
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুসারে ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ১৯ কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ২৩২। এর মধ্যে সঞ্চয়ী হিসাব ১৭ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫ ও ঋণ হিসাবের সংখ্যা ১ কোটি ৫৩ লাখ ৭৬৭।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে চাঁদপুর-৩ আসনের সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
ওই সংসদ সদস্যের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের মধ্যে শতভাগ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্যে সরকার জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল (এনএফআইএস) প্রণয়ন করেছে। বাংলাদেশে বর্তমান আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার ৬৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।
কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং সেক্টরে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট খেলাপি ঋণের টাকা অবৈধভাবে বিদেশে পাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংক তাদের ঋণের অর্থ উদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছে। খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যাংকগুলো ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করে ‘নো উইন, নো ফি’ শর্তে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করেছে। এসব আইনি প্রতিষ্ঠান অভিযুক্ত ঋণখেলাপিদের নামে বিদেশে থাকা অর্থ-সম্পদ চিহ্নিতকরণ এবং তা ফেরত আনার বিষয়ে ব্যাংকসমূহকে আইনি সহায়তা দেবে। প্রথম পর্যায়ে ছয়টি কেইস (সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম, বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন গ্রুপ) নিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরে আরও সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জামালপুর-৩ আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল ৭৮ হাজার ২৩৩ দশমিক ৪৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে কনসেশনাল ও নন-কনসেশনাল ঋণের অনুপাত যথাক্রমে ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ ও ৩৮ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।
ময়মনসিংহ-৮ আসনের লুৎফুল্লাহেল মাজেদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাজস্ব প্রদানকারী নিবন্ধিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৬। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই সংখ্যা ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়েছে।
গাইবান্ধা-৪ আসনের মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের আওতায় চলতি অর্থবছরে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে দেশের ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৪৩১ জন কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
সংরক্ষিত নারী আসনের মোসাম্মত শাম্মী আক্তারের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যেসব ব্যাংক অর্থসংকটের কারণে গ্রাহকের সঞ্চিত অর্থ ফেরত দিতে পারছে না, তাদের গ্রাহকদের অর্থ প্রদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জরুরি তারল্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। জরুরি তারল্যসহায়তা হিসেবে ১৫ জুন পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের আমিরুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ৬৩টি ব্যাংক তাদের ১১ হাজার ৩২৬টি শাখা ও ৪ হাজার ৯২৯টি উপশাখার মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৯০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা (৭৫.৩০ শতাংশ)।
সরকারি ও বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য একীভূত পাঁচ ইসলামি ব্যাংক নিয়ে পৃথক প্রশ্ন করেন। এসব প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ পিএলসি বা এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ও ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসিকে ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম, ২০২৫-এর আওতায় নেওয়া হয়েছে। রেজল্যুশনের আওতায় থাকা এই পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী ওই পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা করে পরিশোধ করা হচ্ছে।
বর্তমানে আরও যেসব ব্যাংক তারল্যসংকটে রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ কাজ করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন হলে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর আওতায় সুরক্ষিত আমানতের সীমা এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবে আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে ইতিমধ্যে ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রাহকের অর্থ দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক জরুরি তারল্যসহায়তা দিয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত জরুরি তারল্যসহায়তা হিসেবে ব্যাংকগুলোকে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, মুদিদোকান, বিউটি পারলারসহ বেশ কয়েক ধরনের ব্যবসায়িক খাতকে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, মুদিদোকান, বিউটি পারলারসহ যেসব ব্যবসায়ী খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, তা হলো—তৈরি পোশাক বা কাপড়ের বিক্রেতা, কনফেকশনারি, কসমেটিকসের দোকান, প্লাস্টিকের ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্য, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা, ডেকোরেটরস, মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্যের বিক্রেতা, পেইন্ট ও হার্ডওয়্যার এবং স্যানিটারি ও ফিটিংস, টাইলসের দোকান, ঢেউটিনের দোকান, রড ও সিমেন্ট, ফার্নিচার, মিষ্টান্ন ভান্ডার ও রেস্টুরেন্ট। বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভ্যাট বাবদ ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট খেলাপি ঋণের অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ-সম্পদ পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংকের অর্থ উদ্ধারে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে...
১ ঘণ্টা আগে
দেশের শীর্ষ চার মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন, টেলিটক, রবি ও বাংলালিংকের কাছে সরকারের প্রায় ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম...
৩ ঘণ্টা আগে
রেজল্যুশনের আওতায় নেওয়া পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীরা কবে, কতটুকু ও কোন শর্তে টাকা ফেরত পাবেন, তা নিয়ে সংসদের প্রশ্নোত্তরে একাধিক সংসদ সদস্যের উদ্বেগ উঠে এসেছে।
৪ ঘণ্টা আগে
মুদিদোকান, বিউটি পারলারসহ বেশ কয়েক ধরনের ব্যবসায়িক খাতকে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
৬ ঘণ্টা আগে