দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন

ভারতের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের গৌতম আদানি ও তাঁর ব্যবসায়িক গোষ্ঠী আদানি গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিযোগপত্র দাখিল ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও আদানি গ্রুপের সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে। এমনটাই ধারণা করছেন ঢাকার জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের আদানির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এমন এক সময়ে উঠল, যখন ঢাকার হাইকোর্ট আদানি গ্রুপের সঙ্গে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চুক্তি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এই চুক্তির আওতায় গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করা হয়।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ‘আদানি ও শেখ হাসিনা সরকারের মধ্যে এই জ্বালানি চুক্তি শুরু থেকেই বিতর্কিত ছিল। কারণ, এটি অন্য অনেক চুক্তির মতো টেন্ডারের মাধ্যমে হয়নি। তবুও অন্তর্বর্তী সরকার ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে সংলাপ চালানোর চেষ্টা করেছিল। তবে মার্কিন অভিযোগপত্রের পর সংলাপের সেই সুযোগ সংকুচিত হতে পারে। কারণ, বাংলাদেশ এখন আদানি গ্রুপের ওপর বেশি চাপ প্রয়োগ করতে পারে মূল্য সংক্রান্ত সমঝোতার জন্য।’
আদানির বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের বিষয়ে এবং বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি পর্যায়ের বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তি অব্যাহত থাকবে এবং কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিতে হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই।
আদানি পাওয়ার লিমিটেড (এপিএল) ২০২৩ সালের এপ্রিলে ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত ৮০০ মেগাওয়াটের আল্ট্রা-সুপার ক্রিটিক্যাল থার্মাল ইউনিট (প্রথম) থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। এ প্রকল্প বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হলেও তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ‘প্রথমে আদানির প্রস্তাব আকর্ষণীয় মনে হয়েছিল, কারণ তারা অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা এনে বাংলাদেশের চাহিদা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দর না থাকায় বড় পরিসরের কয়লা আমদানি কঠিন ছিল। তবে সমালোচকরা বলছেন, আদানি ভারত সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি পেলেও এর সুবিধা বাংলাদেশকে দেয়নি।’
মূল্য সংক্রান্ত সমস্যাটি শেখ হাসিনা সরকারের সময়ও ছিল। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) আদানিকে মূল্য পুনর্বিবেচনার জন্য চিঠি পাঠায়। আদানি প্রতি মেট্রিক টন কয়লার দাম ৪০০ ডলার দাবি করলেও, বিপিডিবি যুক্তি দেয় যে এটি ২৫০ ডলারের কম হওয়া উচিত। কারণ, অন্যান্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য তারা এই দামেই কয়লা কিনেছে।
চলতি বছরের আগস্টে হাসিনা সরকার পতনের পর বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি। হাসিনা সরকারের পতনের পর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন জ্বালানি প্রকল্প পর্যালোচনার আওতায় আসে। অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত একটি বিশেষ কমিটি এই চুক্তিগুলো খতিয়ে দেখা শুরু করে।
যদিও জনমনে চুক্তিটি নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব ছিল, তারপরও অন্তর্বর্তী সরকার আদানির সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যায়। আদানি পাওয়ার বকেয়া বিল নিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিলে, বাংলাদেশ সরকার ১ হাজার ৪৫০ কোটি পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং প্রতিশ্রুতির বেশিরভাগ অর্থ পরিশোধও করে।
যাই হোক, ঢাকার হাইকোর্টের সর্বশেষ নির্দেশনায় আদানির সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি পুনরায় খতিয়ে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আদানি চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা এখন সরকারের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

ভারতের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের গৌতম আদানি ও তাঁর ব্যবসায়িক গোষ্ঠী আদানি গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিযোগপত্র দাখিল ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও আদানি গ্রুপের সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে। এমনটাই ধারণা করছেন ঢাকার জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের আদানির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এমন এক সময়ে উঠল, যখন ঢাকার হাইকোর্ট আদানি গ্রুপের সঙ্গে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চুক্তি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এই চুক্তির আওতায় গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করা হয়।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ‘আদানি ও শেখ হাসিনা সরকারের মধ্যে এই জ্বালানি চুক্তি শুরু থেকেই বিতর্কিত ছিল। কারণ, এটি অন্য অনেক চুক্তির মতো টেন্ডারের মাধ্যমে হয়নি। তবুও অন্তর্বর্তী সরকার ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে সংলাপ চালানোর চেষ্টা করেছিল। তবে মার্কিন অভিযোগপত্রের পর সংলাপের সেই সুযোগ সংকুচিত হতে পারে। কারণ, বাংলাদেশ এখন আদানি গ্রুপের ওপর বেশি চাপ প্রয়োগ করতে পারে মূল্য সংক্রান্ত সমঝোতার জন্য।’
