
আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন নবায়ন ফি জমা দেওয়ার পরও অধিকাংশ বিমা কোম্পানির ২০২৫ সালের লাইসেন্স এখনো নবায়ন হয়নি। বীমা আইন, ২০১০-এর ১১(২) ধারা অনুযায়ী প্রতিবছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কোম্পানিগুলোকে এই ফি পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ফি জমা দিয়েও অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো লাইসেন্স হাতে পায়নি। আবার যারা সংশোধিত ফি কাঠামো নিয়ে জটিলতায় পড়েছে, তাদের নবায়নের প্রক্রিয়াও ঝুলে আছে। এর মধ্যেই সামনে চলে এসেছে ২০২৬ সালের নবায়নের সময়সীমা। আগের জট না কাটায় চলতি বছরের ফিও অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বকেয়া পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে পুরো বিমা খাতে অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক জটিলতা বাড়ছে। একই সঙ্গে নতুন ব্যবসা সম্প্রসারণ, নথিপত্র হালনাগাদ এবং নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে সংশ্লিষ্ট বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) থেকে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) হস্তক্ষেপ চেয়েছে। গত সপ্তায় সংস্থাটির চেয়ারম্যানকে পাঠানো এক চিঠিতে এ বিষয়ে সরকারকে দ্রুত গেজেট সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে বিআইএর প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ।
এর আগে গত ২৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিআইএর ২২৭তম নির্বাহী কমিটির সভায়ও বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়। সভায় বিমা কোম্পানির মালিকরা প্রশ্ন তোলেন—আইন মেনে ফি দেওয়ার পরও কেন লাইসেন্স ঝুলে আছে। এ নিয়ে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেক উদ্যোক্তা মনে করছেন, দীর্ঘসূত্রতা চলতে থাকলে পুরো খাতে আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে।
বিআইএ জানায়, গত ১ মার্চ সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদল আইডিআরএর তৎকালীন চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে ২০২৬ সালের বর্ধিত নবায়ন ফি ছাড়াই লাইসেন্স নবায়নের অনুরোধ জানানো হলে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনো অধিকাংশ কোম্পানির নবায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
সংগঠনটির দাবি, যারা ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত ফি জমা দিয়েছে, তাদের লাইসেন্স দ্রুত নবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে বাড়তি নবায়ন ফি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা দূর করতে প্রয়োজন হলে সরকারি গেজেট সংশোধন করতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাঈদ আহমেদ বলেন, বিমা খাতের স্বার্থে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। তা না হলে খাতে অরাজকতা তৈরি হবে।
আইডিআরএর তথ্য অনুযায়ী, বিমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা, ২০১২ অনুসারে কোম্পানিগুলোকে নির্ধারিত হারে ফি দিতে হয়। সে অনুযায়ী অনেক প্রতিষ্ঠান প্রতি হাজার টাকা গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১ টাকা হারে ফি জমা দেয়। তবে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন কার্যকর হওয়ার পর ৬৭টি প্রতিষ্ঠান নতুন হারে ফি পরিশোধ করতে পারেনি।
সংশোধিত গেজেটে ২০২৬-২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রতি হাজার টাকা গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২ টাকা ৫০ পয়সা হারে নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১ টাকা। পরবর্তী ধাপে এ হার আরও বাড়িয়ে ৫ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নবায়নের আবেদন ও ফি জমার পর ফেব্রুয়ারিতে গেজেট প্রকাশ করে বাড়তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে পুরোনো হারে ফি দেওয়া কোম্পানিগুলোকে এখন অতিরিক্ত অর্থ দিতে বলা হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একবার জমা দেওয়া ফি পেছন থেকে কার্যকর করে বাড়তি অর্থ আদায়ের সুযোগ আইনে নেই।
জেনিথ ইসলামী লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এস এম নূরুজ্জামান, নভেম্বরেই নবায়নের আবেদন করা হয়েছে, কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে ফি বাড়ানো হয়েছে। এ অবস্থায় বাড়তি ফি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন।
এ বিষয়ে আইডিআরএর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করা কোম্পানিগুলোর নবায়নপ্রক্রিয়া চলছে। বিআইএর আবেদন আমলে নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

বাজুস জানিয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। তবে গয়নার নকশা ও ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি যুক্ত হবে।
১ ঘণ্টা আগে
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংক, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির নির্বাহী কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যাংকের কর্পোরেট কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান কাজি শায়রুল হাসান।
২১ ঘণ্টা আগে
অননুমোদিত এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রতারিত হলে কিংবা এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোনো অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানা থাকলে বিএফআইইউর কাছে অভিযোগ করা যাবে।
১ দিন আগে
জ্বালানি আমদানিতে বাংলাদেশের ডলার খরচ এক বছরে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জ্বালানি আমদানিতে ৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেই ব্যয় বেড়ে হয়েছে ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে বাড়তি খরচ হয়েছে ৫ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার।
১ দিন আগে