Ajker Patrika

ইরানে হামলার আশঙ্কায় তেলের বাজারে আগুন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরানে হামলার আশঙ্কায় তেলের বাজারে আগুন
ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে

ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭০ দশমিক ৫ ডলারে পৌঁছেছে। দিনের একপর্যায়ে এটি ৭০ দশমিক ৩৫ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, যা গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ।

গতকাল বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ইরানকে চুক্তিতে আসার হুঁশিয়ারি দেন। এর পর থেকেই তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান আলোচনায় না বসলে পরবর্তী মার্কিন হামলা হবে ‘আরও ভয়াবহ’। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ওপেকের চতুর্থ বৃহত্তম উৎপাদক হিসেবে ইরান প্রতিদিন প্রায় ৩২ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি হামলার শিকার হলে ইরানের তেল উৎপাদন ও রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তবে বড় দুশ্চিন্তা হরমুজ প্রণালি নিয়ে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এ পথে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

বাজার বিশ্লেষক সংস্থা পিভিএমের বিশ্লেষক জন ইভান্স বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘বর্তমান তেলের বাজারের প্রধান দুশ্চিন্তা হলো ইরান যদি পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ২১ শতাংশ।’

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের প্রায় ৭০ শতাংশেরই ভোক্তা দক্ষিণ এশিয়া। এর মধ্যে রয়েছে চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও ফিলিপাইন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাও সরাসরি মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে। ফলে হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের প্রভাবের প্রতিক্রিয়া এসব দেশের জ্বালানি তেলের বাজারেও পড়বে।

চলতি বছরের শুরু থেকেই তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেবল জানুয়ারি মাসেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত চার বছরের মধ্যে কোনো এক মাসে তেলের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ রেকর্ড।

তবে তেলের দাম বাড়ার পেছনে অন্য কিছু কারণও আছে। যেমন—বিশ্ববাজারে ডলারের মান কমে যাওয়ায় অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের কাছে তেল কেনা সস্তা হয়েছে, যা চাহিদা বাড়িয়েছে। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) জানিয়েছে, গত সপ্তাহে দেশটিতে তেলের মজুত প্রায় ২৩ লাখ ব্যারেল কমেছে, যা বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এ ছাড়া বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে কাজাখস্তানের বৃহত্তম তেলক্ষেত্রে উৎপাদন সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাবও পড়েছে তেলের বাজারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

রাজশাহী বিভাগের ৩৯ আসন: ১৬ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

ইরানে মার্কিন হামলার ৭ সম্ভাব্য পরিণতি

প্রয়োজনে ইরান থেকে নিজেদের বিজ্ঞানীদের সরিয়ে নিতে প্রস্তুত রাশিয়া

তেহরান পুড়লে জ্বলবে রিয়াদও, ইরানের অস্তিত্বের লড়াই যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্যনিয়ন্তা

আজকের রাশিফল: যা ছোঁবেন সেটাই সোনা হবে, তবে অন্যের জিনিসে হাত দেবেন না

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত