
বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা, একচেটিয়া ব্যবসা ও যোগসাজশ ঠেকানো এবং প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের (বিসিসি)। অথচ সেই কমিশনেরই গত দুই অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
কমিশনের নিজস্ব ওয়েবসাইটের বার্ষিক প্রতিবেদন তালিকায় সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি ২০২২-২৩ অর্থবছরের। সেটিও প্রকাশ করা হয়েছিল ২০২৪ সালের ২০ মে। এরপর ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫; এই দুই অর্থবছরের কোনো বার্ষিক প্রতিবেদন তালিকাভুক্ত হয়নি। অর্থাৎ, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত কমিশনের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ দৃশ্যমান বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২২-২৩ অর্থবছরের। ওয়েবসাইটটি ২০২৬ সালের মে মাসে হালনাগাদ করা হলেও বার্ষিক প্রতিবেদন অংশে নতুন কোনো প্রতিবেদন যুক্ত হয়নি।
বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক রীতি নয়, এর সঙ্গে সরাসরি আইনি বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর ধারা ৩৯ অনুযায়ী, প্রতিটি অর্থবছর শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে কমিশনকে ওই অর্থবছরে তার কার্যাবলি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করতে হবে। পরে রাষ্ট্রপতি প্রতিবেদনটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করবেন। আইনের এই বিধান অনুযায়ী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রতিবেদন ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রতিবেদন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এবং সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রতিবেদন আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করার কথা। এরপর তা সংসদে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া হওয়ার কথা। কিন্তু কমিশনের ওয়েবসাইটের প্রকাশিত তালিকায় ওই দুই অর্থবছরের প্রতিবেদন নেই। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় নির্ধারিত সময় আগামী সেপ্টেম্বর মাস।
সংশ্লষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বার্ষিক প্রতিবেদন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক নথি নয়, প্রতিযোগিতা কমিশনের মতো একটি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এটি প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা, কার্যকারিতা ও জবাবদিহির অন্যতম প্রধান দলিল। কোন বাজারে কী ধরনের সমস্যা শনাক্ত হয়েছে, কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়িক আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তদন্ত কত দূর এগিয়েছে, বাজার সমীক্ষার সুপারিশ কী, কমিশনের বাজেট কত ছিল এবং কত টাকা ব্যয় হয়েছে—এসবের সমন্বিত হিসাব বার্ষিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে নাগরিকদের সামনে আসার কথা। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, গত দুই অর্থবছরে কমিশন কী কী কাজ করেছে, কতগুলো অভিযোগ পেয়েছে, কতগুলো তদন্ত করেছে, কতগুলো মামলার নিষ্পত্তি করেছে, কোথায় প্রতিযোগিতাবিরোধী আচরণ শনাক্ত করেছে বা এসব বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই তথ্য মানুষ পাবে কীভাবে। এতে সাধারণ ভোক্তারা প্রতিনিয়ত বাজারে গিয়ে নাজেহাল হচ্ছেন।
প্রতিযোগিতা কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন গত দুই বছর কেন প্রকাশিত হয়নি, সে বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, এটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন আছে এবং দ্রুতই প্রকাশ করা হবে। বিলম্বের কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁরা প্রতিবেদনটি নতুন আঙ্গিকে তৈরি করছেন এবং আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের দিকে চলে যাওয়ায় এটি গুছিয়ে নিতে কিছুটা সময় লেগেছে।
তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রতিবেদনটি সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ড্রাফটও প্রস্তুত আছে, যা এক মাসের মধ্যে শেষ হবে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রতিবেদনটি অক্টোবর নাগাদ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাজারে প্রতিযোগিতার আইন ভঙ্গ হলে বা কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে কমিশন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিশন অনেক সময় স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করে থাকে। কর্মকর্তা স্পষ্ট করেন, তাঁদের কাজ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মতো নয়, যেখানে তাৎক্ষণিক জরিমানা করা হয়। এটি একটি আধা বিচারিক প্রক্রিয়া, যেখানে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে মামলা হয়, উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করা হয় এবং এরপর রায় দেওয়া হয়।
কমিশনের সর্বশেষ প্রকাশিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ ২০ মে ২০২৪। অর্থাৎ অর্থবছর শেষ হওয়ার প্রায় ১১ মাস পর সেটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। তবে ওই প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে হস্তান্তরের প্রমাণ পাওয়া যায়, ২০২৪ সালের ৯ মে তৎকালীন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির কাছে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছিলেন। এরপরে আর সেই নজির নেই।
বিশ্লেষকেরা বলেন, প্রতিযোগিতা কমিশনের কাজ হচ্ছে বাজারে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা আছে, সেগুলোর দূর করার পাশাপাশি প্রতিযোগিতা উৎসাহিত করা। ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাও তাদের কাজ। বাজারে কোথায় ও কীভাবে প্রতিযোগিতা বিনষ্ট হচ্ছে বা একচেটিয়া তৈরি হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে আইনি উদ্যোগ নিতে হবে এই কমিশনকে। ব্যবসায়ীদের জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
অভিযোগ আছে, কমিশন ঠিকঠাক কাজ করে না বলেই বাজারে সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাজারে পণ্য সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে তারা চাইলেই যেকোনো সময় যেকোনো পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ডিমের ক্ষেত্রে তা দেখা গেছে। এ ছাড়া সাত নিত্যপণ্যের বাজারেও দেখা যায় হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানির আধিপত্য।
এই প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক মুস্তফা কে মুজেরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রতিযোগিতা কমিশনের মতো একটি সংস্থার দায়বদ্ধতা এবং জবাবদিহি থাকা অত্যন্ত জরুরি। যদি তারা তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন না করে, তবে এই ধরনের সংস্থার অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তোলা উচিত। তিনি আরও বলেন, বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখা এবং কোনো সংস্থা অন্যায়ভাবে পণ্যের মূল্য প্রভাবিত করছে কি না, তা তদারক করাও অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে কি না, বাজারে তার প্রভাব দেখা যায় না। কমিশন যদি তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তবে তারা কার কাছে জবাবদিহি করবে এবং তাদের তদারকির দায়িত্বে যাঁরা আছেন, তাঁরাও তাঁদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, বাজারে যখন গুটিকয়েক কোম্পানির আধিপত্য দেখা যায়, তখন বোঝা যায়, প্রতিযোগিতা কমিশন সঠিকভাবে কাজ করছে না। এর ফলে সাধারণ ভোক্তারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
৪-৫টি বড় কোম্পানির আধিপত্য ভেঙে বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করার যে উদ্দেশ্যে এই প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়েছিল, তা কতটুকু কার্যকর আছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে উল্লেখ করে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরিতে তাদের কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা পাওয়া যায় না। তারা শুধু রুটিন ওয়ার্কের কথাই মুখে বলে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রতিবেদন প্রকাশের কথা বললেও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।’ বর্তমান কমিশনের কর্মকর্তাদের বিষয়ে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ থাকায় প্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠনের জন্য ক্যাবের পক্ষ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে বলেও জানিয়ে তিনি বলেন, ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণের স্বার্থে সঠিকভাবে কাজ করবে, এমন কমিশন গঠন করতে হবে।

তীব্র গ্যাস সংকট, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং কাঁচামাল সংকটে চট্টগ্রামের তিনটিসহ দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি সার কারখানাই বন্ধ রয়েছে। শুধু একটি কারখানা উৎপাদনে রয়েছে। এতে সামনের আমন মৌসুমে সারের সরবরাহ নিয়ে কৃষকসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে সেখান থেকে সার...
১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার পরও ব্যাংক খাতে ঋণ ও আমানতের গড় সুদহারের ব্যবধান বা স্প্রেড কমেনি। বরং জুন শেষে ব্যাংক খাতের গড় স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ৪ শতাংশ সীমার চেয়ে ১ দশমিক ৭০ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। কোনো কোনো বিদেশি ব্যাংকে এ ব্যবধান ৮ শতাংশের বেশি।
২ ঘণ্টা আগে
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সারা দেশের গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি ৪ হাজার ৯৬৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে...
৭ ঘণ্টা আগে
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৮৪৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
১০ ঘণ্টা আগে