Ajker Patrika

হাদি হত্যা: অস্ত্র বিক্রেতা মাজেদুলের দোষ স্বীকার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ০১
হাদি হত্যা: অস্ত্র বিক্রেতা মাজেদুলের দোষ স্বীকার
শরিফ ওসমান বিন হাদি। ফাইল ছবি

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মাজেদুল হক হেলাল দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের খাসকামরায় তিনি জবানবন্দি দেন।

তিন দিনের রিমান্ড শেষে মাজেদুল হককে আদালতে হাজির করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এএসপি আব্দুল কাদির ভূঞা ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী হেলালের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন করেন। আবেদন অনুযায়ী জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতের পল্টন থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই রুকনুজ্জামান আসামের জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

১৫ এপ্রিল মাজেদুল হক হেলালকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ১৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের চকবাজার থানার হারেছ শাহ মাজার লেন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

মাজেদুল হক হেলাল চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোম্পানির মালিক। হাদি হত্যায় যে অস্ত্রটি ব্যবহৃত হয় সেই অস্ত্রের সরবরাহকারী মাজেদুল হক হেলাল। জবানবন্দিতে তিনি কার কাছে অস্ত্রটি বিক্রি করেছিলেন, কত টাকায় বিক্রি করেছিলেন, তাঁর বর্ণনা দিয়েছেন বলে একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে সেগুলো প্রকাশ করেনি ওই সূত্র।

এর আগে রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, হাদি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি নরসিংদী থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর ওই অস্ত্রের সিরিয়াল নম্বরের সূত্র ধরে সিআইডি জানতে পেরেছে, অস্ত্রটি ২০১৭ সালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের এমএইচ আর্মস কোম্পানি নামের দোকান থেকে চকবাজারে ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্সের কাছে বিক্রি করা হয়। সেখান থেকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হয়।

মাজেদুল হক হেলাল। ফাইল ছবি
মাজেদুল হক হেলাল। ফাইল ছবি

সর্বশেষ কোম্পানির নামে অস্ত্রটির লাইসেন্সও করা হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের পর আর লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। এই অবস্থায় মাজেদুল হক হেলালের থেকে অস্ত্রটি আসামিদের কাছে যায়।

গত ১৫ জানুয়ারি এই মামলার অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ওই দিন আদালতে নারাজি দাখিল করেন মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। নারাজি দিয়ে অধিকতর তদন্তের দাবি করেন বাদী। নারাজি আবেদনে মামলার বাদী দাবি করেন, হাদি হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী শনাক্ত হয়নি। এমনকি মূল রহস্যও উদ্‌ঘাটিত হয়নি।

এর আগে ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে বর্তমানে ১১ জন কারাগারে রয়েছেন। প্রধান আসামি ফয়সালসহ ছয়জন পলাতক। অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর সিআইডি নতুন করে মো. রুবেল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। এই মামলায় মোট ১২ জন কারাগারে আছেন।

শরিফ ওসমান হাদিকে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে গুলি করে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা। মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে মারা যান।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত বছর ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত