
ইউরোপের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি প্রতিযোগিতার দৌড়ে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ার আভাস মিলছে বাংলাদেশের। বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব সব রপ্তানিকারক দেশের ওপর পড়লেও, বাংলাদেশে প্রভাব একটু বেশি। বিশেষ করে ইইউর বাজারে অন্যতম প্রতিযোগী চীন ও ভিয়েতনামের তুলনায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ছন্দপতন উল্লেখ করার মতো। রপ্তানি আয় কমার পাশাপাশি কমেছে রপ্তানির পরিমাণ এবং প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্যও। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আগের তুলনায় আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৯ দশমিক ২৬ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে আগের রপ্তানি আয় ৫৬৮ কোটি ৭১ লাখ ইউরো থেকে কমে ৪৫৯ কোটি ১৬ লাখ ইউরোতে নেমে এসেছে। অথচ একই সময়ে চীনের রপ্তানি কমেছে মাত্র ৭ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের মাত্র ২ দশমিক ১২ শতাংশ।
শুধু রপ্তানি আয় কমেনি, কমেছে পোশাকের দামও। তিন মাসে প্রতি কেজি পোশাকের গড় রপ্তানি মূল্য ১৫ দশমিক ৭১ ইউরো থেকে কমে ১৩ দশমিক ৮৪ ইউরোতে নেমেছে, অর্থাৎ প্রতি কেজি পোশাকের গড় রপ্তানি মূল্য প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে ভিয়েতনাম একই সময়ে আরও বেশি দামে পোশাক বিক্রি করতে পেরেছে। দেশটির রপ্তানি করা পোশাকের একক মূল্য ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ বাড়িয়ে ২৯ দশমিক ৩৫ ইউরোতে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চমূল্যের এবং বেশি মূল্য সংযোজিত পণ্য রপ্তানির সক্ষমতাই ভিয়েতনামকে বাজারে তুলনামূলক শক্ত অবস্থানে রেখেছে।
রপ্তানির পরিমাণের দিক থেকেও পিছিয়েছে বাংলাদেশ। জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। সেই তুলনায় চীনের রপ্তানির পরিমাণ কমেছে মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ।
শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক চাহিদার দুর্বলতা, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তাদের ব্যয়সংকোচন পোশাক খাতকে প্রভাবিত করছে। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কসংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে অনেক সরবরাহকারী ইউরোপমুখী হওয়ায় প্রতিযোগিতা আরও বেড়েছে। এতে দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে মোস্তফা গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক তাইমুর রহমান বলেন, ইউরোপীয় বাজারে বর্তমানে প্রতিযোগিতা আগের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে ক্রেতাদের ধরে রাখতে সরবরাহকারীদের মধ্যে মূল্য প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক সহসভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক সংঘাত, মূল্যস্ফীতি এবং খুচরা বাজারে উচ্চমূল্যের কারণে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। পাশাপাশি প্রতিযোগী দেশগুলো বিভিন্ন নীতি সহায়তা এবং প্রণোদনা পেলেও বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা তুলনামূলক কম সুবিধা পাচ্ছেন।
এদিকে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৭৩৬ কোটি ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৪ কোটি ডলার কম।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক আলমগীর হোসেন জানান, অর্থবছরের শুরুতে রপ্তানি পরিস্থিতি বেশি দুর্বল ছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চাহিদা কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার যে ইঙ্গিত মিলছে, তা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

তীব্র গ্যাস সংকট, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং কাঁচামাল সংকটে চট্টগ্রামের তিনটিসহ দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি সার কারখানাই বন্ধ রয়েছে। শুধু একটি কারখানা উৎপাদনে রয়েছে। এতে সামনের আমন মৌসুমে সারের সরবরাহ নিয়ে কৃষকসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে সেখান থেকে সার...
১ ঘণ্টা আগে
বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা, একচেটিয়া ব্যবসা ও যোগসাজশ ঠেকানো এবং প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের (বিসিসি)। অথচ সেই কমিশনেরই গত দুই অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার পরও ব্যাংক খাতে ঋণ ও আমানতের গড় সুদহারের ব্যবধান বা স্প্রেড কমেনি। বরং জুন শেষে ব্যাংক খাতের গড় স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ৪ শতাংশ সীমার চেয়ে ১ দশমিক ৭০ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। কোনো কোনো বিদেশি ব্যাংকে এ ব্যবধান ৮ শতাংশের বেশি।
২ ঘণ্টা আগে
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সারা দেশের গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি ৪ হাজার ৯৬৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে...
৭ ঘণ্টা আগে