে দিন’—নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুদ্ধে পাঠাতে বললেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত