Ajker Patrika

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যার আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী আদালতে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০১ জুন ২০২৬, ১৩: ৩৮
পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যার আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী আদালতে
ফাইল ছবি

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্নাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে তাঁদের আদালতে আনা হয়।

প্রিজন ভ্যানে করে আনার পর সোহেল রানাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। তাঁর স্ত্রী স্বপ্নাকে রাখা হয় নারী হাজতখানায়। এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আজ শুনানির জন্য ধার্য রয়েছে। আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে এ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি হবে।

এদিকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গতকাল রোববার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে বলেন, এই মামলায় আদালতের কাছে আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করা হবে। যে তথ্য-প্রমাণ আছে, তাতে আসামির সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত হবে —এটাই তাঁদের প্রত্যাশা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকার মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী আজকের পত্রিকাকে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করলে এ মামলার আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারকাজ শুরু হবে। ইতিমধ্যে আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রের খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোহেল রানা ও স্বপ্নাকে কারাগার থেকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঘটনার মাত্রা পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষে গত ২৪ মে বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র দেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত করে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক ঢাকার শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য করেন। অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২)/৩০ ধারা ও দণ্ডবিধির ২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক প্রতিবেদন, ডিএনএ পরীক্ষা এবং মরদেহের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন থেকে প্রমাণ হয়েছে, দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ওই শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। গত ১৯ মে আসামি সোহেল রানার ঘরে খাটের নিচ থেকে ওই মেয়েশিশুর মাথাবিহীন মরদেহ ও বাথরুমের বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়। সোহেল রানা তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং মরদেহ গুমের জন্য মাথা কেটে শরীর থেকে এবং দুই হাত কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করেন। সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না স্বামীর এসব কাজে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। স্বপ্নাকে ঘর থেকে এবং সোহেল রানাকে সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে আটক করা হয় । ঘটনার পরদিন ২০ মে মেয়েটির বাবা পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই দিনই সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শিশুটিকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার বর্ণনা দেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত