Ajker Patrika

জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনার মানে নেই, যুদ্ধ থামবে লক্ষ্য অর্জনের পর: পুতিন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৬ জুন ২০২৬, ১১: ২৫
জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনার মানে নেই, যুদ্ধ থামবে লক্ষ্য অর্জনের পর: পুতিন
ভ্লাদিমির পুতিন।ফাইল ছবি

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আপাতত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসতে রাজি নন। তিনি বলেছেন, এই মুহূর্তে এমন বৈঠকের কোনো অর্থ তিনি দেখছেন না। গতকাল শুক্রবার সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় পুতিন এ মন্তব্য করেন। এর এক দিন আগে জেলেনস্কি এক খোলা চিঠিতে যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনার জন্য মুখোমুখি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

পরে গতকাল জেলেনস্কি পুতিনের এই প্রত্যাখ্যানের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে ক্রেমলিন আবারও প্রমাণ করেছে যে তারা যুদ্ধের অবসান চায় না। রাতের ভিডিও ভাষণে তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে রুশ পক্ষ আবারও যুদ্ধকেই বেছে নিচ্ছে। সবাই তাদের জবাব শুনেছে। এটি একটি দুর্বল জবাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই জবাব বিশ্বের অনেক মানুষকে হতাশ করেছে।’

পুতিন বলেন, জেলেনস্কির চিঠিতে কিছু অংশ ছিল অভদ্র এবং সেটি তাঁর কাছে আন্তরিক বলেও মনে হয়নি। রুশ প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘এই চিঠিতে কিছু বেশ অভদ্র মন্তব্য রয়েছে। এটি কি মুখোমুখি বৈঠকের পরিবেশ তৈরির উপায় ছিল, নাকি এমন বৈঠক না হওয়ার পরিবেশ তৈরির উপায় ছিল? আমার মনে হয় দ্বিতীয়টিই সত্য।’

জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পুতিন বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি এর কোনো মানে দেখি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইউক্রেনীয় পক্ষের জন্য এর একমাত্র অর্থ হলো আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অগ্রযাত্রা থামানোর চেষ্টা; এটুকুই। আর আমাদের প্রয়োজন চুক্তি। বিশেষজ্ঞদের কাজ করতে দিন, কিছু সমাধান তৈরি করতে দিন, তারপর আমরা দেখা করতে পারি।’

ইউক্রেনে যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে। তবে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে আছে। কারণ, রাশিয়া তাদের দখলে নেওয়া ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে কিয়েভ সেই ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাও নতুন ধাক্কা খেয়েছে। বহু বছর ধরে শান্তি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। নিজের খোলা চিঠিতে জেলেনস্কিও যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তিত পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার অপেক্ষায় বসে থাকা ঠিক হবে না।

এর আগে পুতিন জেলেনস্কিকে মস্কোতে আলোচনার জন্য আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট সেই প্রস্তাব স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। পুতিন বলেছেন, তিনি তৃতীয় কোনো দেশে বৈঠকে রাজি আছেন, তবে তখনই যখন স্বাক্ষরের জন্য কোনো চুক্তি প্রস্তুত থাকবে। গতকালের বক্তব্যে পুতিন আবারও স্পষ্ট করে বলেন, রাশিয়ার নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত হলেই কেবল এই সংঘাতের অবসান ঘটবে। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, সামরিক অভিযান একদিন শেষ হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে তা তখনই শেষ হবে, যখন আমরা নিজেদের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো অর্জন করব।’

সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে আল জাজিরাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিক ইউলিয়া শাপোভালোভা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বোঝা যাচ্ছে যে রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং অন্তত এই মুহূর্তে ভ্লাদিমির পুতিন এই যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী নন।

এদিকে একই অনুষ্ঠানে পুতিন রাশিয়ার অর্থনীতি নিয়ে সমালোচনাও প্রত্যাখ্যান করেন। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ক্রেমলিনের সামরিক অভিযান দেশটির অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, কর বাড়ানো এবং দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণ গ্রহণ ব্যয় সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। যুদ্ধের চাপ এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব বাড়তে থাকায় ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে রাশিয়ার অর্থনীতি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। তিন বছরের মধ্যে এটিই দেশটির প্রথম ত্রৈমাসিক অর্থনৈতিক সংকোচন।

তবে এসব সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে পুতিন বলেন, ‘অবশ্যই আমরা সব দিক থেকে সমালোচনা শুনছি যে সবকিছু ধসে পড়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মূলত সেই স্তরেই নেমে এসেছি, যেখানে ইউরোজোনভুক্ত দেশগুলো কয়েক বছর ধরে অবস্থান করছে।’ তাঁর দাবি, রাশিয়া একটি ‘সার্বভৌম’ অর্থনীতি গড়ে তোলার পথ অনুসরণ করছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত