
প্রভাব নৈমিত্তিকভাবে চোখে না পড়লেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ম্যালেরিয়া রোগ এখনো দৃঢ়ভাবেই বিদ্যমান। গত দেড় যুগে দেশের নির্দিষ্ট কয়েকটি জেলায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ দেখা গেছে। এসব জেলার ৭২টি উপজেলায় রোগটির উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি বিস্তার ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায়।
ম্যালেরিয়া উপদ্রুত এলাকার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, সীমান্তবর্তী অবস্থান, স্বাস্থ্যসেবায় দেরি এবং সচেতনতার অভাব রোগটির পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেছেন রোগতত্ত্ববিদেরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০০৭ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত প্রায় ১৮ বছরে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে প্রায় সোয়া ৬ লাখ মানুষ। মূলত দেশের ১৩ জেলার ৭২টি উপজেলায় এসব রোগী শনাক্ত হয়েছে। স্থানগুলোর বেশির ভাগ ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী। জেলাগুলো হলো রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও কুড়িগ্রাম। গত দেড় যুগে এসব এলাকায় আক্রান্তদের মধ্যে ৬৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ম্যালেরিয়া একটি সম্ভাব্য প্রাণঘাতী রোগ। ম্যালেরিয়ার জীবাণুতে সংক্রমিত হওয়া স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে এ রোগ মানুষের দেহে প্রবেশ করে। সাধারণত জ্বর, কাঁপুনি, ঘাম, মাথাব্যথা ও দুর্বলতা এ রোগের প্রধান উপসর্গ। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়।
দেশে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ সময়ের সঙ্গে ওঠানামা করেছে। ২০০৮ সাল থেকে রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করলেও ২০১৩ সালে আবার বেড়ে প্রায় ২৭ হাজারে পৌঁছায়। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০১৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৬০ হাজারে দাঁড়ায়। এরপর ধীরে ধীরে বিস্তার কমলেও ২০২২ সালে আবার ১৮ হাজার রোগী শনাক্ত হয়। পরবর্তী বছরগুলোতে কিছুটা কমে ২০২৩ সালে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার, ২০২৪ সালে ১৩ হাজারের বেশি এবং ২০২৫ সালে ১০ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ সর্বোচ্চ। এখানকার তিন জেলায় ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ ম্যালেরিয়ার রোগী পাওয়া যায়। এর মধ্যে বান্দরবানে সোয়া ১ লাখ, রাঙামাটিতে ৭২ হাজার ও খাগড়াছড়িতে ২৩ হাজার রোগী ছিল। মোট রোগীর ৭০ শতাংশের বেশি বান্দরবানে। প্রত্যন্ত জেলাটির দুর্গম এলাকায় এই মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বেশি। আবার মৃত্যুর বড় একটি অংশ ঘটেছে পাশের জেলা চট্টগ্রামে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সংকটাপন্ন ম্যালেরিয়া রোগীরা চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নেয় বলে জেলাটিতে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত বছরের সরকারি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে দেশের ১৩টি জেলায় মোট ১০ হাজার ১৬২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ রোগী পাওয়া গেছে বান্দরবানে; ৫ হাজার ২৩ জন। এরপর রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৬১৪ জন, কক্সবাজারে ৮৪৫ জন এবং খাগড়াছড়িতে ৫৩৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। গত বছর মোট আক্রান্তের প্রায় ৯৮ দশমিক ৫৬ শতাংশই এই চার জেলার। একই সময়ে ম্যালেরিয়ায় মৃত ১৬ জনের মধ্যে ১১ জন মারা গেছে চট্টগ্রামের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। ২০১৬ সালে ম্যালেরিয়ায় ১৭ জন মারা গিয়েছিল। এরপর গত বছর সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে যুক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, গত দেড় যুগে দেশে ম্যালেরিয়া সংক্রমণের মধ্যে স্পষ্ট ভৌগোলিক কেন্দ্রীকরণ দেখা গেছে। মোট আক্রান্তের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় সীমাবদ্ধ। এই প্রবণতার পেছনে পরিবেশগত ও রোগতাত্ত্বিক বিভিন্ন নির্ধারক কাজ করছে। ঘন বনাঞ্চল, উচ্চ বৃষ্টিপাত এবং আর্দ্র জলবায়ু অ্যানোফিলিস প্রজাতির মশার বংশবিস্তারকে অনুকূল করে তোলে। এ জাতের মশাই ম্যালেরিয়া রোগের প্রধান বাহক। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী অবস্থান হওয়ায় প্রতিবেশী দুটি দেশের সংক্রমণ পরিস্থিতির সঙ্গে আন্তসংযোগ এই রোগের স্থায়িত্ব বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের জুমচাষি, বনজীবীসহ দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা; বিশেষ করে কীটনাশকযুক্ত মশারি ব্যবহারে অনীহা বা অনিয়মিত ব্যবহার লক্ষ করা যায়। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা নিতে দেরি করা, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের সীমাবদ্ধতা এবং দুর্গম ভৌগোলিক পরিস্থিতি রোগের জটিলতা ও বিস্তার বাড়ায়। ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে সার্বিক অগ্রগতি সত্ত্বেও পার্বত্য চট্টগ্রামের এই তিন জেলায় সংক্রমণ একটি স্থায়ী জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
ম্যালেরিয়া নির্মূলের লক্ষ্যে সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে প্রণীত জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়াজনিত মৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনা এবং ২০৩৩ সালের মধ্যে দেশ থেকে রোগটি সম্পূর্ণ নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ম্যালেরিয়া নির্মূলে আন্তসীমান্ত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ধরনের রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যকরভাবে সম্ভব নয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা ম্যালেরিয়া নির্মূল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বর্তমানে গ্লোবাল ফান্ডের তহবিল সহায়তায় ম্যালেরিয়া নির্মূল কার্যক্রম চলমান। এটি নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আশা করি নির্ধারিত সময়ে আমরা লক্ষ্য অর্জন করতে পারব।’
ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. নূর-ই-নাজনীন ফেরদৌস গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কয়েকটি বছর আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ওঠানামা করলেও গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ম্যালেরিয়া নির্মূলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বর্তমানে ম্যালেরিয়ার বিস্তার ফোকাল পর্যায়ে (স্থানিক), যার ৯০ শতাংশের বেশি পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোতে সীমাবদ্ধ। পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরও সময়ের পাশাপাশি শক্তিশালী নজরদারি, লক্ষ্যভিত্তিক কার্যক্রম এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন প্রয়োজন।’

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ৬৭ শতক জমির ওপর ছয়তলা সুপার মার্কেট নির্মাণ শুরু হয়। প্রকল্পে কিডস জোন, উদ্যোক্তা কর্নার, জিমনেসিয়াম, কমিউনিটি সেন্টার, মিনি আইটি পার্ক ও আধুনিক পার্কিং সুবিধাসহ নানা পরিকল্পনা ছিল। তবে জমিতে আগে পার্ক থাকায় উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর
১৯ মিনিট আগে
চট্টগ্রামে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের কারণে লোডশেডিং বেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার ১৩৪ দশমিক ৫ মেগাওয়াট থেকে ১৭২ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। এবার এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পানি সরবরাহে। চট্টগ্রাম ওয়াসা জানিয়েছে, লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় পানি উৎপাদন কমেছে ৪ কোটি লিটার।
২৩ মিনিট আগে
গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি সড়কের কাজ শেষ হওয়ার পরপরই ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে গিয়ে সড়কটিতে দেখা যায় ফাটলের দৃশ্য।
২৫ মিনিট আগে
জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বড় ভাই নজরুল ইসলাম ও ছোট ভাই খন্দকার ওয়াহিদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার বিকেলে নিজ বাড়িতে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে বিরোধপূর্ণ জমির সমাধানের লক্ষ্যে স্থানীয় মুরব্বিরা সালিসে বসেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
২৬ মিনিট আগে