Ajker Patrika

নির্বাচনী ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণে মন নেই

  • ভোটের ৬ দিন পরও উড়ছে ব্যানার-ফেস্টুন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা প্রার্থী—কেউই ব্যানার সরাননি।
  • কাজীর দেউড়ি মোড়, নিউমার্কেট, আগ্রাবাদ, চকবাজার, বহদ্দারহাটে ঝুলছে ব্যানার।
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯: ০২
নির্বাচনী ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণে মন নেই
চট্টগ্রাম নগরীর গণি বেকারি মোড়ে ঝুলছে ব্যানার, ফেস্টুন। ছবি: আজকের পত্রিকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম নগরের অলিগলিতে টাঙানো হয় প্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুন। কিন্তু ভোটের ছয় দিন পরও ঝুলছে ব্যানার-ফেস্টুনগুলো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা প্রার্থী—কেউই ব্যানার সরাননি।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ২০২৫ সালের নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্বাচন-পরবর্তী ও নির্বাচন-পূর্ববর্তী প্রচারসামগ্রী নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ীকে বা সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে নিজ দায়িত্বে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনী ব্যানার ও ফেস্টুন সরিয়ে ফেলতে হবে। কিন্তু চট্টগ্রামে তা হয়নি। তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনও এসব ব্যানার-ফেস্টুন সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতি সর্ববিদ্যা বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের পর সিটি করপোরেশন ব্যানার অপসারণের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনা আসে নাই। নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী কাজ করব।’

তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২০ দিন প্রার্থীরা নিজ এলাকায় নানাভাবে প্রচার চালিয়েছেন। এসব প্রচারের অংশ হিসেবে প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে ব্যানার-ফেস্টুন লাগায়। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট হয়। এবার প্রচারে পোস্টার সাঁটানো নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রচুর ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী ভোটের পর প্রার্থীদের নিজ দায়িত্বে ব্যানার অপসারণের কথা। কিন্তু তা করা হয়নি। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখা যায়, এখনো উড়ছে প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যানার-ফেস্টুনগুলো। নগরের কাজীর দেউড়ি মোড়, গণি বেকারি, নিউমার্কেট, আগ্রাবাদ, চকবাজার, চন্দনপুরা, কালামিয়া বাজার, বহদ্দারহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনো আছে ব্যানার।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী জানান, এবার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, এলডিপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, গণফোরাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, সুপ্রিম পার্টি, বাসদ, গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, নেজামে ইসলাম পার্টিসহ বিভিন্ন দল এবং স্বতন্ত্র মিলে মোট ১১৫ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এবার চট্টগ্রামে মোট ভোটার ছিল ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭ জন, নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭০ জন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধির ১৯ নম্বর ধারায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের নির্বাচনী সামগ্রী অপসারণের কথা বলা হয়েছে।

পরিবেশ আন্দোলন নিয়ে সক্রিয় নগরের কাট্টলী এলাকার বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, যত্রতত্র ব্যানার-ফেস্টুন পড়ে থাকায় একদিকে যেমন নগরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিনষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। এ বিষয়টা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভালোভাবে দেখা উচিত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এখন টিভির ঘটনা সমঝোতার চেষ্টা করবেন তথ্যমন্ত্রী

ড. ইউনূস এখন কোথায় আছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী উঠবেন কোথায়?

২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন, সভাপতিত্ব করবেন কে

ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করবে সরকার, হবে সর্বজনীন

বৈধ সুবিধাকে অস্বীকার করে জনগণের সামনে সাধু সাজা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত