ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে যখন বিশ্বের নানা প্রান্তের পরিবারগুলোকে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে, তখন কিছু কোম্পানি উল্টো অস্বাভাবিক মুনাফা গুনছে। যুদ্ধ ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এবং ইরানের কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। এতে চাপের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সরকারগুলোর বাজেট।
তবে যেখানে অনেকে টিকে থাকার লড়াইয়ে নেমেছে, সেখানে এমন কিছু কোম্পানি আছে, যাদের মূল ব্যবসাই যুদ্ধের সময় বেশি লাভজনক হয়ে ওঠে কিংবা যারা অস্থির জ্বালানি দামের সুবিধা পায়। এই যুদ্ধ থেকে তারা রেকর্ড আয় করছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত চলাকালে যেসব খাত ও কোম্পানি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করছে, সেগুলোর কয়েকটি নিচে তুলে ধরা হলো—
তেল ও গ্যাস
এ পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক প্রভাব পড়েছে জ্বালানির দামে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে সেই পরিবহন কার্যত থেমে যায়। ফলে জ্বালানি বাজারে দামের ব্যাপক ওঠানামা শুরু হয়। আর এর সুবিধা নেয় বিশ্বের বড় বড় তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো।
সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে ইউরোপের জ্বালানি কোম্পানিগুলো। কারণ, তাদের নিজস্ব ট্রেডিং বিভাগ রয়েছে। আর এ কারণেই তেলের দামের হঠাৎ ওঠানামা থেকে বিপুল মুনাফা করতে সক্ষম হয়েছে। ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে তাদের মুনাফা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৩২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তাদের ভাষায়, এর পেছনে ছিল ট্রেডিং বিভাগের ‘ব্যতিক্রমী’ পারফরম্যান্স।
আরেক ব্রিটিশ জ্বালানি কোম্পানি শেলের মুনাফাও বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে। কোম্পানিটি প্রথম প্রান্তিকে ৬৯২ কোটি ডলার মুনাফা করেছে। ফ্রান্সভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি জায়ান্ট টোটালএনার্জিসের মুনাফা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ৫৪০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর পেছনেও ছিল তেল ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা।
যুক্তরাষ্ট্রের জায়ান্ট এক্সনমোবিল ও শেভরনের আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। তবে দুই কোম্পানিই বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে। তাদের আশা, বছরের বাকি সময়ে মুনাফা আরও বাড়বে। কারণ যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় তেলের দাম এখনও অনেক বেশি।
ব্যাংক খাত
ইরান যুদ্ধের সময় বিশ্বের কয়েকটি বড় ব্যাংকের মুনাফাও বেড়েছে। জেপি মরগানের ট্রেডিং বিভাগ ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে রেকর্ড ১ হাজার ১৬০ কোটি ডলার আয় করেছে। এর ফলে ব্যাংকটি ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক মুনাফা অর্জন করেছে। ‘বিগ সিক্স’ নামে পরিচিত বাকি ব্যাংকগুলোও প্রথম প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য মুনাফা করেছে। এই তালিকায় রয়েছে—ব্যাংক অব আমেরিকা, মরগান স্ট্যানলি, সিটিগ্রুপ, গোল্ডম্যান স্যাকস ও ওয়েলস ফার্গো। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে এসব ব্যাংক ৪ হাজার ৭৭০ কোটি ডলার মুনাফা করেছে।
যুক্তরাজ্যের অন্যতম বৃহত্তম ব্রোকার ও বিনিয়োগ পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুসানা স্ট্রিটার বলেন, ‘বড় ধরনের ট্রেডিং ভলিউম বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোকে লাভবান করেছে। বিশেষ করে মরগান স্ট্যানলি ও গোল্ডম্যান স্যাকস সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে।’
মার্কিন শেয়ার বাজার ওয়াল স্ট্রিটের বড় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত ট্রেডিংয়ের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে লাভবান হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ার ও বন্ড থেকে সরে এসে নিরাপদ মনে করা সম্পদে অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন। একই সঙ্গে বাজারের অস্থিরতা থেকে লাভ তুলতে চেয়েও অনেকে ব্যাপক লেনদেন করছেন।
স্ট্রিটার আরও বলেন, ‘যুদ্ধ থেকে তৈরি হওয়া অস্থিরতা ট্রেডিংয়ে বড় উল্লম্ফন এনেছে। কেউ সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কায় শেয়ার বিক্রি করেছে, আবার কেউ দাম কমে যাওয়ার সুযোগে কিনেছে। এতে পুনরুদ্ধারমূলক বাজার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে।’
প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো
যেকোনো সংঘাতে সবচেয়ে দ্রুত লাভবান হওয়া খাতগুলোর একটি হলো প্রতিরক্ষা শিল্প। এমনটাই বলেছেন বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান আরএসএম ইউকের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক এমিলি সাওইচ। তিনি বলেন, ‘এই সংঘাত আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ঘাটতি আবারও সামনে এনেছে। ফলে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জামে বিনিয়োগ দ্রুত বেড়েছে।’
যুদ্ধ শুধু প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর গুরুত্বই বাড়ায় না, একই সঙ্গে সরকারগুলোকে অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতেও বাধ্য করে। ফলে চাহিদা আরও বাড়ে। এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ নির্মাতা ব্রিটিশ কোম্পানি বিএই সিস্টেমস গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক ট্রেডিং আপডেটে জানিয়েছে, চলতি বছরে তাদের বিক্রি ও মুনাফা শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখাবে বলে তারা আশা করছে। কোম্পানিটি বলেছে, বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ‘নিরাপত্তা হুমকি’ সরকারগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়েছে। এতে তাদের জন্য ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর তিনটি, লকহিড মার্টিন, বোয়িং ও নর্থরপ গ্রুম্যান জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক শেষে তাদের ‘অর্ডার ব্যাকলগ’ (অর্ডার ব্যাকলগ হলো একটি প্রতিষ্ঠানের গৃহীত অথচ এখনো গ্রাহকের কাছে পাঠানো বা সরবরাহ করা হয়নি এমন পণ্য বা সেবার মোট পরিমাণ) রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যেসব প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম দ্রুত বেড়েছিল, মার্চের মাঝামাঝি সময়ের পর সেগুলোর দর আবার কমতে শুরু করেছে। কারণ খাতটিকে অতিমূল্যায়িত বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত
সুসানা স্ট্রিটারের মতে, এই যুদ্ধ আবারও দেখিয়ে দিয়েছে যে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো কতটা জরুরি। তাঁর ভাষায়, এটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ‘অতিরিক্ত গতি’ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, যুদ্ধের পর নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগকে এখন স্থিতিশীলতা ও ধাক্কা মোকাবিলার সক্ষমতার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে লাভবান হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হলো ফ্লোরিডাভিত্তিক নেক্সটএরা এনার্জি। চলতি বছরে তাদের শেয়ারের দাম ইতোমধ্যে ১৭ শতাংশ বেড়েছে, কারণ বিনিয়োগকারীরা ব্যাপকভাবে কোম্পানিটিতে অর্থ ঢালছেন। ডেনমার্কের উইন্ডপাওয়ার জায়ান্ট ভেসটাস ও অরস্টেডও মুনাফা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, ইরান যুদ্ধের প্রভাব নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোম্পানিগুলোকেও লাভবান করছে।
যুক্তরাজ্যে অক্টোপাস এনার্জি সম্প্রতি বিবিসিকে জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে সৌর প্যানেল ও হিট পাম্প বিক্রিতে ‘বড় ধরনের ইতিবাচক ধাক্কা’ লেগেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে সোলার প্যানেলের বিক্রি ৫০ শতাংশ বেড়েছে। পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদাও বেড়েছে। বিশেষ করে চীনা নির্মাতারা এই সুযোগ সবচেয়ে বেশি কাজে লাগাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমলেও গ্রাহক পর্যায়ে খুচরা বাজারে দাম না কমানোয় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ‘গ্রাহক ঠকানোর’ (প্রাইস গ্যাজিং) অভিযোগ...
২ ঘণ্টা আগে
দেশের বাজারে সোনার দাম আরেক দফা কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করেছে। এ নিয়ে টানা দুই দিন সোনা দাম কমল ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা।
৪ ঘণ্টা আগে
একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে বাজার। ফলে দেশের সিমেন্টশিল্প এখন দ্বিমুখী চাপে পড়েছে। নির্মাণ খাতে দীর্ঘস্থায়ী মন্দা, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং ব্যক্তিপর্যায়ে বাড়িঘর নির্মাণ কমে যাওয়ার কারণে সিমেন্টের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
দেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিকস পণ্য বিক্রয় ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন প্লাজা সারা দেশে দিনব্যাপী মেডিকেল ক্যাম্পের আওতায় জনসাধারণকে ফ্রি চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে। বুধবার (২৪ জুন) দেশজুড়ে একযোগে ৭ শতাধিক ওয়ালটন প্লাজায় দিনব্যাপী এই চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।
১৫ ঘণ্টা আগে