আদানির বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের বিষয়ে এবং বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি পর্যায়ের বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তি অব্যাহত থাকবে এবং কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিতে হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই।
আদানি পাওয়ার লিমিটেড (এপিএল) ২০২৩ সালের এপ্রিলে ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত ৮০০ মেগাওয়াটের আল্ট্রা-সুপার ক্রিটিক্যাল থার্মাল ইউনিট (প্রথম) থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। এ প্রকল্প বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হলেও তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ‘প্রথমে আদানির প্রস্তাব আকর্ষণীয় মনে হয়েছিল, কারণ তারা অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা এনে বাংলাদেশের চাহিদা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দর না থাকায় বড় পরিসরের কয়লা আমদানি কঠিন ছিল। তবে সমালোচকরা বলছেন, আদানি ভারত সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি পেলেও এর সুবিধা বাংলাদেশকে দেয়নি।’
মূল্য সংক্রান্ত সমস্যাটি শেখ হাসিনা সরকারের সময়ও ছিল। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) আদানিকে মূল্য পুনর্বিবেচনার জন্য চিঠি পাঠায়। আদানি প্রতি মেট্রিক টন কয়লার দাম ৪০০ ডলার দাবি করলেও, বিপিডিবি যুক্তি দেয় যে এটি ২৫০ ডলারের কম হওয়া উচিত। কারণ, অন্যান্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য তারা এই দামেই কয়লা কিনেছে।
চলতি বছরের আগস্টে হাসিনা সরকার পতনের পর বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি। হাসিনা সরকারের পতনের পর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন জ্বালানি প্রকল্প পর্যালোচনার আওতায় আসে। অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত একটি বিশেষ কমিটি এই চুক্তিগুলো খতিয়ে দেখা শুরু করে।
যদিও জনমনে চুক্তিটি নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব ছিল, তারপরও অন্তর্বর্তী সরকার আদানির সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যায়। আদানি পাওয়ার বকেয়া বিল নিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিলে, বাংলাদেশ সরকার ১ হাজার ৪৫০ কোটি পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং প্রতিশ্রুতির বেশিরভাগ অর্থ পরিশোধও করে।
যাই হোক, ঢাকার হাইকোর্টের সর্বশেষ নির্দেশনায় আদানির সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি পুনরায় খতিয়ে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আদানি চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা এখন সরকারের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে ব্যবহৃত ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট মানের সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস অর্থাৎ শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দেশীয় স্পিনিং-শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষা, রপ্তানি খাতে মূল্য সংযোজন বাড়ানো ও এলডিসি উত্তরণপরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উদ্দেশ্যে এমন
৩ ঘণ্টা আগে
দেশের নির্মাণসামগ্রী খাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে র্যাপিড হার্ডেনিং সিমেন্ট। সারা বিশ্বেই র্যাপিড হার্ডেনিং সিমেন্ট বর্তমানে বড় পরিসরে ব্যবহৃত হচ্ছে। নতুন দিনের নির্মাণ চাহিদা পূরণে এবং দ্রুততার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করতে র্যাপিড হার্ডেনিং সিমেন্ট ব্যবহারের প্রচলন আমাদের দেশে এখনো তুলনামূলকভাবে নতুন।
৫ ঘণ্টা আগে
চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন খাতে ৮৫৬টি প্রকল্প রয়েছে; কিন্তু এর জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) এ চিত্র দেখা গেছে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারি অর্থায়নে ৪১৩, বৈদেশিক অর্থায়নে ১৫৭, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৩৫, পিপিপির আওতাভুক্ত প্রকল্প ৮১ এবং জলবায়ু
১৯ ঘণ্টা আগে
রাজস্ব আয়, উদ্বৃত্ত ও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অবদান—এই তিন ক্ষেত্রেই গত পাঁচ বছরে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০২১ থেকে ২০২৫—এই পাঁচ বছরে গড়ে ১৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ রাজস্ব আয় প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি গড়ে ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ রাজস্ব উদ্বৃত্ত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরটি।
২০ ঘণ্টা আগে