
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ থেকে হাদিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।
ডিবিপ্রধান জানান, তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থল ও প্রাসঙ্গিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ, উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্র, বুলেট ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়েছে।
এসব তথ্য–উপাত্তের ভিত্তিতে শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুজনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন—প্রধান আসামি ১. ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭) ও তাঁর সহযোগী, ২. আলমগীর হোসেন (২৬), ৩. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী (৪৩), ৪. ফিলিপ স্নাল (৩২), ৫. মুক্তি মাহমুদ (৫১), ৬. জেসমিন আক্তার (৪২), ৭. হুমায়ুন কবির (৭০), ৮. হাসি বেগম (৬০), ৯. সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), ১০. ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), ১১. মারিয়া আক্তার লিমা (২১), ১২. কবির (৩৩), ১৩. নুরুজ্জামান ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ১৪. সিবিয়ন দিও (৩২), ১৫. সঞ্জয় চিসিম (২৩), ১৬. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) ও ১৭. ফয়সাল (২৫)।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তিনি বেশ কিছুদিন ধরে গণসংযোগ করে আসছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছুক্ষণ পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তাঁকে মাথায় গুলি করার পর আততায়ীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে গত ১৮ ডিসেম্বর মারা যান তিনি।

হাদি হত্যার মোটিভ তুলে ধরে শফিকুল ইসলাম বলেন, ফয়সাল নিজেও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং ভিকটিমের পূর্ববর্তী বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্য থেকে এটা পরিষ্কার যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই হত্যাকাণ্ড। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের পরিকল্পনায় ন্যক্কারজনক এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত কার কী ভূমিকা
পুলিশ বলছে, হাদি হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন ফয়সাল ও তাঁর সহযোগী আলমগীর। ঘটনার দিন দুজন হাদিকে অনুসরণ করছিলেন। মোটরসাইকেলে করে পেছন থেকে এসে রিকশায় বসা হাদিকে গুলি করা হয়। চালকের আসনে ছিলেন আলমগীর হোসেন আর পেছনে বসে থাকা ‘শুটার’ ফয়সাল গুলি করেছিলেন।
তদন্তে হাদি হত্যায় পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর ‘সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে’ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, বাপ্পী শুটার ফয়সাল ও তাঁর সহযোগী আলমগীরের পলায়নে ‘সার্বিক সহায়তাকারী’ হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।

এই তিন আসামি ছাড়া অন্যদের মধ্যে ফয়সালের পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠজনসহ মোট আটজন ফয়সালকে পালাতে নানাভাবে সহায়তা করেছেন। তাঁরা হলেন— ফয়সালের দুলাভাই মুক্তি মাহমুদ, বোন জেসমিন, বাবা হুমায়ুন, মা হাসি, স্ত্রী সাহেদা, শ্যালক ওয়াহিদ, বান্ধবী মারিয়া এবং কবির।
এ ছাড়া ফয়সালকে পালাতে ভাড়া গাড়ি ব্যবস্থা করে দিয়েছেন নুরুজ্জামান। ফিলিপ, সিবিয়ন, সঞ্জয় ও আমিনুল ফয়সালকে সীমান্ত পাড়ি দিতে সহায়তা করেছেন বলে পুলিশের অভিযোগ।
অভিযোগপত্রভুক্ত সবশেষ অর্থাৎ ১৭ নম্বর আসামি ফয়সালকে গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এ মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নতুন তথ্য পাওয়া গেলে বা অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে সম্পূরক অভিযোগ দাখিল করা হবে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরে মাছ শিকারের জাল থেকে একটি অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে শ্রীমঙ্গল ভাড়াউড়া হাইল হাওরে নবীন ও জাবেদ নামের ব্যক্তির জাল থেকে অজগর সাপটি উদ্ধার করা হয়।
২৩ মিনিট আগে
ধোবাউড়া থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, শিশুটির শরীরে কিছু আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে দেখে ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সন্দেহ হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
২৫ মিনিট আগে
আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আমরা রোববার সারা রাত অভিযান চালিয়ে আজ ভোরে শাহজাদপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আনা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
৪১ মিনিট আগে
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, গাছগুলো বিদ্যালয় থেকেই রোপণ করা হয়েছিল এবং জমিটিও বিদ্যালয়ের দখলে ছিল। যদি তৈয়ব হোসেন মামলায় জমি পেয়ে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়ে জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ করা উচিত ছিল।
১ ঘণ্টা আগে