Ajker Patrika

পৌরসভার জায়গা দখল, ৫ বছর ধরে বন্ধ ৪৫ কোটি টাকার সুপার মার্কেট নির্মাণকাজ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
পৌরসভার জায়গা দখল, ৫ বছর ধরে বন্ধ ৪৫ কোটি টাকার সুপার মার্কেট নির্মাণকাজ
প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের বেজমেন্টে পানি জমে আছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঝিনাইদহ পৌরসভার মালিকানাধীন (সাবেক পৌর পার্ক) জমি দখল করে গড়ে উঠছে একের পর এক দোকান। প্রশাসনিক বাধা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে দখল কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শুরু হওয়া এই দখলে ইতিমধ্যে ১৯টি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি সম্পত্তি দখল হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এতে প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে জমিটি।

অন্যদিকে একই স্থানের পেছনে বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (বিএমডিএফ) সহায়তায় প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ছয়তলা ঝিনাইদহ পৌর সুপার মার্কেটের কাজ প্রায় পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। আইনি জটিলতার কারণে মাঝপথে থেমে থাকা এই প্রকল্পের ভবনের বেজমেন্টে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা আশপাশের পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, পৌরসভার প্রধান ফটকের দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে দুটি পৃথক ভবনে ১৯টি দোকান রয়েছে। ইটের গাঁথুনি ও টিনের চালার এসব দোকান মাসিক ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়ায় দেওয়া হচ্ছে। এর পেছনেই পড়ে আছে ২০১৯ সালে শুরু হওয়া সুপার মার্কেটের অসমাপ্ত কাঠামো, যেখানে বছরের অধিকাংশ সময় পানি জমে থাকে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ৬৭ শতক জমির ওপর ছয়তলা সুপার মার্কেট নির্মাণ শুরু হয়। প্রকল্পে কিডস জোন, উদ্যোক্তা কর্নার, জিমনেসিয়াম, কমিউনিটি সেন্টার, মিনি আইটি পার্ক ও আধুনিক পার্কিং সুবিধাসহ নানা পরিকল্পনা ছিল। তবে জমিতে আগে পার্ক থাকায় উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নির্মাণাধীন ভবনের সামনের অংশে নতুন করে দোকান গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালীরা এসব দোকান নির্মাণ করে অগ্রিম টাকা নিয়ে ভাড়া দিচ্ছেন।

একজন ফাস্ট ফুড ব্যবসায়ী জানান, তিনি তিন লাখ টাকায় তিন বছরের চুক্তিতে একটি দোকান নিয়েছেন এবং মাসে ১৬ হাজার টাকা ভাড়া দিচ্ছেন। তিনি বলেন, এখানে ব্যবসা করলেও পৌরসভা থেকে কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়নি।

আরেক ব্যবসায়ী বলেন, পাঁচ লাখ টাকা জামানত দিয়ে দোকান নিয়েছেন, তবে পৌরসভার সঙ্গে তাঁদের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্টে সারা বছর পানি জমে থাকে, যা মশার প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে।

পৌরসভার বাজার পরিদর্শক নাজিরুল ইসলাম বলেন, ‘যারা আগে দোকান করতেন, তাঁরাই দখল করে নতুন করে দোকান নির্মাণ করেছেন। আমরা কোনো ভাড়া আদায় করি না। দখলদারেরা প্রভাবশালী হওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন।’

পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুস্তাক আহমেদ বলেন, ‘২৪-এর ৫ আগস্টের পর দখল শুরু হয়। তা প্রতিরোধের চেষ্টা করা হলেও সফল হওয়া যায়নি। এসব দোকান থেকে পৌরসভা কোনো ভাড়া নেয় না এবং কাউকে ট্রেড লাইসেন্সও দেওয়া হয়নি।’

পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রাশেদ খান জানান, নতুন মার্কেট নির্মাণের জন্য পুরোনো মার্কেট ভেঙে ফেলা হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, পুরোনো ব্যবসায়ীরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দোকান পাবেন। কিন্তু আইনি জটিলতায় কাজ বন্ধ হয়ে গেলে সেই সুযোগে একটি চক্র জায়গাটি দখল করে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত