বিদেশি ঋণের নতুন ছাড় ও প্রতিশ্রুতি কমছে। কিন্তু পুরোনো ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের চাপ দ্রুত বাড়ছে। বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের ঋণ শোধ এখন শুরু হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং সংস্কার কার্যক্রমে শ্লথ অগ্রগতির কারণে উন্নয়ন সহযোগীরাও এখন অনেক বেশি সতর্ক। ফলে নতুন ঋণ আসার গতি কমলেও পুরোনো ঋণের দায় বাড়তেই থাকছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। গতকাল রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বিদেশি ঋণের কিস্তি ও সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৩৮০ কোটি ২৩ লাখ ডলার। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৪৬ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৩৫০ কোটি ৭১ লাখ ৭০ হাজার ডলার বা প্রায় ৪২ হাজার ২৮২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে মোট পরিশোধিত অর্থের মধ্যে মূল ঋণ শোধ করা হয়েছে ২৪৬ কোটি ৭৮ লাখ ১০ হাজার ডলার। আর সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১৩৩ কোটি ৪৪ লাখ ৯০ হাজার ডলার। দেশীয় মুদ্রায় মূল ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ৩০ হাজার ১৫৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অন্যদিকে শুধু সুদ পরিশোধেই গেছে ১৬ হাজার ৩০৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ এখন ঋণের আসল টাকার পাশাপাশি সুদের চাপও বড় হয়ে উঠছে।
অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, কয়েক বছর আগে নেওয়া বড় বড় প্রকল্পের ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে আসছে। ফলে এখন নিয়মিত কিস্তি ও সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয় বৃদ্ধি। অনেক প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় ঋণের বোঝা আরও বেড়েছে।
জানতে চাইলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অনেক প্রকল্পে সময় ও ব্যয় দুটোই বেড়েছে। এতে ঋণের চাপও বাড়ছে। তিনি বলেন, এখন বিদেশি ঋণের শর্তও আগের চেয়ে ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। উন্নয়ন সহযোগীরা অর্থ ছাড়ের আগে সংস্কার, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই ঋণের অর্থ কার্যকরভাবে ব্যবহার করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
অন্যদিকে নতুন ঋণ ছাড়ের প্রবণতাও উদ্বেগজনক কমে গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বৈদেশিক ঋণ ছাড় হয়েছে ৪২৩ কোটি ৬২ লাখ ডলার। অথচ এই সময়ে ছাড় হওয়ার কথা ছিল ৭৮৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ছাড় কমেছে ৪৬ দশমিক ১৬ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছাড় হয়েছিল ৫১৬ কোটি ৩৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরে ঋণ ছাড় কমেছে ৯৩ কোটি ডলার।
নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতিও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে নতুন প্রতিশ্রুতি এসেছে ২৮০ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪২৫ কোটি ৯৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরে নতুন প্রতিশ্রুতি কমেছে প্রায় ১৪৫ কোটি ডলার।
ইআরডির তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরে ঋণ ছাড়ের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে ইউরোপীয় উৎস থেকে। এর পরিমাণ ১০৭ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক দিয়েছে ৮৩ কোটি ৮১ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দিয়েছে ৭১ কোটি ৬ লাখ ডলার। অন্যদিকে নতুন প্রতিশ্রুতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে এডিবি থেকে, যার পরিমাণ ১২৬ কোটি ৯৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের আইডিএ থেকে এসেছে ৪১ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং চীন থেকে এসেছে ২৩ কোটি ৫৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
তবে বড় উন্নয়ন সহযোগীদের অনেকে নতুন প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ইআরডির কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এআইআইবি, জাপান, ভারত ও রাশিয়া থেকে নতুন কোনো ঋণ প্রতিশ্রুতি আসেনি।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ডলারের সংকট, আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে অনেক প্রকল্পে ঋণ ছাড় কমে গেছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগীরাও এখন ঋণ ছাড়ের আগে সংস্কার ও সুশাসনের বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

এনআরবিসি ব্যাংকে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসারদের (এমটিও) তিন সপ্তাহব্যাপী বনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া...
৪ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে লেখা ওই বার্তায় বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারা...
৫ ঘণ্টা আগে
বর্ণিল আয়োজনের মধ্য শেষ হলো দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত সনি-স্মার্ট মুভি ম্যারাথন-২০২৬। শনিবার (২৩ মে) রাতে রাজধানীর উত্তরায় সনি-স্মার্ট শোরুমে আয়োজিত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব মুখর ছিল বিভিন্ন রাউন্ডে বিজয়ী আটজন প্রতিযোগী, বিচারক আর আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে...
৬ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোয় রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিং সক্ষমতা আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ধারাবাহিক উদ্যোগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যগামী রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিংয়ে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন ডগ (ইডিডি) পদ্ধতির...
৭ ঘণ্টা আগে