Ajker Patrika

অগ্রণী ব্যাংক: বন্ধকি সম্পত্তি গোপনে বিক্রি ব্যাংকের ৩২৬ কোটি ঝুঁকিতে

  • ১১৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল মেসার্স জয়নব ট্রেডিং
  • সুদে-আসলে তা হয়েছে ৩২৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা
  • ঋণের বিপরীতে থাকা বন্ধকি তিনটি ভবন বিক্রি করেছে প্রতিষ্ঠানটি
 আবু বকর ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭: ৩৯
রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের কাছে বন্ধক রাখা সম্পত্তিতে থাকা স্থাপনা গোপনে ভেঙে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরীর জামালখান এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা
রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের কাছে বন্ধক রাখা সম্পত্তিতে থাকা স্থাপনা গোপনে ভেঙে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরীর জামালখান এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির কাছ থেকে নেওয়া বিপুল অঙ্কের ঋণ পরিশোধ না করেই ব্যাংকের কাছে বন্ধক রাখা সম্পত্তি গোপনে ভেঙে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জভিত্তিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয়নব ট্রেডিং লিমিটেডের বিরুদ্ধে। এতে সরকারি প্রায় ৩২৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা আদায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

ব্যাংক সূত্র ও নথি পর্যালোচনায় জানা যায়, খাতুনগঞ্জভিত্তিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয়নব ট্রেডিং লিমিটেড ২০১৪ সালে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির আসদগঞ্জ করপোরেট শাখা থেকে ১১৪ কোটি টাকা ঋণ নেয়। ঋণ নেওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত দেনা পরিশোধে ব্যর্থ হয়। ফলে ঋণটি বর্তমানে খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকৃত।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কাছে সুদে-আসলে ব্যাংকের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩২৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ৭ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে পরিশোধের পরিমাণ মাত্র ২৩ লাখ টাকা।

নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ২৬৯ কোটি টাকার ডিক্রি প্রদান করেন। আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত ব্যাংক তাদের পাওনা অর্থ উদ্ধার করতে পারেনি। এরই মধ্যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, ব্যাংকের কাছে বন্ধক রাখা চট্টগ্রাম নগরীর জামালখান এলাকার ৯৪, এসএস খালেদ রোডে অবস্থিত আফফান কমপ্লেক্স তিনটি বহুতল ভবন ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই গোপনে বিক্রি করে দিয়েছে মেসার্স জয়নব ট্রেডিং লিমিটেড। বিক্রি করা ওই ভবন ভেঙে ফেলার কাজ ইতিমধ্যে প্রায় শেষের দিকে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা ও ঋণগ্রহিতার যোগসাজশে এ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অগ্রণী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় শাখাকে ‘ম্যানেজ’ করেই বন্ধকি সম্পত্তি গোপনে হস্তান্তর ও বিক্রি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ওই তিনটি ভবনের প্রায় ৫৩টি ফ্ল্যাট থেকে মাসে আনুমানিক ৭ লাখ টাকা ভাড়া আদায় হতো, যা কখনোই ব্যাংকের হিসাবে সংযুক্ত করা হয়নি।

এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের আসদগঞ্জ করপোরেট শাখার ব্যবস্থাপক মো. জোবাইরুল হক কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, বিষয়টি ব্যাংকের গোপনীয়তার আওতাভুক্ত।

তবে নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ৫ নভেম্বর তিনি ব্যাংকের অনুকূলে বন্ধকিকৃত সম্পত্তি শাখার অগোচরে হস্তান্তরের বিষয়ে ব্যাংকের আইনজীবী বদরুল রিয়াজের কাছে একটি পত্র দেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এসএস খালেদ রোডের উল্লিখিত তিনটি ভবনের প্রায় অর্ধেক অংশ ইতিমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে কোনো ভাড়াটে না থাকলেও সামনের অংশে ৮ থেকে ৯টি দোকান এখনো চালু রয়েছে। এ বিষয়ে মেসার্স জয়নব ট্রেডিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মাহমুদ বলেন, ‘এটি আমার ও ব্যাংকের গোপনীয় বিষয়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত