Ajker Patrika

চট্টগ্রামে কলেজছাত্রকে আটতলা থেকে ফেলে হত্যার ঘটনায় আরও দু’জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে কলেজছাত্রকে আটতলা থেকে ফেলে হত্যার ঘটনায় আরও দু’জন গ্রেপ্তার
আশফাক কবির সাজিদ। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরে নির্মাণাধীন একটি আটতলা ভবন থেকে নিচে ফেলে কলেজ শিক্ষার্থী আশফাক কবির সাজিদকে (১৭) হত্যার ঘটনায় আরো দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টায় খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় ও রাত ৩ টায় বাগেরহাট জেলায় র‌্যাব-৭ ও র‌্যাব-৬ এর পৃথক দুটি অভিযানিক দল তাঁদের গ্রেপ্তার করেন। এ নিয়ে মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো এ ঘটনায়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- রানা ওরফে মাইকেল রানা ও মো: ইলিয়াস। এদের মধ্যে রানা চট্টগ্রামের সন্দীপ উপজেলার রহমতপুর গ্রামের এবং ইলিয়াস চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানাধীন দেওয়ান বাজার এলাকার বাসিন্দা।

আজ রোববার র‌্যাব-৭ এর মুখপাত্র সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফফর হোসেন এই দু’জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া দু’জনই হত্যা মামলাটির এজাহারনামীয় তিন ও চার নম্বর আসামি। হত্যাকাণ্ডের পর তাঁরা পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁদের অবস্থানের তথ্য পেয়ে রানাকে খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার মহামুনি বাসস্ট্যান্ড এলাকা এবং ইলিয়াসকে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার বড় খাজুরার হাট পূর্বপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দু’জনকে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত ১২ এপ্রিল রাতে চকবাজার থানার ডিসি রোড এলাকার মৌসুমী আবাসিক এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের খালি জায়গা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করা হয় আশফাক কবির সাজিদকে (১৭)। পরদিন ১৩ এপ্রিল চকবাজার থানায় নিহতের পূর্বপরিচিতসহ কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। গত ১৫ এপ্রিল ভবনটির নিরাপত্তারক্ষীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন- নিহত আশফাকের পরিচিত মিসকাতুল কায়েস, এনায়েত উল্লাহ, আইমন এবং ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হক।

নিহত সাজিদ চট্টগ্রাম নগরের বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার আবুল হাশেম খন্দকারের ছেলে। নগরের বাকলিয়া ডিসি রোডে একটি বাসায় ভাড়া থাকত।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১২ তারিখ বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সাজিদকে তার বন্ধু ফারদিন হাসান মুঠোফোনে কল দিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমী আবাসিক এলাকার মোড়ে ডেকে নেয়। সেখানে কথা বলার সময় আইমন, অনিক, মাইকেল রানা, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ ও মিসকাতুল কায়েসসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন সাজিদকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে সাজিদ কৌশলে তাদের হাত থেকে বাঁচতে দৌড়ে চকবাজার থানার ডিসি রোডের মৌসুমী আবাসিকের আমিন অ্যান্ড হাসান ম্যানশনের ৮ তলা ভবনের ভেতর প্রবেশ করে। ভেতর থেকে ভবনের গেট আটকে দিয়ে সে অষ্টম তলায় উঠে যায়। পেছনে ধাওয়া করা তরুণরা ভবনের সামনে অবস্থান নেয়।

এক পর্যায়ে দারোয়ানকে বলে তারা গেট খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর অষ্টম তলায় উঠে সাজিদকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং লিফটের খালি জায়গায় (নিচে) ফেলে দেয়। এসময় স্থানীয়রা সাজিদকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ৯৯৯ নম্বরে কল দেন। পরে পুলিশ গিয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাথমিক তদন্তে ‘কিশোর গ্যাং’ এর মধ্যে দ্বন্দ্ব থেকে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত